যমুনার অডিট টিম বেশি পেল ২৯১৪ লিটার!

৬৫ হাজার লিটার তেল চুরির চেষ্টা

ইকবাল হোসেন

বুধবার , ২১ আগস্ট, ২০১৯ at ৬:০৮ পূর্বাহ্ণ
289

যমুনা অয়েলের পতেঙ্গা গুপ্তখাল প্রধান ডিপোতে ৬৫ হাজার লিটার ফার্নেস অয়েল চুরির চেষ্টার অভিযোগ তদন্তে দায়িত্ব পাওয়া যমুনা অয়েল কোম্পানির অডিট টিম তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গিয়াস উদ্দিন আনচারীর কাছে এ প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। একটি সূত্রে জানা গেছে, যমুনার অডিট টিম ২৯১৪ লিটার ফার্নেস অয়েল বেশি পেয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে কাউকে দোষারোপ করা হয়নি। এ বিষয়ে যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গিয়াস উদ্দিন আনচারী গতকাল রাতে দৈনিক আজাদীকে বলেন, অডিট টিমের প্রতিবেদন জমা হলেও তা দেখা সম্ভব হয়নি। এদিকে, যমুনা অয়েলের গুপ্তখাল ডিপোতে চার কর্মকর্তা-কর্মচারীকে গতকাল সকালে বিপিসির প্রধান কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে বিপিসির তদন্ত দল। এ বিষয়ে তদন্তের দায়িত্বে থাকা বিপিসির ঊর্ধ্বতন মহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্য ও অপারেশন) মো. আবু হানিফ দৈনিক আজাদীকে বলেন, যমুনা অয়েলের পতেঙ্গা ডিপোর একজন ডিউটি অফিসার ও তিনজন গ্রেজারকে আমরা বিপিসি কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। আশা করছি দ্রুততম সময়ে প্রতিবেদন দাখিল করব।
অন্যদিকে, যমুনা অয়েলের অডিট টিমের জমা দেওয়া প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক যমুনার ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, ১৬ আগস্ট সকালে গুপ্তখাল ডিপোর ট্যাংকগুলোর ডিপ চার্টের (রেজিস্ট্রারে লিপিবদ্ধ) হিসেব থেকে ওইদিন দুপুরে যমুনার অডিট টিম পরিদর্শনে গিয়ে ২৯১৪ লিটার ফার্নেস অয়েল বেশি পেয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে কাউকে দোষারোপ করা হয়নি। অভিযোগ ওঠা ৬৫ হাজার লিটার গেইন (বেশি পাওয়া) হওয়ার বিষয়েও কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি। শুধু পরিদর্শনকালীন সকাল থেকে দুপুরের তারতম্যটা উল্লেখ করা হয়েছে। সকালের ডিপের চেয়ে দুপুরের ডিপ হিসেব করে অডিট টিম ২৯১৪ লিটার ফার্নেস অয়েল গেইন হয়েছে বলে তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে।
প্রসঙ্গত, এমটি পামির নামের জাহাজ থেকে গুপ্তখাল ডিপোতে খালাসের পর প্রায় ৬৫ হাজার লিটার তেল বেড়ে গেলে তোলপাড় শুরু হয়। অভিযোগ ওঠে, বেড়ে যাওয়া ফার্নেস অয়েল চোরাইভাবে বিক্রির প্রস্তুতি নিচ্ছিল একটি চক্র। অভিযোগ ওঠার সাথে সাথে ১৫ আগস্ট সরকারি ছুটির দিনে জরুরিভাবে ঊর্ধ্বতন মহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্য ও অপারেশন) মো. আবু হানিফ ও উপমহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্য ও অপারেশন) মো. জাহিদ হোসেনকে দিয়ে দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে বিপিসি।
একইদিন অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করতে যমুনা অয়েলের উপমহাব্যবস্থাপক (অডিট) মোহাম্মদ খসরূ আজাদকে প্রধান করে ম্যানেজার (অডিট) মো. হেলাল উদ্দিন ও উপব্যবস্থাপক আবুল মনছুরকে দিয়ে আরেকটি অডিট টিম যমুনা অয়েল কোম্পানি।

x