যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ছে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা

শনিবার , ২৩ নভেম্বর, ২০১৯ at ৫:৪৪ পূর্বাহ্ণ
169

২০১৮-২০১৯ শিক্ষাবর্ষে ৮২০০ এর বেশি বাংলাদেশি শিক্ষার্থী যুক্তরাষ্ট্রে অধ্যয়নরত ছিল। এর ফলে উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষার্থী পাঠানো দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান এখন বিশতম।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ও শিক্ষা দপ্তরের যৌথ উদ্যোগে ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশন উইক উদযাপন উপলক্ষে ঢাকাস্থ যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস এ তথ্য জানায়। এক বার্তায় বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়ে সামপ্রতিকতম শিক্ষাবর্ষে (২০১৮/২০১৯) নতুন রেকর্ড সংখ্যা ৮,২৪৯-এ পৌঁছেছে। ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশন এঙচেঞ্জ বিষয়ক ২০১৯ সালের ‘ওপেন ডোরস রিপোর্ট’ এ তথ্য প্রকাশ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর এ হার সর্বকালের সর্বোচ্চ। এতে দেখা যায়, ২০১৮ সালের রিপোর্টের তুলনায় শিক্ষার্থী ১০% বৃদ্ধি পেয়েছে। আর ২০০৯ সাল থেকে তা বেড়ে হয়েছে তিনগুণের বেশি। যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষার্থী পাঠানোর হার সবচেয়ে দ্রুত বেড়ে চলা দেশগুলোর একটি বাংলাদেশ। যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষার্থী পাঠানো দেশগুলোর মধ্যে বিশ্বে এখন এর অবস্থান বিশতম। আর বাংলাদেশ শীর্ষ ২৫ এর মধ্যে একমাত্র দেশ ২০১৮ সালের রিপোর্টের পর থেকে যাদের দুই অঙ্কের প্রবৃদ্ধি ঘটেছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বোচ্চ। যুক্তরাষ্ট্রে অধ্যয়নরত মোট ৮,২৪৯ জন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মধ্যে ৫,২৭৮ জন স্নাতক পর্যায়ে পড়ে যা ২০১৭/২০১৮ শিক্ষাবর্ষের তুলনায় ১৩.৫% বেশি।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাম্পাসগুলোতে পড়াশোনারত প্রায় ৭৫% বাংলাদেশি শিক্ষার্থী এসটিইএম (বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত) বিষয়গুলো নিয়ে পড়ছে। তাদের মধ্যে ৪০% এর বেশি (৪০.৪%) প্রকৌশল, প্রায় ১৮% (১৭.৭%) গণিত/কম্পিউটার সায়েন্স এবং ১৫ শতাংশের বেশি (১৫.৩) ভৌত বিজ্ঞান বা লাইফ সায়েন্স নিয়ে পড়ছে। প্রায় ৮ শতাংশ (৭.৮%) পড়ছে ব্যবসা/ব্যবস্থাপনা নিয়ে।
গত চার বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে দশলাখের বেশি বিদেশি শিক্ষার্থী রয়েছে। চলতি শিক্ষাবর্ষে এ সংখ্যা রেকর্ড ১০৯৫২৯৯ এ ওঠে। একইসঙ্গে এটি যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চশিক্ষাক্ষেত্রে বিদেশি শিক্ষার্থীর মোট সংখ্যা তের বছরে অব্যাহত ভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার ঘটনা।
যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে শিক্ষাক্ষেত্রে বিনিময়ের বিষয়টি এগিয়ে নেওয়া ঢাকার যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের জন্য একটি কৌশলগত অগ্রাধিকারের বিষয়। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শিক্ষা বিনিময় আমদের উভয় দেশ ও জনগণকে উপকৃত করবে। এটি বুদ্ধিবৃত্তিক ও আন্তঃসাস্কৃতিক সম্পদের পাশাপাশি ব্যবসায়িক ও পেশাগত নেটওয়ার্ক জোরদার করবে। একইসঙ্গে তা নবীন শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক চাকরির বাজারে প্রবেশ তথা বিশ্বের সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জগুলো সমাধানের জন্য প্রস্তুত হতে সহায়তা করবে। ঢাকার যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস ‘এডুকেশনইউএসএ বাংলাদেশ’ এর মাধ্যমে ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশন উইক (আইইডব্লিউ) উদযাপন করেছে।
‘কলেজউইকলাইভ’ হচ্ছে অনলাইন কলেজ ফেয়ার ও ভর্তি কার্যক্রমের একটি ইন্টারঅ্যাকটিভ ওয়েবসাইট। শিক্ষার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রের ৮০টির বেশি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি ও ‘এডুকেশনইউএসএ-র উপদেষ্টাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সুযোগ পাবে। তারা কলেজ বাছাই, প্রমিত টেস্ট, ভালো রচনা লেখাসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর বিশেষজ্ঞদের উপস্থাপনা দেখতে পারবে। এর মাধ্যমে বিদেশি শিক্ষার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার ব্যবস্থা সম্পর্কে নিখরচায় জানার সুযোগ পাবে। শিক্ষার্থীরা এ সংক্রান্ত ফেসবুক ইভেন্টে যোগ দিতে পারবে এই ঠিকানায় : যঃঃঢ়ং://িি.িভধপবনড়ড়শ.পড়স/বাবহঃং/৭৬৯৫১০৭৯৩৪৯২৪৬৮/
‘এডুকেশনইউএসএ’ যুক্তরাষ্ট্রে লেখাপড়া সংক্রান্ত তথ্যের বিষয়ে পররাষ্ট্র দপ্তরের নিজস্ব কার্যালয়। বিশ্বব্যাপী এর পরামর্শ কেন্দ্রের সংখ্যা চারশর বেশি। বাংলাদেশে এডুকেশনইউএসএর কাজ হলো যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনার সুযোগ সংক্রান্ত তথ্য বিনামূল্যে সরবরাহ করা। দেশের বিভিন্নস্থানে থাকা কেন্দ্রগুলোতে পড়াশোনা সংক্রান্ত তথ্য ও পরামর্শ পাওয়া যায়। কেন্দ্রগুলো রয়েছে ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের আমেরিকান সেন্টার, ধানমন্ডির এডওয়ার্ড এম কেনেডি সেন্টার ফর পাবলিক সার্ভিস অ্যান্ড আর্টস এবং চট্টগ্রামের আমেরিকান কর্নারে। এসব কেন্দ্রে প্রশিক্ষিত পরামর্শকেরা যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষা সংক্রান্ত বিষয়ে বিনামূল্যে গ্রুপভিত্তিক আলোচনা করেন কিংবা শিক্ষার্থী বা তাদের অভিভাবকদের ব্যক্তিগতভাবে কাউন্সিলিং করেন। এছাড়া সিলেট, খুলনা এবং রাজশাহীর আমেরিকান কর্নারে এডুকেশনইউএসএ রেফারেন্স লাইব্রেরি এবং দূর পরামর্শ সুবিধা পাওয়া যায়। বাংলাদেশে এডুকেশনইউএসএর কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্যের জন্য ভিজিট করুন :
যঃঃঢ়ং://িি.িভধপবনড়ড়শ.পড়স/ঊফটঝঅইধহমষধফবংয.
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনারত বা শিক্ষকতায় যুক্ত থাকা বিদেশি নাগরিকদের বিষয়ে বিশদ তথ্যের ভান্ডার ‘ওপেন ডোরস’। আবার যুক্তরাষ্ট্রের যেসব শিক্ষার্থী নিজের কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রেডিটের জন্য বিদেশে পড়ছেন তাদের তথ্যও ওপেন ডোরস-এ পাওয়া যায়। যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকা বিভিন্ন দেশের গবেষক এবং শিক্ষাপূর্ব নিবিড় ইংরেজি ভাষা শিক্ষা কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া বিদেশি শিক্ষার্থীদের সংখ্যাও জানা যায় এখানে।

x