রাউজানে বিপুল অস্ত্রসহ আলম ডাকাত গ্রেপ্তার

পুলিশকে ছুরিকাঘাত ও গুলি

রাউজান প্রতিনিধি

বৃহস্পতিবার , ২১ নভেম্বর, ২০১৯ at ৩:৪৫ পূর্বাহ্ণ
37

রাউজানে রাবার বাগানে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অস্ত্রসহ আলম ডাকাতকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত মঙ্গলবার রাতে ওসি কেপায়েত উল্লাহর নেতৃত্বে এই অভিযান চালানো হয়। অভিযানকালে আলম ডাকাত ওসিকে ছুরিকাঘাত করে। এসময় তার ডানহাতের আঙ্গুল কেটে যায়। এছাড়া ডাকাতদলের ছোঁড়া গুলিতে এসআই সাইমুল ও কনস্টেবল কামাল আহত হন। পুলিশও পাল্টা কয়েক রাউন্ড গুলি ছোঁড়ে। গতকাল বুধবার রাউজান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জোনায়েদ কবির সোহাগ পৌর কাউন্সিলর জমির উদ্দিন ও রাউজান ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বিএম জসিম উদ্দিন হিরুকে সাথে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
রাউজান থানার ওসি কেপায়েত উল্লাহ জানান, রাঙামাটি সড়কের রাবার বাগান অফিস থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দক্ষিণে গভীর জঙ্গলে ঘোড়া সামছুর টিলায় পরিত্যক্ত কয়েকটি ঝুপড়ি ঘর রয়েছে। গোপন সংবাদ আসে, সেখানে ডাকাতদল দেশিয় তৈরি অস্ত্র মজুত করে ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাদের পরিকল্পনা করছে। পরে সেখানে গভীর রাতে পুলিশ অভিযান চালায়। অভিযানের বিষয়টি টের পেয়ে ডাকাতদল পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে। এতে দুই পুলিশ আহত হন। এসময় পুলিশও পাল্টা গুলি চালালে তারা পালিয়ে যায়। তবে পালানোর সময় ডাকাত সর্দার আলমকে ধরতে গেলে সে ওসিকে ছুরিকাঘাত করে। এতে ওসির একটি আঙ্গুল কেটে যায়। তবে শেষ পর্যন্ত আলম ডাকাত ধরা পড়ে।
পুলিশ জানায়, আলমগীর প্রকাশ আলম রাউজান ইউনিয়নের পূর্ব রাউজান ছিদ্দিক চৌকিদার বাড়ির আবদুস সাত্তারের ছেলে। একসময় সে তার বাবার সাথে দিনমজুরের কাজ করত। তবে পরবর্তীতে সন্ত্রাসী জানে আলম ও বিধান বড়ুয়ার দলে যোগ দেয়। এরপর রাঙামাটি সড়কে বাস ডাকাতি শুরু করে। এছাড়া ২০০৪ সালে রাউজান পৌরসভার বর্তমান কাউন্সিলর জমির উদ্দিন পারভেজ ও তার ভাই আওয়ামী লীগ নেতা জসিম উদ্দিনের ওপর অতর্কিত গুলি চালিয়ে তাদের হত্যার চেষ্টা করে। ওই সময় চট্টগ্রামে জেলা পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর হোসেন মাতব্বর অভিযানে গেলে তার ওপরও হামলা চালায়। গত মাস দেড়েক আগে ১০ বছর জেল খেটে সে বের পায়। থানা সূত্র জানায়, তার নামে খুন, ডাকাতি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধে দেড় ডজন মামলা রয়েছে।
থানায় স্থানীয় সাংবাদিকরা আলমের কাছে জানতে চাইলে সে জানায়, জেলখানায় থাকাকালে তার সাথে অনেক অপরাধীর পরিচয় হয়। সেখানে ওইসব অপরাধী তাকে তাদের অস্ত্র কোথায় লুকিয়ে রেখেছে তা জানায়। পরে জেল থেকে ছাড়া পেয়ে তাদের লুকানো অস্ত্রগুলো সে সংগ্রহ করে। এরপর বিপুল অস্ত্রসহ পুলিশের হাতে ধরা পড়ে।
ওসি কেপায়েত উল্লাহ বলেন, তার কাছে আরো অস্ত্র থাকতে পারে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তিনি আরো জানান, তার কাছ থেকে শর্টগান সদৃশ ১০টি বন্দুক, গ্যাস গান সদৃশ ১টি অস্ত্র, পাইপ গান ৬টি, পুরাতন ম্যাগজিন ১টি, কার্তুজ ৭টি, কার্তুজের খোসা ৭টি, এক নলা বন্দুকের অংশ ৩টি, বন্দুকে কাঠের বাট ২৭টি, ছোট লেদ মেশিন ১টিসহ বিপুল পরিমাণ অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

x