যে লেক থেকে ফেরে না কেউ

আরিফ রায়হান

বুধবার , ২৩ অক্টোবর, ২০১৯ at ১০:২৭ পূর্বাহ্ণ
68

‘দ্যা লেক অফ নো রিটার্ন’। এই কথায় কী বোঝানো হচ্ছে- যে লেক থেকে কেউ ফেরে না? কী ভয়ংকর কাণ্ড ! একটি সুন্দর পরিবেশ। সেখানে একটি লেক। সেই লেকে তো মানুষ যাবেই, কিন্তু সেখান থেকে ফিরবে না কেন? আবার কেউ যদি জানে এই লেকটির কাছাকাছি গেলে আর ফিরে আসার সম্ভাবনা নেই তাহলে কি সেখানে যাবেন? বিষয়টি জানার পর অনেক সাহসী বীরের পক্ষেও এই স্থানটিতে যাওয়ার সাহস হবে না। আসলে যারা না জেনে এই লেকটিতে গিয়েছিলো তারা আর ফিরে আসে নি। এই ফিরে না আসার রহস্য কি? এই রহস্যই আমরা জানার চেষ্টা করবো। এরআগে জেনে নিই লেকটির অবস্থান কোথায়।
অরুণাচল প্রদেশের কাছে ভারত-বার্মা সীমান্তে উত্তর মিয়ানমারের ঘন জঙ্গলে ঘেরা পাংসাউ গ্রামে রহস্যময় একটি স্থানে এই লেকটি অবস্থিত। প্রায় ১ দশমিক ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং শূন্য দশমিক ৮ কিলোমিটার প্রস্থের এই লেকটিকে ঘিরে যতসব রহস্য। লেকটির নামকরণের পেছনেও রয়েছে কিছু ইতিহাস। লেকটির পাশ দিয়ে বয়ে গেছে ঐতিহাসিক লেদো সড়ক। ১৯৪২ সালে অর্থাৎ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় মিত্রবাহিনী সড়কটি তৈরি করে। সেসময় এর নাম ছিল- স্টিলওয়েল রোড। জানা যায়, হিমালয়ের পূর্ব পাশ সংলগ্ন এই লেকের ওপর দিয়ে ভারত হয়ে চীনে যেত যুদ্ধ বিমান। জাপানের বিরুদ্ধে যুদ্ধরত মার্কিন ও চীনা সেনাদের রসদ পৌঁছাতে মিত্রবাহিনীর জন্য এটি ছিল খুব সহজ একটি পথ। কিন্তু এই পথ পাড়ি দিতে গেলেই ঘটে যতসব বিপত্তি। রসদবাহী বিমানগুলো কখনো হাওয়া হয়ে যেত, না হয় ছিঁটকে পড়তো লেকের আশেপাশে। ঠিক ওই স্থানে যাওয়া মাত্রই যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিত, পাইলটরাও কোনো ধরনের বার্তা প্রেরণে ব্যর্থ হতেন এবং ভূপাতিত হতো বিমানগুলো।
জানা যায়, এক কোম্পানি জাপানি সেনা ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে একটি সফল অভিযান শেষ করে ফিরছিল এই পথ দিয়েই। পথ হারিয়ে সেই লেকের কাছে যায়। লেকের বাতাসে ছড়ানো ম্যালেরিয়ার জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হয়ে একে একে সবাই সেখানেই মারা যায়। আবার পুরো এক ব্যাটালিয়ান জাপানি সেনা হঠাৎ উধাও হয়ে যায় লেকের পাশ থেকে। তাদের খুঁজতে গিয়েছিল আরেকটি সেনাদল। পরবর্তীকালে তারাও আর ফিরে আসেনি। একবার লেকটি নিরীক্ষণ করতে পাঠানো হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের একদল আর্মিকে। তারা লেকর কাছে গেলে হঠাৎ বাড়তে শুরু করে লেকের পানি। এমনভাবে পানি বাড়তে থাকে কোন কিছু বোঝার আগেই তারা লেকের পানিতে নিমজ্জিত হয়।
এখানে আরো একটি রহস্য হলো এই লেকের কোন ছবি তোলা যায় না। আবার ছবি তুললেও সে ছবি স্পষ্ট নয়। ক্যামেরা ক্লিক করার পর অমনি ছবিগুলো ঝাপসা হয়ে যায়। এদিকে এ রহস্যময় হ্রদের ব্যাপারে আরেকটি আজব ব্যাপার হল এর ভূ-প্রকৃতি সম্পর্কে হেলিকপ্টার আরোহীদের দেওয়া তথ্য। এসব তথ্য কারও সাথে কারোটা মিলেনা। লেকটি নিয়ে আরো ভয়ের ব্যাপার হলো নীরব-নিস্তব্ধ এই স্থানটি থেকে গভীর রাতে মানুষের দুর্বোধ্য আওয়াজ ভেসে আসার কথাও লোকমুখে প্রচলিত আছে। স্থানীয় মায়ানমার ও ভারতীয় গ্রামের অধিবাসীদের মতে, যেকোনো বড় জনবসতির দৈনন্দিন জীবনের স্বাভাবিক শোরগোলের মতই সে শব্দ। আসলে আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির যুগেও পৃথিবীর কতো দেশের কতো রহস্য এখনো উম্মোচন করা সম্ভব হয়নি। ঠিক তেমনি উম্মোচন হয়নি ‘দ্যা লেক অফ নো রিটার্ন’ রহস্য।

x