রশীদ আল ফারুকী ছিলেন চিন্তাশীল ব্যক্তিত্ব

স্মারক বক্তৃতায় শামসুজ্জামান খান

শনিবার , ১৪ ডিসেম্বর, ২০১৯ at ৬:১৬ পূর্বাহ্ণ

মাত্র সাতচল্লিশ বছর বয়স। এত কম জীবন-পরিসরের একজন মানুষ একাগ্র সাধনায় কত বিচিত্র ও বহুমুখী চর্চায় নিজেকে বিশিষ্ট চিন্তাশীল ব্যক্তিত্বে পরিণত করে তুলতে পারেন তার নজির রশীদ আল ফারুকী। জীবন-দর্শন, মূল্যবোধ ও চিন্তাধারায় তিনি যা হয়ে উঠেছিলেন তা পারিবারিক ঐতিহ্যিক-শিক্ষা, সামাজিক পরিবেশ তার অনুকূল ছিল না। সেকালে বাঙালি মুসলিম সমাজে প্রচলিত মাদ্রাসা শিক্ষা লাভের ক্ষেত্রে ফারুকী পিতৃ-আদেশ অমান্য করেননি; তবে সে শিক্ষা সমাপনান্তে তার পরবর্তী চিন্তা-চেতনায় পূর্ব বাংলার ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন এবং ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের নির্বাচন তাকে নতুন জীবনবোধে উদ্দীপ্ত করে। ‘রশীদ আল ফারুকীর চিন্তার জগৎ : চকিত অবলোকন’ শিরোনামে রশীদ আল ফারুকী তৃতীয় স্মারক বক্তৃতা অনুষ্ঠানে লোক বিজ্ঞানী অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান এ কথা বলেন। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টায় নন্দনকাননস্থ ফুলকি এ কে খান স্মৃতি মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলাদেশ সাহিত্য পরিষদ।
ভাষা বিজ্ঞানী ড. মাহবুবুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সাহিত্য পরিষদের সভাপতি কবি জিন্নাহ চৌধুরী, বক্তব্য দেন মাহবুবুল হক চৌধুরী বাবর, আহম্মদ খসরু, শামসুজ্জামান খানের জীবনী পাঠ করেন অধ্যাপক মেহেদী হাসান, রশীদ আল ফারুকীর জীবনী পাঠ করেন মিনুমিত্র, তার রচনা থেকে পাঠ করেন আ ফ ম রবিউল হোসেন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সেলিম রেজা সাগর। শামসুজ্জামান খান বলেন, অধ্যাপক রশীদ আল ফারুকীর স্বপ্লায়ু জীবন ছিল। কিন্তু এই স্বল্পকাল স্থায়ী জীবনেও সামাজিক পরিবর্তন ও রূপান্তরকে তিনি তাঁর চিন্তা-চেতনার কেন্দ্রে স্থান দিয়ে সাহিত্য-সংস্কৃতিধর্মী ও সৃজনমুখী যেসব কাজ করে গেছেন তার পরিমাণ সামান্য নয়। প্রকৃতপক্ষে তিনি তাঁর জীবনটাকে নিজ হাতে গড়েপিঠে এক আধুনিক, প্রগতিশীল ও মানবিক রূপ দিয়েছিলেন। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

x