যুবলীগের দুই গ্রুপে মারামারি, সভা পণ্ড

ফিরে গেলেন নওফেল ও নাছির

আজাদী প্রতিবেদন

বুধবার , ১৩ নভেম্বর, ২০১৯ at ২:৪৯ পূর্বাহ্ণ
703

দুই গ্রুপের সংঘর্ষে পণ্ড হয়েছে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগের সভা। এসময় ক্ষোভ প্রকাশ করে বক্তব্য না দিয়ে সভাস্থল ত্যাগ করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ও শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। এছাড়া মারামারির খবর পেয়ে মাঝপথ থেকে ফিরে যান বিশেষ অতিথি ও সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন।
গতকাল বিকেলে নগরীর লালদীঘি মাঠে যুবলীগ নেতা ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের পশ্চিম ষোলশহর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. মোবারক আলী ও ওমরগণি এমইএস কলেজ ছাত্রসংসদের সাবেক ভিপি ও নগর যুবলীগের সদস্য ওয়াসিম উদ্দিন চৌধুরীর অনুসারীদের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়। এতে মোবারক আলীসহ ১৫ থেকে ২০ জন আহত হয়েছেন। মোবারক আলীর নাক ফেটে যায়। বেশ কয়েকজনের মাথা ফেটে রক্ত পড়তে দেখা গেছে।
প্রসঙ্গত, ওয়াসিম উদ্দিন চৌধুরী এমইএস কলেজে ভিপি থাকাকালীন একই প্যানেলের সদস্য ছিলেন মোবারক আলী।
প্রত্যক্ষদর্শী এবং যুবলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে র‌্যালি ও আলোচনার সভার আয়োজন করে নগর যুবলীগ। বিকেল ৪টায় শুরু হওয়া সভায় সভাপতিত্ব করছিলেন নগর যুবলীগের আহ্বায়ক মহিউদ্দিন বাচ্চু। সভায় কেন্দ্রীয় যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আলতাফা হোসেন বাচ্চু বক্তব্য রাখার সময় মিছিল নিয়ে সভায় প্রবেশ করেন কাউন্সিলর মো. মোবারক আলী। মিছিলে ৩০-৩৫ জন মহিলাও ছিল। মোবারক আলীর কয়েকজন কর্মী মহিলাদের মঞ্চে সামনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এসময় সেখানে আগে থেকে অবস্থানরত ওয়াসিম উদ্দিন চৌধুরীর অনুসারিরা বাধা দেয়ার চেষ্টা করেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে হাতাহাতি থেকে রুপ নেয় সংঘর্ষে। এসময় দু’ পক্ষই পরষ্পরের বিরুদ্ধে চেয়ার ছোঁড়াছুড়ি করে। কয়েকজনকে পাথর ও ইটের টুকরা নিক্ষেপ করতেও দেখা গেছে। প্রায় ১০ মিনিট সংঘর্ষ চলার পর পুলিশ উভয়পক্ষকে ধাওয়া দিয়ে মাঠ থেকে বের করে দেয়। সংঘর্ষ চলাকালে সভাস্থল ত্যাগ করেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। এদিকে অনুষ্ঠানের সাজসজ্জার দায়িত্ব প্রাপ্ত শাহাবুদ্দিন ডেকোরেশনের মালিক মো. শাহাবুদ্দিন জানিয়েছেন, প্রায় আড়াইশ চেয়ার ভাঙচুর করা হয়েছে। এছাড়া ৫০টির বেশি চেয়ার সভায় আগতরা নিয়ে গেছে।
সংঘর্ষের বিষয়ে জানতে চাইলে কাউন্সিলর মো: মোবারক আলী দৈনিক আজাদীকে বলেন, ‘মিছিল নিয়ে আমরা সমাবেশস্থলে আসি। মিছিলে ৩০/৩৫ জন মেয়েও ছিল। আমার ছোট ভাইয়েরা মেয়েদের মঞ্চের সামনে নিয়ে যেতে চেয়েছে। কারণ, ভিড়ের মাঝখানে মেয়েদের জন্য অস্বস্তিকর ছিল। কিন্তু সামনে আগে থেকে ওয়াসিম ভাইয়ের ছেলেরা অবস্থানে ছিল। তারা মনে করেছে, আমার ছোট ভাইয়েরা তাদের সরিয়ে দিচ্ছে। এতে তারা ভুল বুঝে। এসময় ওয়াসিম ভাইয়ের ছেলেরা আমার ছোট ভাইদের উপর হামলা করে। তারা চেয়ার ছুঁড়ে মারে। একটা চেয়ার এসে আমার নাকেও পড়ে। নাক ছিড়ে গিয়ে রক্ত পড়ে।’
এ কাউন্সিলর বলেন, ‘এটা কোন গ্রুপিংজনিত সমস্যা না। ভুল বুঝাবুঝির কারণেই হয়েছে। আমাদের উভয়ের কর্মীরা আরেকটু সহনশীল হতে পারতো। আমি নিজে এবং ওয়াসিম ভাইও কর্মীদের নিবৃত করার চেষ্টা করেছেন।’
ঘটনা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে এমএইএস কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক ভিপি ওয়াসিম উদ্দীন দৈনিক আজাদীকে বলেন, ‘মাথায় সাদা ব্যান্ড পড়ে একটি গ্রুপ মিছিল নিয়ে আসে। তারা ঢুকার আগেও দুইটি মিছিল ঢুকছিল, এগুলো ছিল ২৩ (পাঠানটুলী) এবং ২৪ নম্বর (উত্তর আগ্রাবাদ) ওয়ার্ড থেকে আসা। মাঝখানে মহিলা ছিল। ২৪ নম্বরের মহিলাগুলোর কারণে ঝটলা তৈরি হয়। তখন সেখানে ধাক্কাধাক্কি হয়েছে মনে হয়। এরপর দেখলাম পর্যায়ক্রমে হাতাহাতি হচ্ছে এবং সেটার চাপ সামনের দিকে চলে আসছে। তখন কে কাকে মারছে বুঝা যাচ্ছে না। মূলত সাদা ব্যান্ড পড়া মিছিলটি আসার পরই ঝামেলাটা শুরু হয়।’
‘সাদা ব্যান্ড পড়া লোকগুলো কারা ছিল?’ এমন প্রশ্নে ওয়াসিম উদ্দীন বলেন, নাম বলাটা উচিত হবে না। আপনারা ভিডিও ফুটেজ দেখলে সূত্রপাত কিভাবে হয়েছে জানত পারবেন।’ বলা হচ্ছে, আপনার ছেলেদের সঙ্গে কাউন্সিলর মো. মোবারক আলীর ছেলেদের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়েছে। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ওয়াসিম উদ্দীন বলেন, এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা। আমার ছেলেরা ছিল একেবারে সামনে। শেষে যে মিছিলটা আসছে তারও ৪০/৪৫ মিনিট আগে আমরা আসছি। যখন মারামারি হচ্ছে তখন আমার ছেলেরা সামনে থেকে তখনও স্লোগান দিচ্ছিল। তখনও তাদের সঙ্গে কিছু হয়নি। পরে সবার সঙ্গে মারামারি লেগে গেছে। কারণ, ওই পাশ থেকে পাথর ছুঁড়ে মারছিল।’
মহানগর যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক ফরিদ মাহমুদ দৈনিক আজাদীকে বলেন, মঞ্চের একপাশ থেকে সামনে আসতে চেয়েছেন। এটা নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়েছে। পরে চেয়ার ছোঁড়াছুড়ি হয়েছে। কারা ঘটনায় জড়িত তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করছি। বহিরাগত কেউ এ ঘটনায় জড়িত থাকলে তাদের চিহ্নিত করে প্রশাসনের কাছে তুলে দিব। সংগঠনের কেউ হলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিব।’
যুবলীগের সদস্য ও ফিরিঙ্গি বাজার ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাসান মুরাদ বিপ্লব দৈনিক আজাদীকে বলেন, শান্তিপূর্ণ সমাবেশে এ ধরনের ঘটনা সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে। ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেয়া দরকার।’ এ কাউন্সিলর বলেন, মন্ত্রী মহোদয়ের (মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল) উপস্থিতিতে এ ধরনের ঘটনা কাম্য নয়। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে সভাস্থল ত্যাগ করেন।’ সিটি মেয়র সভায় না প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মেয়র মহোদয় সভায় আসার জন্য বের হয়েছিলেন। নন্দনকানন পর্যন্ত এসেছিলেনও। তখন তিনি জানতে পারেন সমাবেশ পণ্ড হয়েছে এবং প্রধান অতিথি চলে গেছেন। তাই তিনি আর আসেননি।
কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহসীন সাংবাদিকদের বলেন, ‘সভায় দু’পক্ষে চেয়ার ছোঁড়াছুঁড়ি হয়েছে। এটা সামান্য ঘটনা। আমরা দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছি। বড় কিছু হয়নি।’
এদিকে যুগ্ম আহ্বায়ক দিদারুল আলমের সঞ্চালনায় সভাটি পণ্ড হওয়ার আগে বক্তব্য রাখেন যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আলতাফ হোসেন বাচ্চু ও সৈয়দ মাহমুদুল হক, নগর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ফরিদ মাহমুদ ও দেলোয়ার হোসেন খোকা বক্তব্য রাখেন।

x