যেভাবে কাটে নানা পাটেকরের জীবন

রবিবার , ১৭ নভেম্বর, ২০১৯ at ৯:১৬ পূর্বাহ্ণ
255

অত্যন্ত মধ্যবিত্ত জীবনযাপন, বিলাসিতার একেবারেই ধার ধারেন না। এমনকি, জনপ্রিয় এই অভিনেতা যা উপার্জন করেন তার সিংহ ভাগই বিলিয়ে দেন গরিব-দুস্থদের মধ্যে। তিনি মাকে নিয়ে অত্যন্ত সাধারণ জীবন কাটান। তিনি নানা পাটেকর। বলিউডে অভিনয়ের জন্য তিনি ঠিক যতটা জনপ্রিয়, তার চেয়েও কয়েক গুণ বেশি লোকপ্রিয় তার এই উদার মনোভাবের জন্য। তারকারা উপার্জন তো অনেক বেশি করেন, কিন্তু তাদের মধ্যে হাতে গোনা যে কয়েক জন এই ঔদার্য দেখাতে পারেন নানা তাদেরই অন্যতম।
১৯৫১ সালে আরব সাগরের তীরে মহারাষ্ট্রের রায়গড়ে জন্ম নানা পাটেকরের। বাবা গজানন পাটেকর এক জন কাপড়ের ব্যবসায়ী ছিলেন। নানা পাটেকরের আসল নাম বিশ্বনাথ পাটেকর। ছোট থেকেই অভিনয়ের প্রতি তার আগ্রহ ছিল। কিন্তু সংসারের অর্থনৈতিক অবস্থা ভাল না হওয়ায় কখনও তিনি নিজের স্বপ্ন পূরণের জন্য বাবা-মাকে জোর দেননি। বরং মাত্র ১৩ বছর বয়স থেকেই পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি ফিল্মের পোস্টার আঁকার কাজ শুরু করেন। পোস্টার পিছু ৩৫ টাকা পেতেন। একটা সময় রাস্তার জেব্রা ক্রসিং রং করেও উপার্জন করেছেন তিনি। কলেজে পড়ার সময় নাটকের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিতেন। তার পর বেশ কিছু বিজ্ঞাপন এজেন্সির সঙ্গেও কাজ করেছেন। কলেজের সহপাঠী নীলকান্তি পাটেকরকে বিয়ে করেন নানা। তখন নানার বয়স ২৭। নানার কেরিয়ার এবং ব্যক্তিগত জীবন- দুটোই অনেক চড়াই-উতরাইয়ের মধ্যে দিয়ে এগিয়েছে। বিয়ের এক বছর পর তার বাবার মৃত্যু হয়। নানা নিজের প্রথম সন্তানকেও ওই সময় হারিয়েছেন। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে স্ত্রীর থেকে আলাদা থাকেন নানা। মুম্বইয়ে একটা ৭৫০ বর্গ ফুটের এক কামরার ফ্ল্যাটে তিনি মায়ের সঙ্গে থাকেন। অত্যন্ত সাদামাটা জীবন কাটান। তার এই ছোট ফ্ল্যাটে প্রয়োজনীয় আসবাব ছাড়া আর কিছুই নেই।
১৯৭৮ সালে ‘গমন’ ছবিতে তার অভিষেক। তার অভিনয় এত প্রশংসিত হয়েছিল যে, এর পর প্রচুর ফিল্মের অফার আসতে শুরু করে। ১৯৭৮ সাল থেকে তিনি যা উপার্জন করেছেন তার ৯০ শতাংশই গরিবদের মধ্যে বিলিয়ে দিয়েছেন। অনেক সময় এমনও হয়েছে, ফিল্মে কাজ করার পুরো পারিশ্রমিকটাই কোনও এক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাকে দিয়ে দিয়েছেন। ২০১৫ সালে নানা নিজের সংস্থা ‘নাম ফাউন্ডেশন’ গড়ে তোলেন। মহারাষ্ট্রের খরা কবলিত এলাকায় কাজ করে তার অসরকারি সংস্থা। নানা পাটেকর কেন গরিবদের জন্য এত কাজ করছেন? না, রাজনীতিতে আসার কোনও ইচ্ছাই তার নেই। নানা জানিয়েছেন, এগুলো তার মনকে শান্ত রাখে। মানুষের উপকারের মধ্যেই আত্মতৃপ্তি ঘটে তার।

x