যুব সমাজ রক্ষায় মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়তে হবে

চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে মতবিনিময় সভায় বক্তারা

বৃহস্পতিবার , ২১ ডিসেম্বর, ২০১৭ at ১১:০৮ পূর্বাহ্ণ
109

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও কারিতাসের স্মাইল প্রকল্পের উদ্যোগে চট্টগ্রামে মাদকের ভয়াবহতা ও আমাদের করণীয় শীর্ষক এক মতবিনিময় সভ গত ১৮ ডিসেম্বর নগরীর জামালখানস্থ চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের ইঞ্জিনিয়ার আবদুল খালেক মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক মো. ফজলুর রহমানের সভাপতিত্বে ও অধিদপ্তরের মেট্টো উপঅঞ্চলের সহকারী পরিচালক মো. জিল্লুর রহমানের সঞ্চালনায় সভায় অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আজিজুর রহমান সিদ্দিকী, জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মোরাদ আলী, ইলমার প্রধান নির্বাহী জেসমিন সুলতানা পারু, সমাজসেবা কর্মকর্তা অভিজিৎ সাহা, কাউন্সিলর ইয়াসিন চৌধুরী আসু, কাউন্সিলর গোলাম মোহাম্মদ জোবায়ের ও দক্ষিণ পশ্চিম বাকলিয়া স্কুল পরিচালনা পরিষদের সভাপতি শফিউল আজম হিরু। বক্তব্য রাখেন মাওলানা মুহাম্মদ রবিউল আলম ও সাংবাদিক রনজিত কুমার শীল। মাদকসেবী রীনা বেগম ও মো. সেলিম তাদের অনুভূতি প্রকাশ করেন। সভার শুরুতে ৩ জন মহিলা ও ৩ জন পুরুষসহ মোট ৬ জন মাদকাসক্তকে মাদকের বিরশুদ্ধে শপথ বাক্য পাঠ করান মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম বিভাগীয় অতিরিক্ত পরিচালক মো. ফজলুর রহমান। এ সময় মাদকের নেশা ছেড়ে সুস্থ জীবনে ফিরে এসে স্বাভাবিক কাজ কর্ম করার জন্য তাদের প্রত্যেককে নগদ ৫ হাজার টাকা করে প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়ার মাধ্যমে মাদকের ভয়াবহতা ও কুফল সম্পর্কে ৫ মিনিটের ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়। সভায় বক্তারা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে মায়নমার থেকে সড়ক ও নৌ পথে ইয়াবাসহ নানা মাদকদ্রব্য এবং বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকা দিয়ে প্রতিনিয়ত চোলাইমদ বিভিন্নস্থানে পাচার হচ্ছে। মাদক বিক্রেতা ও সেবনকারীরা সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ছড়িয়ে পড়ে আমাদের ছাত্র, তরুণ ও যুব সমাজকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। নগরীর বরিশাল কলোনীসহ চট্টগ্রামের ২৮৪ মাদক স্পটে ২৮৫ জন চিহ্নিত মাদক বিক্রেতা রয়েছে। সেবনকারী রয়েছে অসংখ্য। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও আইনশৃৃঙ্খলা বাহিনী ইচ্ছে করলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেপ্তারসহ মাদক স্পটগুলো ধ্বংস করে দিতে পারে। এ জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের আন্তরিক সহযোগিতা প্রয়োজন। মাদকের ক্ষেত্রে চট্টগ্রাম একটি বড় অংশ। এ ব্যবসায় কারা জড়িত বা কারা মাদকসেবন করে তাদেরকে চিহ্নিত করে এ পথ থেকে ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্টদের কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। প্রয়োজনে ছাত্র ও যুব সমাজ রক্ষায় মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। বক্তারা আরো বলেন, একটি পরিবারকে ধ্বংস করার জন্য একজন মাদকাসক্ত সন্তানই যথেষ্ট। আমরা যদি সন্তানের খোঁজ খবর না রাখি তাহলে তারা মাদক বিক্রয় ও মাদক সেবনসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়বে। মাদকের ভয়াবহতা ও কুফল সম্পর্কে সন্তানদেরকে উদ্ধুদ্ধ করতে হবে। মসজিদে, মন্দির, গীর্জা ও প্যাগোড়ায় মাদক বিরোধী প্রচারপ্রচারণা জোরদার করতে হবে। পাশাপাশি সুস্থ ও সুন্দর জাতি গঠনে মাদককে ‘না’ বলতে হবে এবং সামাজিকভাবে মাদককে বয়কট করতে হবে। এ ব্যাপারে সকলকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

x