রাখাইনে নতুন গণকবরের খবর অস্বীকার মিয়ানমারের

রবিবার , ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ at ৫:১৫ পূর্বাহ্ণ
132

রাখাইনের রোহিঙ্গা অধ্যুষিত গু দার পাইন গ্রামে গণকবরের কথা অস্বীকার করেছে মিয়ানমার। গত বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) রাখাইনের গু দার পাইন গ্রামে পাঁচটির বেশি গণকবরের সন্ধান পাওয়ার খবর প্রচার করেছিল। মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নিপীড়নের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সাক্ষাৎকার এবং তাদের সরবরাহ করা সময়চিহ্নিত মোবাইল ফোন ভিডিও’র ভিত্তিতে গণকবরের সম্পর্কিত ওই প্রতিবেদন প্রকাশ করে এপি। এপির খবর প্রকাশের দিনই যুক্তরাষ্ট্র ও জাতিসংঘ এ বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হিদার নুয়ার্ট বলেন, “আমরা গণকবরের খবরে খুবই উদ্বিগ্ন। আমরা ঘটনাটি খুবই সতর্কতার সঙ্গে নজরে রাখছি। মানবাধিকারের অপব্যবহার ও তা লঙ্ঘনে জড়িতদের বিচারের মুখোমুখি করতে সহযোগিতা করাই আমাদের লক্ষ্য।” পরদিন অং সান সু চির দপ্তর সংশ্লিষ্ট একটি সরকারি তথ্য কমিটি তাদের ফেইসবুক পাতায় দেওয়া এক বিবৃতিতে নতুন গণকবরের কথা অস্বীকার করে বলে জানায় বার্তা সংস্থা রয়টার্স। খবর বিডিনিউজের।

বিবৃতিতে বলা হয়, “স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও নিরাপত্তা কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ে তদন্ত করেও গু দার পাইন গ্রামে কোনো গণকবরের অস্তিত্ব পায়নি। মাঠপর্যায়ের দলটি এপির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা স্থানে গিয়ে খবরের সত্যতা পায়নি। তারা স্থানীয় বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তি ও গ্রামবাসীদের সঙ্গেও দেখা করে গণহত্যার কথা জিজ্ঞেস করে। গ্রামবাসীরা জানায়, সেখানে কোনো গণহত্যা হয়নি।” এদিকে মিয়ানমার অস্বীকার করলেও এপি এখনও গণকবর সম্পর্কিত প্রতিবেদনের পক্ষেই আছে বলে সংবাদ মাধ্যমটির জনসংযোগ বিভাগের পরিচালক লরেন ইস্টন জানিয়েছেন। রয়টার্স থেকে এপি’র খবরের সত্যতা যাচাই করা হয়। রয়টার্স গু দার পাইনের দুই বাসিন্দার সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগ করলে তারা সেখানে গণকবর আছে বলে জানায়। বাংলাদেশের কক্সবাজারের বালুখালি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আশ্রয় নেওয়া শরণার্থীরাই রয়টার্সের প্রতিবেদককে গু দার পাইনের ওই দুই বাসিন্দার ফোন নম্বর দেয়। টেলিফোনে তারা রয়টার্সের সঙ্গে কথা বললেও নিজেদের নাম পরিচয় প্রকাশ করতে রাজি হননি।

x