রাউজানে আমনের বাম্পার ফলন, কৃষকের মুখে হাসি

মীর আসলাম. রাউজান

বুধবার , ২৩ অক্টোবর, ২০১৯ at ১১:০৩ পূর্বাহ্ণ
14

রাউজানের উত্তরাংশের ইউনিয়ন সমূহের বিলে বিলে এখন সোনালী ধানের ঝিলিক। এই উপজেলার হলদিয়া,ডাবুয়া, চিকদাইর,গহিরা ও নোয়াজিশপুর ইউনিয়নের প্রতিটি ধান ক্ষেতে এখন কাঁচা- আধা পাকা ধান। সবুজ গাছ আর পাতার সাথে আধা পাকা সোনালী ধান দোল খেয়ে কৃষকদের মনে শিহরণ জাগাচ্ছে।

স্থানীয় কৃষকরা জানিয়েছে লাভ লোকসানের হিসাব না করে এবার যারা আমন চাষ করেছে তারা লাভবান হয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যে তারা এখন ক্ষেতে ধান কাটতে শুরু করতে পারবে।
মাঠ পর্যায়ে ঘুরে দেখা যায়, উত্তরের সব ধান ক্ষেত ফলে ফুলে ভরা। কৃষকদের মধ্যে যারা উৎপাদন খরচের ভয়ে মাঠে নামেনি তারা আমনের ফলন দেখে চাষাবাদে না নামায় আফসোস করছে। উত্তরের ইউনিয়ন সমূহের বিপরীত চিত্র দেখা গেছে উপজেলার দক্ষিণাংশের উরকিরচর,নোয়াপাড়া, পাহাড়তলী,পূর্বগুজরা,পশ্চিম গুজরা,পাহাড়তলী ইউনিয়নের বিল গুলোতে। এখনকার বেশির ভাগ বিলে কৃষকরা আমন চাষাবাদে না নামার কারণে প্রতিটি বিলে এখন আগাছায় পরিপূর্ণ। উপজেলার কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সঞ্জিব কুমার সুশীল বলেছেন এবার প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঘনঘটা তেমন ছিল না। সাহস করে কৃষকরা মাঠে চাষাবাদে নামায় লাভবান হয়েছে। তিনি জানান এবার আমন চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্র ছিল ১১ হাজার ২৭৬ হেক্টর। এর বিপরীতে চাষাবাদ হয়েছে ১১ হাজার ৪২০ হেক্টর। এরমধ্যে উপশী জাতের ১১ হাজার ২১০, হাইব্রিড ৮০ হেক্টর, ও স্থানীয় জাতের ১৯০ হেক্টর জমিতে আমন চাষাবাদ হয়েছে। এর বাইরে প্রতিটি ইউনিয়নে ব্যাপক হারে সবজি চাষ হয়েছে। যারা আমন চাষ করেনি তারা এখন মনোযোগি হয়েছে সবজি চাষের দিকে। কৃষি বিভাগের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাগণ বলেছেন এখন কৃষকরা রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমিয়ে দিয়েছে। কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুসরণ করে জৈব সার ব্যবহার করায় ফলন বেশি হয়েছে। পোকা দমনে কীটনাশকের পরিবর্তে ক্ষেতে বসানো হয়েছে পোকা মারার ফাঁদ। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন নিজস্ব ধ্যান ধারণায় স্থানীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করায় চাষাবাদেও কমেছে খরচ। কৃষি বিভাগের হিসাবে রাউজানে যে পরিমাণ আমন চাষাবাদ ও ফলন হয়েছে তা হিসাব কষলে দেখা যায় এই ধান থেকে চাল পাওয়া যাবে ৩৩ হাজার ১২৩ মেট্রিক টন ।

x