মেহের আফরোজ (শিক্ষাব্যবস্থার বর্তমান প্রেক্ষাপট)

শনিবার , ৬ এপ্রিল, ২০১৯ at ১০:২৪ পূর্বাহ্ণ
52

শিক্ষা এবং শিক্ষক-দু’টিই পরস্পর সম্পর্কযুক্ত। কারণ, একজন শিক্ষকই পারেন শিক্ষা প্রদান করতে। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপট যেন একটু ভিন্নরকম। অর্থাৎ প্রকৃত শিক্ষায় আসলে শিক্ষার্থীরা শিক্ষিত হচ্ছে কি না,নাকি কেবল শিক্ষা অর্জনে শিক্ষিত হচ্ছে নামমাত্র-সেটাই ভাববার বিষয়। সরকারি-বেসরকারি হিসেব করলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা প্রচুর। তার মধ্যে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করার সামর্থ্য সবার থাকে না। অন্যদিকে,সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়েও প্রতিযোগিতায় সবাই পেরে উঠে না। তাই মধ্যবিত্তদেরকে উচ্চতর ডিগ্রি লাভের জন্য বেছে নিতে হয় ‘জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়’-কে। আর সেটাই যেন অভিশাপের রূপ ধারণ করে। কিছু ঘটনাই তার প্রমাণ। যেমন, কেউ কেউ অনেক পড়াশোনা করে ‘2nd class’,আবার কেউ কেউ ভাল পড়াশোনা করে ভুল লিখেও ‘First Class’। কেউ আবার অপরজন থেকে ‘Copy’ করে ‘First Class’, কেউ আবার নিজস্ব গুণে লিখেও ‘ঋধরষ’। বারবার ‘Improvement’ দেওয়া সত্ত্বেও ‘Pass’ আসে না।এর কারণ কী? তা আজ পর্যন্ত সবারই অজানা। প্রতিবারই ফলাফল প্রকাশের পর এই ধরনের অসঙ্গতিগুলো ছাত্রসমাজের নজরে আসে। অন্যদিকে, পুনঃনিরীক্ষণের কথা বললে তো ‘No Change’ নামক একটি উপন্যাস রচনা করা যাবে। শুধু ‘জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় নয়, ‘বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়’-এও করুণ দশা,যা বলার অপেক্ষা রাখে না। ফলে লাখ লাখ শিক্ষার্থী প্রতিনিয়তই এই ধরনের কর্মকাণ্ডে হয়রানি হচ্ছে, ধ্বংস হচ্ছে অনেক মেধাবীর স্বপ্ন। কেবল বলার অভাবে, প্রতিবাদ করার অভাবে এইভাবেই চলছে দিনের পর দিন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অনিয়ম আর অসঙ্গতি। নেই কোন তদারকি, নেই কোন তত্ত্বাবধান। তাই এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে আমি সকল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সদয় দৃষ্টি আরোপের অনুরোধ করছি।

x