রহস্যময় নরকের দরোজা

আরিফ রায়হান

বুধবার , ১১ ডিসেম্বর, ২০১৯ at ৭:৫৬ পূর্বাহ্ণ

পৃথিবীর মধ্যে রয়েছে হরেক রকম বৈচিত্রময় প্রাণী, বিচিত্রময় স্থান এবং বস্তু। যেগুলোর অধিকাংশই রহস্যে ঘেরা। পৃথিবীতে মানুষ তার জানার পরিসর যত বাড়িয়েছে ঠিক ততই বেড়েছে রহস্যের ডালপালা। আমরা সবাই স্বর্গ এবং নরক এই দুটি শব্দের সাথে অধিক পরিচিত। স্বর্গ সেতো এক মহা শান্তির জায়গা আর নরক বা জাহান্নামের দরজা বলতেই ভয়ঙ্কর চিত্র ভেসে ওঠে। প্রায় সব ধর্মে স্বর্গ এবং নরকের কথা বলা আছে। যারা জীবদ্দশায় ভাল কাজ করে, তারা মৃত্যুর পর স্বর্গে যায়। আর যারা খারাপ কাজ করে, মৃত্যুর পর শাস্তি হিসেবে তাদের স্থান হয় নরকে। নরকের অগ্নিকুণ্ডের মধ্যে পাপী ব্যক্তিতে ফেলে দেওয়া হবে, আর সেখানে সেই ব্যক্তি জ্বলতে থাকবে অনন্তকাল। মৃত্যুর পর দেখা মিলবে নরকের। কিন্তু মৃত্যুও আগে কি নরকের দেখা পাওয়া সম্ভব? এটি সম্ভব না হলেও বিশ্বে এমন একটি জায়গা রয়েছে সেই জায়গায় দেখা মিলবে নরকের মতো একটি দরোজা। যে দরোজাটি খুঁজে পাওয়া যাবে তুর্কমেনিস্তানের ডর্ভজা নামক এলাকায়। আসলে এটি একটি গ্যাস জ্বালামুখ যেখানে নরকের মতো দাউদাউ করে আগুন জ্বলছে। কাকারুম মরুভূমির মাঝখানে অবস্থিত গ্যাসের এই জ্বালামুখকে স্থানীয় লোকজন নাম দিয়েছেন ‘ডোর অফ হেল’ অথবা ‘নরকের দরজা’। ভ্রমণবিলাসী মানুষদের জন্য এটি একটি বিস্ময়কর জায়গা।

নরকের দরজা কিংবা দ্যা ডোর অফ হেলের ব্যাস ৭০ ফুট এবং এটি প্রায় ২০ মিটার দীর্ঘ। রাতের বেলা আগুনের শিখাগুলো বেশ স্পষ্ট হয়। সেসময় দূর থেকে এই দৃশ্য বেশ ভয়ংকর লাগে। নরকের দরজার কাছাকাছি আগুনের উত্তাপ এত প্রচণ্ড যে সেখানে মানুষ পাঁচ মিনিটের বেশি সময় দাঁড়িয়ে থাকতে পারে না। দাউদাউ করে জ্বলতে থাকা এই নরকের দরজা প্রাকৃতিক কোনো গর্ত নয়। ১৯৭১ সালের আগেও এর কোনো অস্তিত্ব ছিল না। অন্যান্য মরুভূমির মতো এটিও কাকারুম মরুভূমির একটা অংশ ছিল। ১৯৭১ সালে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের এক অনুসন্ধানকারী দল প্রাকৃতিক গ্যাসের খোঁজে এখানে আসে। অনুসন্ধানের সময় গ্যাসভর্তি এই গুহায় মৃদু স্পর্শ করলে দুর্ঘটনাবশত মাটি ধসে পুরো ড্রিলিং রিগসহ পড়ে যায়। তবে এই দুর্ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি। প্রাথমিকভাবে গবেষণা করে বিষাক্ত মিথেন গ্যাসের ব্যাপারে গবেষকরা নিশ্চিত হন।

দুর্ঘটনার ফলে পরিবেশে বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে পড়ার একটা সম্ভাবনা দেখা যায়। এই বিষাক্ত গ্যাসের হাত থেকে পরিবেশকে রক্ষার জন্য ভূতত্ত্ববিদগণ গ্যাস উদগীরনের মুখটি জ্বালিয়ে রাখার সিদ্ধান্ত নেন। তাঁরা আশা করেছিলেন কিছুদিনের মধ্যে গ্যাস উদগীরন বন্ধ হবে। পরিবেশও ক্ষতির হাত থেকে বেঁচে যাবে। কিন্তু তেমনটা হয়নি।

অর্ধশত বছর ধরে এই অগ্নিমুখটি একাধারে জ্বলছে। এই গর্তে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে প্রাকৃতিক গ্যাস। গ্যাস মজুদে অবশ্য তুর্কেমেনিস্থানের অবস্থান বিশ্বে পঞ্চম। তাই হয়তো এত গ্যাস পুড়ে যাওয়ার পরেও খুব একটা উদ্বিগ্ন নয় তারা।

২০১০ সালের এপ্রিলে তুর্কমেনিস্তানের রাষ্ট্রপতি গ্যাসক্ষেত্রটি পরিদর্শন করে এটি বন্ধের কথা বলেন। তিনি বলেন, তা না হলে ওই এলাকার অন্যন্য প্রকৃতিক গ্যাস উত্তোলনের উপর এর প্রভাব পড়তে পারে।

এদিকে তুর্কমেনিস্থানের নরকের দরজা ছাড়াও পৃথিবীর আরো ছয়টি স্থানে নরকের মতো আগুন জ্বলে। এগুলো হলসেন্ট্রালিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, অর্কিড পার্ক, নিউইয়র্ক, স্মোকিং মাউন্টেইন, ঝাড়িয়া কয়লাক্ষেত্র, ভারত, গুয়ানজিলিং, তাইওয়ান, ইয়ানার ডাক ও আজারবাইজান।

x