যাত্রীর সঙ্গে ঝগড়া বাধিয়ে রিকশা নিয়ে পালায় তারা

ছিনতাইকারী দুই ভাই আটক

আজাদী প্রতিবেদন

বুধবার , ২৩ অক্টোবর, ২০১৯ at ৪:৫৫ পূর্বাহ্ণ
45

তারা দুই ভাই। সাথে থাকেন আরেকজন। অপরাধের বাহন তাদের রিকশা। যার যার দায়িত্ব ভাগ করা থাকে। একজন রিকশায় তাদেরই যাত্রী হিসেবে তুলেন যার কাছে বড় লাগেজ রয়েছে। রিকশা কিছুদূর যাওয়ার পর সুবিধাজনক স্থানে গিয়ে কোনো না কোনো অজুহাতে গন্তব্যে না যাওয়ার কথা বলেন চালক। শুরু হয় রিকসারোহীর সঙ্গে বাকযুদ্ধ। এরই ফাঁকে অন্য দুইজন রিকশায় থাকা লাগেজ নিয়ে চম্পট দেন। আরোহী ছুটতে থাকেন তাদের পিছু। এদিকে রিকশা নিয়ে চালক হাওয়া।
দীর্ঘদিন ধরে এ চক্রটি নগর জুড়ে অভিনব পন্থায় মালামাল নিয়ে পালিয়ে যাচ্ছিল। গত সোমবার গভীর রাতে বিআরটিসি মোড় থেকে তাদের দুইজনকে গ্রেপ্তার করে কোতোয়ালী থানার এসআই সজলের নেতৃত্বে একটি টিম। গ্রেপ্তারকৃত দুই ভাই হল বাগেরহাটের মোড়লগঞ্জ এলাকার সৈয়দ আলী শেখের ছেলে মো. শাহ আলম শেখ (৪০) ও মো. হাসান শেখ (২৮)। তৃতীয় জন জাহেদকে ধরতে অভিযান চলছে।
কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহসীন আজাদীকে বলেন, গত ১৬ অক্টোবর রেয়াজউদ্দিন বাজার থেকে মো. আমিন নামের এক ব্যবসায়ী মালামাল নিয়ে শাহ আমানত সেতু এলাকায় যাওয়ার পথে কোতোয়ালী থানা মোড়ে ছিনতাইকারী দুই ভাইয়ের সঙ্গে ঝগড়া লাগে। এসময় জাহেদ রিকশা নিয়ে সেখান থেকে মালামালসহ সটকে পড়ে। ওই ব্যবসায়ী এ ঘটনায় কোতোয়ালী থানায় একটি মামলা করেন।
আমিনের অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, তিনি রেয়াজউদ্দিন বাজার থেকে কাপড়, কসমেটিকস, ঘড়িসহ প্রায় লাখ টাকার মালামাল কিনে চন্দনাইশ যাওয়ার জন্য রিকশা নিয়ে শাহ আমানত সেতুর দিকে যাচ্ছিলেন। কোতোয়ালী মোড়ে চালক ইচ্ছে করে ঝাঁকুনি দিয়ে মালামালের একটি বস্তা রিকশা থেকে ফেলে দেয়। ওইসময় রাস্তায় থাকা দুই ব্যক্তি ওই ব্যবসায়ীর সঙ্গে ঝগড়া লাগিয়ে তাকে মারধর শুরু করে আর সেই ফাঁকে রিকশাচালক মালামাল নিয়ে সটকে পড়েন। থানায় অভিযোগের ভিত্তিতে তাদের ধরতে বিআরটিসি মোড়ে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় দুই ভাইকে গ্রেপ্তার করা গেলেও অন্যজন পালিয়ে যায়। তাকেও ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতদের জবানবন্দির ভিত্তিতে ওসি বলেন, নগরীর রেয়াজউদ্দিন বাজার, টেরিবাজার, হকার্স মার্কেটসহ বিভিন্ন পাইকারি মার্কেটের কাছে জাহেদ রিকশা নিয়ে অবস্থান করেন। মালামাল নিয়ে কোনো ব্যক্তি মার্কেট থেকে বের হলে জাহেদ তাকে নিয়ে গন্তব্যে রওনা দেন। আর শাহ আলম ও হাসান রিকশাটিকে অনুসরণ করেন। তারা স্বীকার করেছেন রিকশায় যাত্রী উঠিয়ে সুবিধাজনক জায়গায় নামিয়ে দিয়ে যাত্রীদের বিভিন্ন মালামাল ছিনতাই করতেন তারা। অনেক সময় যাত্রীদের বন্দুকের ভয় দেখিয়েও ছিনতাই করতেন। গ্রেপ্তার দুইজনের কাছ থেকে একটি দেশি এলজি ও কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর দুই ভাইয়ের বাসায় অভিযান চালিয়ে ছিনতাই করা বেশকিছু মালামাল জব্দও করা হয়েছে।
ওসি মহসিন বলেন, শাহ আলম শেখের বিরুদ্ধে নগরীর বিভিন্ন থানায় কয়েকটি মামলা আছে। বিভিন্ন সময়ে সে গ্রেপ্তার হলেও জামিনে বের হয়ে আবার একই কাজে জড়িয়ে পড়ে।

x