(মেয়েটির কোন দোষ নেই)

গোফরান উদ্দীন টিটু

বুধবার , ৩১ জুলাই, ২০১৯ at ১০:৫১ পূর্বাহ্ণ
51

মেয়েটির কোন দোষ নেই। কোন মেয়েটি? সেই মেয়েটি। কোন সে মেয়ে? সেই সে মেয়ে। হ্যাঁ আমি মেয়েটির পক্ষে। মেয়েদেরই পক্ষে । কেন? কারণ কী? কারণ একটিই, সে মেয়ে। আল্লাহর তিনটি রহমতের একটি মেয়ে। অপর দুটি বৃষ্টি ও মেহমান। আমি বিশ্বাস করি। কন্যা সন্তানের পিতা হয়েও উপলব্ধি করি কন্যা আল্লাহর কত বড় দান । নিজের মেয়েকে তাই বলি, তুমি আল্লাহর ধন, আল্লাহর দান। আজন্ম নারীদের বিশেষভাবে সম্মান করে আসছি। শৈশবে যখন কারো বিয়ে হত, নতুন বধুটিকে টুপ করে পা ছুয়ে প্রণাম করতাম যা মামা, চাচা শ্রেণির বরদের কখনও করিনি। আমার অচেতন মনে নারীই এক দেবীমূর্তি। স্বয়ং আল্লাহও মনে হয় নারীকেই বেশি ভালোবাসেন। নইলে এরা এতো দীর্ঘ হায়াত পান কী করে। পরিবারের পুরুষ কর্তাটির মৃত্যুর দীর্ঘদিন পরও দেখা যায় কর্ত্রীটি দিব্যি বেঁচে আছেন। তাই যে নারীকে ঈশ্বরের এতো ভালোবাসা তাকে আমিই বা কেন দূরে রাখি। স্বয়ং ফেরেস্তারাও যা পারেননি। আমি নারীর পক্ষপাতিত্ব কেন করছি? কেন বলছি মেয়েটি নির্দোষ, নিরপরাধ? সে কি সুন্দরি বলে? হাস্যময়ী, লাস্যময়ী বলে? এখন এমন একটা ক্রান্তিকাল চলছে যখন এক বছরের শিশু থেকে নব্বই বছরের বৃদ্ধা পর্যন্ত কেউই নিরাপদ নয় নরপশুদের কাছে। সে তিনি যেই হোন। শিক্ষক, পির, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, চালক, পালক এমনকি আপন পিতা পর্যন্তও। তাহলে সে যাবে কই? এ কোন কলিকাল? এ অবস্থায় চলুন আমরা অবশ্যই নারীর পাশে দাঁড়াই। পুরুষকে তার পাশে দাঁড়াতেই হবে। ভালোবাসতে হবে। নারীই তো কন্যা, জায়া, জননী। মায়ের জাত ।, মায়ের পায়ের নিচেই সন্তানের বেহেস্ত। মানুষ যতই আমায় ভুল বুঝুক, মন্দ বলুক- মেয়েটির কোন দোষ নেই। তা সে যতই দায়ী হোক, দোষী হোক। আসুন আমরা ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে ধর্ষিত, নির্যাতিত, নিপীড়িত, অবহেলিত নারীর পাশে দাড়াই।সে যে পেশায় আছে কর্মক্ষেত্রে, ধর্মক্ষেত্রে- সবখানেই। আসুন নারীকে সম্মান দিই। নারীরা সুখি হলে জগৎ সংসারও হবে সুখের স্বর্গ। তাকে সত্যমিথ্যার মিশেলে কেবলই দোষী করলেই চলবে কি?

x