রাউজানে ছড়িয়ে পড়ছে গরুর লাম্পি স্কিন রোগ (ভিডিও দেখুন)

এ পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা সাড়ে তিন হাজার

মীর আসলাম, রাউজান

শুক্রবার , ২৯ নভেম্বর, ২০১৯ at ১০:২১ অপরাহ্ণ

রাউজানের বিভিন্ন গ্রামে ছড়িয়ে পড়ছে গরুর লাম্পি স্কিন রোগ (এলএসডি)।

গত প্রায় দুই মাস আগে কিছু গ্রামে গরুর শরীরে এ রোগের সংক্রমণ হতে দেখা গেলেও এখন ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে।

গরুর খামার ও গৃহস্থালীর লোকজন বলেছেন কোরবানি ঈদের আগে কিছু কিছু গ্রামে গৃহপালিত গরুর গায়ে ছোট ছোট টিউমার আকৃতির গুটি দেখা গেলেও কেউ গুরুত্ব সহকারে সেটি আমলে নেয়নি।

এখন অধিকাংশ গ্রামের বহু গরুর শরীরে এ ধরনের গুটি টিউমার ভেসে উঠতে দেখে সকলেই গরুর জীবন নিয়ে শংকার মধ্যে রয়েছে। গরুর মালিকদের মধ্যে অনেকেই বলেছেন গরুর শরীরে ভেসে ওঠা টিউমারগুলো ফোসকার মতো ফুলে উঠে এক সময় ফেটে যাচ্ছে। এতে ক্ষতের সৃষ্টি হয়ে দিন দিন গরুর শরীর দুর্বল হয়ে পা ফুলে যাচ্ছে। আক্রান্ত গরু এক পর্যায়ে মৃত্যুমুখে পতিত হচ্ছে ।

খবর নিয়ে জানা যায়, এ রোগের প্রাদুর্ভাব রাউজানের হলদিয়া, ডাবুয়া ও কদলপুর ইউনিয়নে বেশি হলেও উপজেলার প্রায় প্রতিটি ইউনিয়নে এর কমবেশি সংক্রমণ রয়েছে।

আক্রান্ত গরুর মালিকরা এ রোগ থেকে পরিত্রাণ পেতে পশু চিকিৎসকদের কাছে প্রতিদিন ছুটাছুটি করছেন।

ইতিমধ্যে বহু গরু উপজেলার বিভিন্ন স্থানে মারা যাওয়ার সংবাদও পাওয়া গেছে।

উপজেলা প্রাণী সম্পদ কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, রাউজানে এখন পর্যন্ত সাড়ে তিন হাজারের বেশি গরুর মধ্যে এ রোগ সংক্রমণের খবর পাওয়া গেছে।

প্রতিদিনই এলাকার মানুষ এ কার্যালয়ে আক্রান্ত পশুর চিকিৎসা দিতে আসছে।

পশু চিকিৎসকদের মতে যেসব এলাকায় গরু বিক্রির হাট বসানো আছে সেসব এলাকায় এ রোগের সংক্রমণ বেশি পাওয়া যাচ্ছে। ওসব হাট-বাজারে দেশের বাইর থেকে বিভিন্নভাবে নিয়ে আসা গরু প্রতিনিয়ত বিক্রি করা হয়।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় থেকে জানা যায়, উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার বিভিন্ন গ্রামে গরুর খামারির সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৩শ’।

এসব খামার ও গৃহস্থের পালিত গরুর সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার। এর মধ্যে প্রায় সাড়ে ৩ হাজারের বেশি গরু লাম্পি স্কিন রোগে আক্রান্ত হয়েছে।

রাউজান উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. মিজানুর রহমান এ রোগের প্রাদুর্ভাব প্রসঙ্গে বলেন, ‘রোগটির নাম লাম্পি স্কিন রোগ (এলএসডি)। সাধারণ ভাইরাসজনিত কারণে এ রোগে গরু-মহিষ আক্রান্ত হয়।’

তার মতে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে মশা-মাছি ও কীটপতঙ্গের মাধ্যমে গরুর শরীরে এ রোগের সংক্রমণ ঘটে। আক্রান্ত গরুর শরীরের তাপমাত্রা ১০৩-১০৫ ডিগ্রিতে বেড়ে যায়। গরু খাওয়া বন্ধ করে দেয়। শরীরে বসন্তের মতো গুটি ও চামড়া খসে পড়ে মাংসে ক্ষত সৃষ্টি হয়।

ডা. মিজানুর রহমান জানান, এ রোগের সুনির্দিষ্ট কোনো প্রতিষেধক এখনো আবিষ্কার হয়নি।

এ চিকিৎসক এ সংক্রমণ থেকে গৃহস্থের গরু রক্ষায় মশা-মাছিমুক্ত ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশে রাখার তাগিদ দিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে আসছেন বলে জানান।

তিনি জানান, এ ধরনের রোগ মূলত আফ্রিকায় বেশি। এ শীতে আরও ব্যাপক আকারে রোগটি ছড়ানোর আশঙ্কা রয়েছে।

দৈনিক আজাদী’র রাউজান প্রতিনিধি মীর আসলাম-এর ধারণ করা ভিডিওটি দেখতে ক্লিক করুন: https://www.facebook.com/DainikAzadi/videos/1010360869363378/

x