যারা নিজের বাগানে ক্যাকটাস চাষ করতে চান, তাদের জন্য লেখাটি-

শাহীন সালেহউদ্দিন

মঙ্গলবার , ১৬ জানুয়ারি, ২০১৮ at ৬:০২ পূর্বাহ্ণ
334

ক্যাকটাস: সব ক্যাকটাস প্রচুর সূর্যালোক পছন্দ করে তবে সকালের সূর্যালোকই ক্যাকটাস এর জন্য বেশী ভালো, আর তাই সব ক্যাকটাসই কাঁচের বা পলিব্যাগের ছাউনীর নিচে চাষ করতে হয়। এদিকে ছায়াতে জন্মানো ক্যাকটাসে ফুল হয় না। আর প্রচুর পরিমাণে ভালো মানের ক্যাকটাস ফুল ও গাছ উৎপাদনের জন্য পর্যাপ্ত বাতাস দরকার, সেজন্য কাঁচের বা পলিব্যাগের ছাউনির চারপাশে খোলা রাখতে হয়।

প্রয়োজনীয় পাত্র: পাস্টিকের পাত্র বা ধাতব থেকে মাটির পাত্রই ভালো ক্যাকটাস চাষের জন্য কারণ মাটির পাত্রে পানি ও বাতাস চলাচলের জন্য পর্যাপ্ত অতি সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম ছিদ্র থাকে। পাত্রকে পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত করে শুকিয়ে নিতে হবে চারা লাগানোর পূর্বে। সঠিক মাপের পাত্র নির্বাচনও একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কারণ বেশী বড় পাত্র অধিক পরিমাণে আর্দ্রতা ধরে রাখে যা ক্যাকটাস চারার জন্য খুবই ক্ষতিকর আর ছোট পাত্রে ক্যাকটাস চারা ঠিক মতো বাড়তে পারে না।

প্রয়োজনীয় মাটি ও জৈব সার: সঠিক পরিমাণ জৈব সার ও পানি ক্যাকটাস চাষের জন্য খুবই দরকারী। এই জৈব সারে যা যা থাকতে হবে

১ভাগ দোঁআশ বা বেলে দোঁআশ + ১ভাগ পচা গোবর + ২ভাগ পচা পাতা+১ভাগ বালি + কিছু পরিমাণ ভাঙা হাড়ের গুড়া

জৈব সার তৈরির পরপরই পাত্রে চারা রোপণ করা উচিত না, অন্তত ১৫দিন পর চারা রোপণ করা উচিত।

চারা রোপণের উপযুক্ত সময় এটা বছরের যেকেনো সময় রোপণ করা যায় তবে মার্চএপ্রিল মাস বেশি উপযুক্ত সময়।

পাত্রে চারা রোপণের পদ্ধতি : পাত্রের নিচের এক তৃতীয়াংশ ইটের গুড়া দিয়ে পূর্ণ করতে হবে পানি চলাচলের জন্য, তারপর পাত্রের উপর থেকে ২সে.মি. ফাঁকা রেখে মাটি ও জৈব সারের মিশ্রণ দিয়ে পাত্রটি পূর্ণ করতে হবে। চারা রোপণের আগে চারার রোগ ও নেমাটোড আক্রান্ত মূল কেটে ফেলতে হবে। মূলের কাটা অংশ সালফার ডাস্ট দিয়ে ট্রিটমেন্ট করে নিতে হবে। মেলী বাগ ধ্বংস করার জন্য মিথ্যাইলেটেড স্পিরিট (১০%) ও নিকোটিন(.%) ব্যবহার করা যেতে পারে। চারা পাত্রের কিনারায় লাগালে বেশী ভালো হয় পাত্রের মাঝখানে লাগানোর চাইতে।

চারার পরিচর্যা পানি দেওয়া: সঠিক পরিমাণ পানি সময় মত দেওয়া খুবই দরকারী সঠিকভাবে ক্যাকটাস চাষের জন্য, বেশী পানি দেওয়া যেমন ক্ষতিকর তেমনি কম পানিও ক্যাকটাসের বৃদ্ধি ব্যহত করে, পানির পরিমাণ আর প্রয়োগ বছরের বিভিন্ন সময় বিভিন্ন হয়। তাছাড়া এটা ক্যাকটাসের জাতের উপরও নির্ভর করে। ক্যাকটাসে শীতকালে পানি দেওয়ার দরকার হয় না। তবে যদি মূল শুকিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে তাহলে শীতকালে মাসে একবার পানি দিতে হবে।

খুঁটি দেওয়া: বেশীর ভাগ ক্যাকটাসে খুঁটি দেওয়ার দরকার হয় না, তবে যে সব ক্যাকটাস লতানো মতো হয় সেগুলোতে খুঁটি দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে।

অধ্যায় ২

ক্যাকটাস গাছ দীর্ঘজীবী হলেও এর ফুলগুলো প্রায়ই স্বল্পস্থায়ী হয়ে থাকে। বেশিরভাগ ক্যাকটাস ফুলই দু’একদিনের মধ্যে ঝরে পড়ে। তাছাড়া অধিকাংশ ক্যাকটাসের ফুলই ফোটে রাতের বেলায়। আর রাতে ফোটার কারণে সূর্যের আলো থেকে বঞ্চিত এসব ফুলের রংও হয় সাধারণত সাদা। তবে যেসব ক্যাকটাসের ফুল দিনের বেলায় ফোটে সেগুলো হলুদ, লাল, গোলাপি, বেগুনি প্রভৃতি বিচিত্র রংয়ের হয়ে থাকে। দীর্ঘায়ু, কাঁটাযুক্ত এসব ক্যাকটাস গাছের প্রধান সুবিধা হচ্ছে ছোট্ট একটি টবে বছরের পর বছর ধরে এগুলোকে সজীব রাখা যায়। ঘরের বারান্দা, ব্যালকনি কিংবা ঘরের সুবিধামতো যে কোনো স্থানে এগুলো রাখা যায়। অন্যান্য ফুলগাছের মতো ক্যাকটাসের খুব বেশি যত্নআত্তির প্রয়োজন হয় না। সপ্তাহান্তে একদিন সামান্য পরিমাণ পানি গাছের গোড়ায় ছিটিয়ে দিলেই হলো। বাগানে ক্যাকটাস না লাগানোই উত্তম। কারণ বৃষ্টির ফলে কিংবা বর্ষাকালে মাটির আর্দ্রতা বেড়ে গেলে গাছের গোড়া পচে তা বিনষ্ট হয়ে যায়। এ জন্য বাগানে ক্যাকটাস রোপন করতে চাইলে উঁচু জায়গা নির্বাচন করতে হয় এবং বৃষ্টির পানি যাতে গাছে সরাসরি না পড়তে পারে সে জন্য গাছের উপরে দোচালা ঘরের মতো করে স্বচ্ছ পলেথিন দ্বারা আচ্ছাদন দিতে হয়। কাঁচ কিংবা পলেথিন দ্বারা আচ্ছাদিত এরূপ ঘরকে বলা হয় ‘গ্রিন হাউস’। যে টবটিতে ক্যাকটাস রোপণ করা হবে তাতে তিন ভাগের একভাগ মাটি, একভাগ বালি এবং একভাগ পাতা পচা সার ভালোভাবে মিশিয়ে দিতে হয়। এক বছর পর পর একই নিয়মে টবের মাটি পরিবর্তন করে দিতে হয়।

ক্যাকটাস চাষ বিভিন্ন পদ্ধতিতে করা যায়। সাধারণত শিকড় থেকেই ক্যাকটাসের চারা তৈরি হয়ে থাকে। তবে ক্যাকটাসের সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য গ্রাফটিং বা জোড়কলম পদ্ধতি অনুসরণ করা আবশ্যক। দুই বা ততোধিক প্রজাতির ক্যাকটাস একত্রে জুড়ে দেয়ার কাজটিকে বলা হয় গ্রাফটিং। এর মাধ্যমে একটি ক্যাকটাস গাছ অনন্য শিল্পকর্মের রূপ ধারণ করে। যারা ক্যাকটাসের চাষ করেন তারা দিনের পর দিন একটি গাছকে কেটেছেঁটে, ঘুরিয়েবাঁকিয়ে নানা বর্ণের মিশ্রণে গ্রাফটিং করে তাকে শিল্পসমৃদ্ধ করে তোলেন। এর ফলে গাছটি হয়ে ওঠে একটি জীবন্ত শিল্পকর্ম, হয়ে ওঠে দৃষ্টিনন্দিত, অপরূপ। পোকামাকড় ও রোগজীবাণুর হাত থেকে ক্যাকটাসকে রক্ষা করার জন্য ‘একালাক্স’ দ্রবণ মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিতে হয়। এছাড়া মাঝেমধ্যে ছত্রাকনাশক ওষুধও প্রয়োগ করা আবশ্যক।

আমাদের দেশে ক্যাকটাসের জনপ্রিয়তা দিন দিনই বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে শহরের মধ্যবিত্ত পরিবারের ড্রইং রুম থেকে শুরু করে গ্রামের শিক্ষিত ও শৌখিন ব্যক্তিদের আঙ্গিনাতেও ক্যাকটাস শোভাবর্ধন করছে। সারাদেশের বিভিন্ন সরকারি এবং বেসরকারি নার্সারি থেকে ক্যাকটাসের চারা সংগ্রহ করা যাবে। তবে অন্যান্য ফুলগাছের তুলনায় ক্যাকটাসের চারার দাম কিছুটা বেশি। বেকার যুবক ও যুব মহিলারা মাত্র ৩০/৪০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করে ঘরে বসেই ক্যাকটাস চাষ করতে পারেন অতি সহজেই। এর ফলে একদিকে যেমন পাওয়া যাবে অনাবিল আনন্দ, তেমনি ঘুচবে বেকারত্ব ও আর্থিক অনটন। ঢাকার বলধা গার্ডেনে দেড় শতাধিক এবং বোটানিক্যাল গার্ডেনে দুই শতাধিক প্রজাতির ক্যাকটাস রয়েছে। তবে এগুলো শুধু প্রদর্শনের জন্য, বিক্রয়ের জন্য নয়।

তথ্য : নেট থেকে সংগৃহীত

x