যে সব পরীক্ষার সম্মুখীন হতে হবে অভিনন্দনকে

শনিবার , ২ মার্চ, ২০১৯ at ৫:৪২ পূর্বাহ্ণ

ভারতের মাটিতে পা রাখার পরই পাইলট অভিনন্দনকে অমৃতসর এয়ারবেসে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার মেডিক্যাল চেকআপ হয়। এর আগে সীমান্তের পাকিস্তান অংশেও অভিনন্দনের ডাক্তারি পরীক্ষা হয়। আনন্দবাজার পত্রিকা জানিয়েছে, নিজ দেশে ফিরলেও সাথে সাথেই বাড়ি ফিরতে পারবেন না অভিনন্দন। এরপর তাকে বিমান বাহিনীর গোয়েন্দাদের কাছে নিয়ে যাওয়া হবে। বেশ কিছু ডাক্তারি পরীক্ষার মধ্য দিয়েও যেতে হবে অভিনন্দনকে। দেখা হবে তিনি ফিট কিনা। বন্দিদের শরীরে অনেকসময় মাইক্রোচিপ ঢুকিয়ে দেওয়া হয়, যার মাধ্যমে আড়ি পেতে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হাতিয়ে নেয় প্রতিপক্ষ। অভিনন্দনের শরীরে সেরকম কোনও চিপ বসানো হয়েছে কিনা, তা স্ক্যান কেরে দেখা হবে। মনোবিদের কাছেও নিয়ে যাওয়া হবে অভিনন্দনকে। বন্দি থাকা অবস্থায় ভারতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সংক্রান্ত তথ্য হাতাতে তাকে অত্যাচার করা হয়েছে কিনা তা জানার চেষ্টা করা হবে। পাকিস্তানে কোনও ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয়েছে কিনা দেখা হবে তাও। অভিনন্দনকে জেরা করতে আনা হতে পারে ইনটেলিজেন্স ব্যুরো (আইবি) এবং রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিসিস উইং (র) কর্মকর্তাদেরও। তবে সচরাচর পাইলটদের তাদের হাতে তুলে দেয় না ভারতীয় বিমানবাহিনী। তাই অভিনন্দনের ক্ষেত্রে তা নাও হতে পারে।
পাকিস্তানে পা রাখা থেকে ওয়াঘা সীমান্ত পার করা, গোয়েন্দাদের কাছে প্রতি মুহূর্তের সবিস্তার বর্ণনা দিতে হবে অভিনন্দনকে। বন্দি অবস্থায় তার কাছে কী কী জানতে চাওয়া হয়, তা জানাতে হবে তাকে। বুধবার তিনি বিমানে ওঠা থেকে পাক অধিকৃত কাশ্মীরে বিমান ভেঙে পড়া পর্যন্ত গোটা ঘটনার পুনর্নির্মাণ করবেন গোয়েন্দারা। পাক সেনাবাহিনী তার মিগকে নিশানা করতে করে কী ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করেছিল, তাও জানার চেষ্টা করা হবে। তার সঙ্গে থাকা কোন কোন নথি তিনি নষ্ট করতে পেরেছিলেন এবং কি কি নথি পাক সেনার হাতে পৌঁছেছে তারও তালিকা তৈরি করা হবে।
বন্দি থাকা অবস্থায় তাকে আপসের কোনও প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল কি না, তাকে ব্যবহার করার কোনও চক্রান্ত করা হয়েছিল কি না সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করবেন গোয়েন্দারা। এই গোটা পদ্ধতিকে সামরিক পরিভাষায় বলা হয় ‘ডিব্রিফিং’।
বলা হচ্ছে, জেরা এবং ডাক্তারি পরীক্ষায় নিজেকে মানসিক ও শারীরিকভাবে সক্ষম প্রমাণ না করতে পারলে, আর কোনওদিনই হয়ত যুদ্ধবিমানে উঠতে পারবেন না অভিনন্দন। সে ক্ষেত্রে ডেস্কের কাজে বসিয়ে দেওয়া হতে পারে তাকে। তবে তার সঙ্গে কোনওরকম বৈষম্যমূলক আচরণ করা হবে না। খেয়াল রাখা হবে, কোনও পরিস্থিতিতেই তাকে যেন অসম্মানিত হতে না হয়।

x