যে প্রতিক্রিয়া এলো ফেসবুকে

আজাদী প্রতিবেদন

মঙ্গলবার , ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ at ৫:৩৮ পূর্বাহ্ণ
568

তথ্য প্রযুক্তির যুগ বলে কথা। সবকিছুই এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম কেন্দ্রিক। কোনো কিছু হয়েছে কিংবা হবে আঁচ করতে পারলেই শুরু হয়ে যায় লেখালেখি। যে কোন নির্বাচন কেন্দ্রিক মনোনয়ন ও প্রার্থীদের বিভিন্ন দিক নিয়ে লেখালেখিতেও নির্বাচনের আগে বেশ জমজমাট হয়ে ওঠে ফেসবুক।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন কেন্দ্রিক লেখালেখিও কম হয়নি এক্ষেত্রে। কেউ বর্তমান মেয়রের বিপক্ষে, কেউ পক্ষে লিখেছে। আবার কেউ মনোনয়ন পাওয়া মেয়র প্রার্থীর প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে লিখেছেন গেল ক’দিনে। কেউবা নিজের অবস্থানকে রেখেছেন বর্তমান মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন ও মেয়র প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরীর মাঝামাঝি।
দক্ষিণ আফ্রিকা প্রবাসী আবদুল আউয়াল নামে একজন বর্তমান মেয়রসহ আরো কয়েকজনকে নিয়ে লিখেছেন, ‘শুধু থাকবে খোলসটা বাকি সবকিছু খসে পড়বে আস্তে আস্তে’। গত রোববার বিকেল ২টা ৫৪ মিনিটে তার ফেসবুক ওয়ালে থাকা স্ট্যাটাসের সাথে বর্তমান মেয়রসহ চারজনের ছবিও রয়েছে।
ছাত্রলীগের সাবেক সম্পাদক নুরুল আজিম রনি গত ১৫ ফেব্রুয়ারি রাত ১১টা ৪ মিনিটে দেয়া একটি পোস্টে লিখেছেন, ‘অভিনন্দন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী জননেতা মোহাম্মদ রেজাউল করিম চৌধুরীকে।’ এ পোস্টের কমেন্টেসে আনোয়ার হোসেন নামে একজন একটি ছবি পোস্ট করেছেন। এতে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে খাবার তুলে দিয়ে আথিতেয়তা করতে দেখা যাচ্ছে মেয়র নাছিরকে। তার কমেন্টসে লেখা- এমন দৃশ্য আর দেখা যাবে না।
ওয়াহিদ আহমদ রাজন নামে একজন কমেন্ট করেছেন, ‘গ্রুপিং রাজনীতির উর্ধে উঠতে না পারা কাল হল সফল মেয়র নাছির ভাইয়ের। শুভ কামনা রেজাউল করিম করিম চৌধুরীকে।’
মাহমুদুল্লাহ চৌধুরী তার কমেন্টসে লিখেছেন, ‘পুরো চট্টগ্রামকে ধুলোবালির শহর বানিয়ে রেখেছেন নগর পিতা। আশা করি আগামীর নগর পিতা রেজাউল করিম চৌধুরী ভাল করবেন।’
জিল্লুর রহমান কমেন্টস করেছেন, ‘নাছির সাহেবের পতন তো সেদিন থেকেই শুরু হয়েছে যেদিন মহিউদ্দিন চৌধুরীর সহধর্মীনি হাসিনা মহিউদ্দিনকে স্টেজ থেকে নামিয়ে দিয়েছিলেন।’
ফয়সল বাপ্পি নামে একজন ছাত্রলীগ নেতা তার স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘মেয়র নির্বাচনের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী রাজনীতির একজন তৃণমুল কর্মীকেই বেছে নিয়েছেন। তাঁর সিদ্ধান্তে ‘রাজনীতি’ রাজনীতির হাতেই থাকল। তিনি রোববার সকাল ১১টা ৩৪ মিনিটে এ স্ট্যাটাস দিয়েছেন।
রোববার সন্ধ্যায় এক পোস্টে ডাক্তার নেতা ফয়সাল ইকবাল চৌধুরী লিখেছেন, ‘বিলবোর্ড ব্যবসায়ীদের উচ্ছ্বসিত দেখে চট্টলাবাসী আতংকিত। জনগন কি আবার খোলা আকাশ দেখা এবং স্বাধীনভাবে শ্বাস নেয়া থেকে বঞ্চিত হবে?’
প্রসঙ্গত, আ জ ম নাছির উদ্দিন মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর নগরীতে বিলবোর্ড উচ্ছেদে বড় ধরনের অভিযান চলে। ফলে বিলবোর্ডমুক্ত হয় শহর।
আওয়ামী লীগ নেতা খোরশেদ আলম সুজনের অনুসারী স্বরূপ দত্ত রাজু সোমবার দুপুরে এক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘চট্টলবীর মহিউদ্দিন চৌধুরীকে রাজনৈতিকভাবে কোনঠাসা করতে চাওয়া ব্যক্তিরাই এখন মহিউদ্দিন চৌধুরীর স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে চায়। ওরে বাটপার।’
সজীব রিদওয়ানুল কবির নামে এক ছাত্রলীগকর্মী তার স্ট্যাটাসে রোববার সন্ধ্যায় লিখেছেন, ‘আমাদের শিরায়, উপশিরায় বহমান রক্তকনিকার নাম আ জ ম নাছির উদ্দিন, হৃদপিন্ডের প্রতিটি স্পন্দনের নাম আ জ ম নাছির উদ্দিন, মস্তিষ্কের প্রতিটি নিউরনের নাম নাছির উদ্দিন, প্রতিটি নিঃশ্বাসে নাছির উদ্দিন।’
মিজানুল ইসলাম নামে একজন ১৬ ফেব্রুয়ারি দুপুর ১টা ২৫ মিনিটে ফেসবুকে লিখেছেন, ‘এবার নগরের মেয়র বা অধিপতি কে হবেন কিংবা দলীয় মনোনয়ন কে পাবেন তা নিয়ে আমার বিন্দুমাত্র আগ্রহ ছিলো না, এখনো নেই। শুধু আছে আ জ ম নাছির উদ্দীন ভাইয়ের বারান্দা পাহারা দেওয়া লোকের সংখ্যা ঠিক থাকবে কি-না? তা নিয়ে উদগ্র আগ্রহ ও যতো সংশয়। কারণ গত সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আমি আ জ ম নাছির ভাইয়ের ছায়াসঙ্গীর মতো কাছে ছিলাম। নির্বাচনকালীন দায়িত্ব পালন করেছিলাম মিডিয়া উইংয়ে। ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও ঘনিষ্টতা যদিও বহু বছর আগের। তাই খুব কাছ থেকে অনেক কিছু দেখেছি। অনেকের ভুমিকা সরাসরি দৃষ্টিগোচর হয়েছে। তখন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা আঁচ করতে পেরে কোনো কোনো ক্ষেত্রে সতর্ক করতে হয়েছিল নাছির ভাইকে। প্রয়োজনে তিনিও সেধে অনেক কিছু জানতে চাইতেন। কিন্তু যে মাত্র নাছির ভাই মেয়র নির্বাচিত হলেন তখনই খোলস পাল্টাতে শুরু করলেন অনেকেই। নানা কৌশলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বিরোধিতাকারীদের সাদরে গ্রহণ করার অভিনব কারিশমা এবং পদ্ধতিও দেখতে হলো অতি অল্প সময়ের মধ্যে। তবে এতোদিন সবচেয়ে নির্মম যে দৃশ্যটি দেখতে হয়েছে, তা হলো- যেসব নেতাকর্মী বা বিভিন্ন শ্রেণী পেশার শুভাকাঙ্ক্ষী খেয়ে না খেয়ে দিন রাত শ্রম দিয়েছেন তাদের অবমূল্যায়ন, দূরে ঠেলে দেওয়ার অপকৌশল। ছায়া মেয়র হয়ে তল্পিবাহকদের আস্ফালন, দম্ভ। গুটি কয়েক পরিচিত মুখের অদৃশ্য অবয়ব। তাদের কাছে ত্যাগী ও প্রবীণ রাজনীতিকরাও ছিলেন অনেকটা অসহায়। নির্দিষ্ট বলয়ের বাইরের মানুষগুলো ছিলো চরম অবহেলিত। তাই একান্ত বাধ্য না হলে পারতপক্ষে পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির কেউ ওইমুখি হতেন না। যা ছিল অপ্রত্যাশিত।
অবশ্য এসব ক্ষেত্রে ব্যক্তি আ জ ম নাছির উদ্দীন যতো না দায়ী ছিলেন, তার চেয়ে বেশি দায়ী সবসময় ঘিরে ধরা গুটিকয়েক অতি চেনা মুখ। যারা নাছির ভাইয়ের সরলতার সুয়োগ নিয়ে নয়-ছয় করেছেন, অবরুদ্ধ করে রাখতেন নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যে। তারা বিগত বছরগুলোতে বিভিন্ন সুবিধা নিয়ে গড়েছেন টাকার পাহাড়, বিদেশ ভ্রমন করেছেন, কাজ নিয়েছেন সৌন্দর্য বর্ধন প্রকল্পের, কমিশনের ভিত্তিতে নিয়েছেন ঠিকাদারি কাজ কিংবা দোকান বরাদ্দ। কমিশনে ঠিকাদারের আটকে পড়া টাকা উঠিয়ে দেওয়ার মহান কাজটিও হত তাদের ইশারায়। বিভিন্ন অজুহাতে নেওয়া ক্যাশ টাকার কথা বাদই দিলাম। আমার বিশ্বাস মেয়র আ জ ম নাছির ভাই এসব জেনে বুঝে করেননি, করেছেন শুনে শুনে।
তবে সবচেয়ে বেশি কষ্ট হচ্ছে এসব দুধের মাছির হঠাৎ বোল পাল্টানো দেখে। এখনো আ জ ম নাছির ভাইয়ের মনোনয়নবঞ্চিত হওয়ার একদিন অতিবাহিত হয়নি। কয়েকটা ঘণ্টা গত হয়েছে মাত্র! এরইমধ্যে খোলস পাল্টাতে শুরু করছেন ওইসব সুবিধাভোগী। সুতরাং এখন অন্তত উপলব্ধি করার সুযোগ এসেছে। সময় হয়েছে আপন পর চেনার। ভালো মন্দ পরখ করার।’
এতে একজন কমেন্ট করেছেন, ‘রাজনীতিতে শেষ বলে কিছু নেই।’