রাঙ্গুনিয়ায় চেম্বার না করার অঙ্গীকার ‘দুই চিকিৎসকের’

এমবিবিএস নয়, অল্টারনেটিভ মেডিসিন সার্টিফিকেট

রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি

বৃহস্পতিবার , ২৪ মে, ২০১৮ at ১২:২৩ অপরাহ্ণ
376

রাঙ্গুনিয়ার চন্দ্রঘোনা লিচুবাগান এলাকায় চেম্বার খুলে ১২ বছর ধরে চোখের ডাক্তার হিসেবে সাধারণ মানুষকে ব্যবস্থাপত্র দিয়ে আসছেন সঞ্জয় কুমার নাথ নামের একজন ‘চিকিৎসক’। সাইনবোর্ড, ভিজিটিং কার্ড ও ব্যবস্থাপত্রে নিজের অর্জিত ডিগ্রি হিসেবে এমবিবিএস, চক্ষু বিশেষজ্ঞ ও সার্জন উল্লেখ করা হলেও তিনি দেশের কোনো মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাশ করেন নি। চক্ষু বিশেষজ্ঞ ও সার্জন বিষয়েও তার নেই কোনো সনদ। তবে অল্টারনেটিভ মেডিসিন নামে সার্টিফিকেট রয়েছে বলে দাবি তার। এসব সার্টিফিকেটকে তিনি দাবি করছেন এমবিবিএস’র অনুরূপ সনদ হিসেবে। কথিত ডা. সঞ্জয় কুমার নাথ লিচুবাগানে ফরচুন অপটিকসে রোগী দেখেন প্রতি মঙ্গল ও শুক্রবার। একইভাবে চন্দ্রঘোনা দোভাষি বাজারের নাহার মেডিকেল হলে গত কয়েক মাস ধরে চেম্বার খুলে বসেছেন ডা. মোরশেদুল আলম নামে কথিত আরেক চিকিৎসক। চেম্বারের সাইনবোর্ড ও ব্যবস্থাপত্রে তিনিও নিজেকে এমবিবিএস, ডিএমইউ, এমডি, মেডিসিন, শিশু, বাত ব্যথা রোগের অভিজ্ঞ বলে উল্লেখ করেছেন। কিন্তু বাংলাদেশ সরকারের স্বীকৃত কোনো মেডিকেল কলেজ থেকে তিনি পাস করেন নি। তারা দু’জনে রাঙ্গুনিয়ার ব্যস্ততম বাণিজ্যিক কেন্দ্র চন্দ্রঘোনা লিচুবাগান ও দোভাষি বাজারে চেম্বার খুলে সাধারণ মানুষকে চিকিৎসা দিয়ে গেলেও কেউ জানেন না তারা কোথায় থেকে পাস করেছেন বা আদৌ পাস করেছেন কিনা। তবে তাদের দু’জনের বিএমডিসির রেজিস্ট্রেশন ও চেম্বার করার অনুমতি নেই বলে জানিয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা। গত মঙ্গলবার দুপুরে কথিত এই দুই চিকিৎসকের চেম্বারে অভিযান চালান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামাল হোসেনের পরিচালনাধীন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এসময় তাদের দুজনকে চিকিৎসা সেবা প্রদানের বৈধতার কাগজপত্রসহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়। দুই চিকিৎসকের চেম্বারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের খবরে উপস্থিত রোগীরাও হতভম্ব হয়ে পড়েন।

আদালত সূত্র জানায়, তাদের কাগজপত্র যাচাই বাছাই করে দেখা যায়, তারা দুজনেই বিএমডিসি’র রেজিস্ট্রেশন সনদধারী নন। তারা কোনো মেডিকেল কলেজ থেকেও এমবিবিএস পাস করেন নি। কলকাতার একটি প্রতিষ্ঠানে পড়ালেখা করে ডিগ্রি অর্জন করেছেন বলে তারা আদালতকে জানিয়েছেন। তাদেরটা অল্টারনেটিভ মেডিসিন সার্টিফিকেট দাবি করে তারা বিএমডিসির রেজিস্ট্রেশনের জন্য হাইকোর্টে করা একটি রিটের আদেশ দেখান।

ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, যেহেতু তাদের এমবিবিএস ডিগ্রি নিয়ে প্রশ্ন আছে, বিএমডিসির রেজিস্ট্রেশন নেই এবং এলাকাবাসীর অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে, তাই তাদেরকে রাঙ্গুনিয়ার কোথাও চেম্বার খুলে সাধারণ রোগীদের ব্যবস্থাপত্র দিতে নিষেধ করা হয়েছে এবং তাদের সনদ ও হাইকোর্টের অর্ডারের যাচাই বাছাই সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তারা রাঙ্গুনিয়ার কোথাও চেম্বার করবেন না বলে অঙ্গীকার করেছেন। রাঙ্গুনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মোমিনুর রহমান জানান, ভুয়া ডাক্তারি সনদে চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন এলাকাবাসীর এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে দোভাষি বাজারে চেম্বার খুলে বসা ডা. মোরশেদ আলমকে তার ডাক্তারি সনদের মূল কপি, বিএমডিসি রেজিস্ট্রেশনের মূল কপিসহ গত ৬ এপ্রিল সকাল ১১টায় রাঙ্গুনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গঠিত বোর্ডে উপস্থিত হতে নোটিশ দেয়া হয়। কিন্তু তিনি নির্ধারিত সময়ে না এসে এক সপ্তাহ সময় বৃদ্ধির আবেদন করেন। এ ব্যাপারে ডা. মোরশেদুল আলম সময় বৃদ্ধির আবেদনের কথা জানিয়ে বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে একটি উকিল নোটিশ পাঠিয়েছি। তার সনদে ত্রুটি না থাকলে বোর্ডের সামনে হাজির না হয়ে কেন উকিল নোটিশ পাঠালেন এমন প্রশ্নের কোনো সদুত্তর দিতে পারেন নি তিনি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, দুই চিকিৎসকের কাগজপত্র দেখতে চাইলে তারা প্রয়োজনীয় কাগজের নোটারি ও ছায়ালিপি ছাড়া মূল কাগজপত্র দেখাতে পারেন নি। সনদ ও কাগজপত্র আদালতের সন্দেহ হলে এসব কাগজপত্র পরীক্ষানিরীক্ষার জন্য সময় দেয়া হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের কাছে তারা কাগজপত্রের বৈধতা প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত রাঙ্গুনিয়ায় চেম্বার না করার অঙ্গীকার করেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বিশ্বজিৎ মহাজন বলেন, বাংলাদেশ মেডিক্যাল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) থেকে দুই চিকিৎসকের চেম্বার করার কোনো অনুমোদন নেই। তাদের চিকিৎসা সনদের বৈধতা নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ আছে।

x