ঢাকার হাসপাতালে মারা যাওয়া নারায়ণগঞ্জ হেফাজতে ইসলামের নেতা ইকবাল হোসেনকে ‘যথাযথ চিকিৎসা’ দেয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন সংগঠনটির বিলুপ্ত কমিটির আমির জুনাইদ বাবুনগরী। গতকাল শুক্রবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এ অভিযোগ তুলে বিষয়টি খতিয়ে দেখার দাবি করেছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও রিসোর্টে হামলা, ভাঙচুর ও মহাসড়কে নাশকতার মামলার আসামি ইকবাল হোসেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছিলেন নারায়ণগঞ্জ কারাগারের জেলার শাহ রফিকুল ইসলাম।
খবর বিডিনিউজের।
ইকবাল হোসেন সোনারগাঁ উপজেলা খেলাফতে মজলিশের সভাপতি এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মসজিদের খতিব ছিলেন। শুক্রবারের বিবৃতিতে ইকবাল হোসেনের মৃত্যুতে শোক জানিয়ে হেফাজতে ইসলামের বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির সদস্য জুনাইদ বাবুনগরী বলেন, মাওলানা ইকবাল হোসেনকে গ্রেপ্তারের পর রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিল। রিমান্ডে অসুস্থ হলে তাকে চিকিৎসার জন্য হসপিটালে ভর্তি করা হয়। আমরা জানতে পেরেছি, অসুস্থ হওয়ার পরও সঠিক সময়ে তাকে যথাযথ চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়নি। কারাবন্দি অবস্থায় গতকাল হসপিটালেই তার মৃত্যু হয়েছে। বাবুনগরী বলেন, কারাবন্দি অবস্থায় অসুস্থ হলে কয়েদিকে যথাযথ চিকিৎসা সেবা দেওয়ার বিধান রয়েছে। মাওলানা ইকবাল হোসেনকে যথাযথ চিকিৎসা সেবা না দিয়ে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে কিনা সে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে কারা কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট আহ্বান করছি। হেফাজতের গ্রেপ্তার নেতাকর্মীদের মধ্যে অনেকে ‘বয়োবৃদ্ধ’ এবং কারাগারে ‘অসুস্থ হয়ে পড়েছেন’ উল্লেখ করে গ্রেপ্তারদের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন বাবুনগরী।
বৃহস্পতিবার ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেল সুপার সুভাষ ঘোষ বলেছিলেন, ইকবাল হোসেন কিছুদিন ধরে কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি ছিলেন। তিনি হার্টের সমস্যায় ভুগছিলেন। গত ১৫ মে কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে চিকিৎসার জন্য সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। হেফাজতের সাবেক যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হকের ৩ এপ্রিলের রিসোর্টকাণ্ডের পর সহিংসতায় জড়িত থাকার অভিযোগে ঢাকার জুরাইন থেকে ইকবালসহ ৪ নেতাকে ১২ এপ্রিল গ্রেপ্তার করে র্যাব। পুলিশের ওপর হামলা ও ভাঙচুরের ছয়টি মামলার আসামি ছিলেন ইকবাল হোসেন।












