রাউজানে তীব্র স্রোতে ছিন্নভিন্ন রাস্তাঘাট

রাউজান প্রতিনিধি

সোমবার , ১৫ জুলাই, ২০১৯ at ৯:৫৭ অপরাহ্ণ
80

এক সপ্তাহের টানা বৃষ্টি ও রাউজানের সর্তা ও ডাবুয়া খালের বাঁধ ভাঙ্গা পাহাড়ি ঢলের পানির স্রোতে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বহু রাস্তাঘাট বিধ্বস্ত হয়েছে।

বৃষ্টি বন্ধ হওয়ার পর পানি নামতে শুরু করলে রাস্তাগুলোর ছিন্নভিন্ন চেহারা এখন মানুষের দৃষ্টিগোচর হচ্ছে।

সরেজমিন পরিদর্শন করে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চিকদাইর, রাউজান সদর ইউনিয়ন, নোয়াজিশপুর, ডাবুয়া, হলদিয়া, উরকিরচর, বিনাজুরী, পশ্চিম গুজরা, নোয়াপাড়ার রাস্তাঘাট। পৌরসভার ২, ৩, ৪, ৫, ৬ ওয়ার্ডের বিভিন্ন রাস্তারও এই অবস্থা দেখা গেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, পশ্চিম ডাবুয়ার জাকেরিয়া চৌধুরী ঘাটার সাথে থাকা সর্তাখালের বাঁধ ভেঙ্গে হযরত আকবর শাহ সড়কটি ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে। সর্তাখালে পূর্বপাশ ঘেষে থাকা চিকদাইর-কালাচন্দ চৌধুরীহাট সড়কটির বেশির ভাগ অংশ খালের ভিতর ধসে পড়েছে।

চিকদাইর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রিয়তোষ চৌধুরী জানিয়েছেন, গত এক সপ্তাহ আগেও তার ইউনিয়নের বেশির ভাগ রাস্তা ভালো ছিল। কয়েকদিনের বর্ষায় পাহাড়ি পানির স্রোতে বেশির ভাগ রাস্তাঘাট ধসে গেছে। সর্বাধিক ক্ষতি হয়েছে রঘুনন্দন বাড়ি সড়ক, সাহেব বিবি সড়ক, মোহাম্মদ তকির সড়ক, আকবর শাহ সড়ক, মহেন্দ্র বাড়ি সড়ক, নীল কমল কবিরাজ সড়ক, পাঠানপাড়া সড়ক।

নোয়াজিশপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান লায়ন সরোয়াদ্দি সিকদার বলেছেন, ‘সর্তার খাল হয়ে আসা পাহাড়ি পানির তীব্র স্রোত সামলাতে না পেরে তার ইউনিয়নের মিলন মাস্টারের বাড়ির পাশে প্রায় ৫০ মিটার খালের পাড় ভেঙ্গে গেছে। ধসে গেছে ওই এলাকার বেশ কয়েকটি বাড়ি-ভিটা। এখন খালের ভিতর ধসে পড়ার অপেক্ষায় আছে আরো কয়েকটি বাড়িঘর।’ খালের বাঁধ ভেঙ্গে প্রবেশ করা পানির স্রোতে অদুদিয়া সড়কের বিভিন্ন অংশ ধসে গেছে বলে জানান তিনি।

রাউজান সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বিএম জসিম উদ্দিন হিরু বলেছেন, তার ইউনিয়নের পূর্বাংশের পাহাড় থেকে নেমে আসা বর্ষার পানির স্রোত পাহাড়তলী-রাউজান হাফেজ বজলুর রহমান সড়কের একটি অংশর্ ধসে নিয়ে গেছে। ধসে যাওয়া স্থানটি দিয়ে যাতে হাল্কা যানবাহন চলাচল করতে পারে সেদিকে লক্ষ্য রেখে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে প্রাথমিক সংষ্কার করে যানবাহন চলাচলের ব্যবস্থা করে দিয়েছি।’ এছাড়া ইউনিয়নের আরো কয়েকটি রাস্তার বিধ্বস্ত হয়েছে বলে জানান তিনি।

উরকিরচরের চেয়ারম্যান সৈয়দ আবদুল জব্বার সোহেল জানান, তার ইউনিয়নটি হালদা নদীর সাথেই অবস্থিত। নদীর পানির তীব্র স্রোতে উরকিরচর সড়কসহ বেশ কয়েকটি গ্রামীণ সড়ক বিধ্বস্ত হয়েছে।

উপজেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ভূমি(ভারপ্রাপ্ত ইউএনও) এহেছান মুরাদ জানিয়েছেন, পাহাড়ি ঢলের পানিতে সর্তা ও ডাবুয়া খালের বাঁধ ভেঙ্গে বহু রাস্তাঘাট বিধ্বস্ত হয়েছে। কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা জরিপ চলছে।

x