মোস্তাফিজ ম্যাজিকে চ্যাম্পিয়ন রংপুরকে হারাল রাজশাহী

ক্রীড়া প্রতিবেদক

সোমবার , ১৪ জানুয়ারি, ২০১৯ at ৫:৫৬ পূর্বাহ্ণ
60

মাত্র ১৩৬ রানের সহজ লক্ষ্য। দলটিতে রয়েছে ক্রিস গেইলের মত ব্যাটিং দানব। মিঠুন, রুশো, বোপারাদের মত অভিজ্ঞরাও রয়েছেন। কিন্তু একজন মোস্তাফিজের ভেল্কিতে কুপোকাত হয়ে গেল এসব তারকারা। আর তাতে আরো একটি হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হলো চ্যাম্পিয়ন রংপুর রাইডার্সকে। আগের ম্যাচে ঢাকার বিপক্ষে জয়ে কাছকাছি থাকা অবস্থায় হেরেছিল রংপুর। আর গতকাল শেষ দিকে মোস্তাফিজের ভেল্কিতে হারতে হলো রংপুরকে। এই ম্যাচেও হাসলনা গেইলের ব্যাট। কিন্তু মোস্তাফিজ ঠিকই জ্বলে উঠলেন। তবে বোলিং বিশ্লেষণ দেখলে যে কেউ বলবেন কি এমন আহামরি বোলিং করলেন মোস্তাফিজ। ৪ ওভারে রান দিয়েছেন ১৭। উইকেট নেই একটিও। তবুও এই ম্যাচে জয়ের নায়ক মোস্তাফিজুর রহমানই। বাঁহাতি এই পেসারের শেষ দুই ওভারের দুর্দান্ত বোলিংয়ের জবাব পেল না ব্যাটসম্যানরা। মূলত তারই শেষ দিকের আগুন ঝরানো এবং বুদ্ধিদীপ্ত বোলিং এর সুবাধে রংপুর রাইডার্সের মুঠো থেকে জয় বের করে আনল রাজশাহী কিংস। বিপিএলের রোমাঞ্চকর এক লড়াইয়ে রংপুর রাইডার্সকে ৫ রানে হারিয়েছে রাজশাহী কিংস। রাজশাহীর ১৩৫ রান তাড়া করতে নেমে রংপুর থেমে যায় ১৩০ রানে। শেষ ৩ ওভারে রংপুরের প্রয়োজন ছিল ২১ রান। উইকেট ছিল ৫টি। আর তখনো উইকেটে ছিলেন পুরোপুরি সেট হয়ে যাওয়া রাইলি রুশো। সেই সহজ সমীকরণও রংপুর মেলাতে পারেনি মোস্তাফিজের বোলিং এর কারণে।
খেলার ১৮ তম ওভারে বোলিংয়ে এসে মোস্তাফিজ দেন মাত্র ৪ রান। ইসুরু উদানার করা পরের ওভার থেকে আসে আর ৮ রান। আর সে ওভারের শেষ বলে আউট হন নাহিদুল ইসলাম। শেষ ওভারে রংপুরের দরকার ছিল ৯ রান। মোস্তাফিজের প্রথম বলে রুশো নেন একরান। পরের তিন বলে ব্যাটই ছোঁয়াতে পারলেননা অভিজ্ঞ ফরহাদ রেজা। তার ব্যাট বলের নাগাল পায়নি পঞ্চম বলেও। তবে অপর প্রান্তে আর বসে থাকেননি রুশো। পড়িমড়ি দৌড়ে একটি রান আসে বাই থেকে। শেষ বলে দরকার ৭ রান। ছক্কা মারতে পারলেও ম্যাচ যেত সুপার ওভারে। যেটা আগের দিন করতে পেরেছিলেন চিটাগাং ভাইকিংসের রবি ফ্রাইলিংক। কিন্তু রুশো পারলেন না সেটা করতে। শেষ বলে এক রানের বেশি নিতে পারলেননা এই প্রোটিয়াস ব্যাটসম্যান। ফলে ৫ রানে হারতে হলো রংপুরকে। টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন রংপুরের এটি তৃতীয় পরাজয়।
অবশ্য এর আগে ফিল্ডিংয়ের সময় দ্বাদশ ওভারে রাজশাহী অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজের ‘ফেইক’ ফিল্ডিংয়ে’ (ডাইভ দিয়ে বল ধরার ভান করে ব্যাটসম্যানকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা) রংপুর পেনাল্টি থেকে পায় ৫ রান। কঠিন সমীকরণের ম্যাচে সেটির খেসারত দিতে হচ্ছিল দলকে। শেষ পর্যন্ত তাদের আফসোস করতে হয়নি মোস্তাফিজের নৈপূণ্যে। এর আগে রংপুরের ওপেনিং জুটিতে এসেছিল চমক। মেহেদী মারুফ একাদশে না থাকায় ক্রিস গেইলের সঙ্গে ইনিংস শুরু করেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। তবে সেই বাজিতে হেরে গেল রংপুর। প্রথম ওভারেই কামরুল ইসলাম রাব্বির দুর্দান্ত এক ডেলিভারি শূন্যতেই ফেরায় মাশরাফিকে। এরপর গেইল ইঙ্গিত দিয়েছিলেন ঝড়ের। রাব্বির এক ওভারেই মারেন দুটি করে চার ও একটি ছক্কা। কিন্তু সেই ওভারেই স্লোয়ার ফুল টসে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ১৪ বলে ২৩ রান কর ক্রিস গেইল। রংপুরের বিপদ টের পাওয়া যায়নি তখনও। মোহাম্মদ মিঠুন শুরু করেন প্রথম বলে ছক্কা মেরে । ফর্মে থাকা রাইলি রুশোও ছিলেন ছন্দে। দুজনের ব্যাটে এগিয়ে যাচ্ছিল রংপুর। তবে রাজশাহীকে ম্যাচে ফেরান পাকিস্তানি মোহাম্মদ হাফিজ। ৩০ রান করা মিঠুনকে ফেরানোর পর রবি বোপারাকেও আউট করেন তার অফ স্পিনে। বেনি হাওয়েল ফেরেন রান আউটের শিকার হয়ে । তবে রুশো ছিলেন বলেই ম্যাচ হেলে ছিল রংপুরের দিকে। নাহিদুলও তাকে ভাল সঙ্গ দিচ্ছিলেন । কিন্তু শেষে এসে সব গড়বড় হয়ে যায় মোস্তাফিজের সামনে পড়ে। শেষ ওভারে ফরহাদের মতো অভিজ্ঞ একজন ব্যাটসম্যান সিঙ্গেল নিয়ে রুশোকে স্ট্রাইক দেওয়ার বদলে টানা তিন বলে চাইলেন বড় শট খেলতে। কাজের কাজ হলো না। শেষ পর্যন্ত ৪৪ রানে অপরাজিত থাকা রুশো অসহায় হয়ে দেখলেন সম্ভাবনার মৃত্যু।
অথচ ম্যাচের শুরুটা রংপুরের ছিল দারুণ। বল হাতে মাশরাফি ছিলেন আবারও দুর্দান্ত। বাকিরাও করেছেন নিয়ন্ত্রিত বোলিং। মেহেদী হাসান মিরাজ ওপেন করতে নামলেও তা কাজে লাগেনি। মাশরাফির বলে শূন্য রানে আউট হয়েছেন শফিউল ইসলামের দারুণ এক ক্যাচে। আরেক ওপেনার মোমিনুল হক ১৬ বলে ১৪ রান করে স্টাম্পড হন সোহাগ গাজীর বলে। তবে তিন নম্বরে নামা সৌম্য সরকারের ব্যাটে ছিল ভালো কিছুর ইঙ্গিত। কিন্তু পূর্ণতা পায়নি সম্ভাবনা। ২টি চার ও ১টি ছক্কার সাহায্যে ১৩ বলে ১৮ করে তিনি শিকার মাশরাফির। ষষ্ঠ ওভারে রাজশাহীর রান তখন ৩ উইকেট ৩৬। এরপর ধুঁকতে থাকা রাজশাহী কিংসকে উদ্ধার করেন মোহাম্মদ হাফিজ ও জাকির হাসান। চতুর্থ উইকেটে দুজন গড়েন ৫৪ রানের জুটি। রানের গতি যদিও বেশি ছিল না, কিন্তু দলকে একটি ভাল অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন এ দুজন। ২৯ বলে ২৬ রান করে হাফিজ রান আউট হন রবি বোপারার সরাসরি থ্রোতে। এরপর সুবিধা করতে পারেননি লরি ইভান্স। টুর্নামেন্টে প্রথমবার সুযোগ পাওয়া রায়ান টেন ডেসকাট রান আউট হন একটি ছক্কা ও চারের সাহায্যে ১৪ রান করে। শেষ দিকেও আসেনি প্রত্যাশিত গতিতে রান। জাকির শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন ৩৬ বলে ৪২ রান করে। ৪ ওভারে ২২ রান দিয়ে দুটি উইকেট নিয়েছেন মাশরাফি। এরফলে টুর্নামেন্টে মাশরাফির শিকার এখন দশ উইকেট। ম্যাচ শেষে তবু হতাশ মনেই মাঠ ছাড়তে হয়েছে তাকে। উইকেট না নিয়েও ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দিয়েছেন মোস্তাফিজ। তবে ম্যান অব দা ম্যাচ হয়েছেন রাজশাহী কিংসের জাকির হাসান।

x