মুহম্মদ নুরুল আবসারের গুচ্ছকবিতা

শুক্রবার , ৮ নভেম্বর, ২০১৯ at ৫:৩৯ পূর্বাহ্ণ
20

কালোবাজারী ও কৃষক

ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা ইটপাথরের শহর
ভোরের নরম রোদের প্রলেপ
একটু একটু করে বিলোচ্ছে উষ্ণতা
উত্তুরে হাওয়া কাঁপন ধরায় শীর্ণকায় বৃক্ষে।

নাইট ক্লাবে উদোম নাচের আসরে মত্ত কালোবাজারী
ফুটপাতে ধুম লেগেছে শীত নিবারণে উনুন উৎসবে
দিকে দিকে চারদিকে হিম হিম শীতলতা
অধঃপতন রাজনীতি, সংস্কৃতি ও অর্থনীতিতে।

এতোসব গ্যাঞ্জাম নেই গ্রাম বাংলায়
ধুমছে চলছে পিঠা উৎসব ঠাণ্ডা হাওয়ায়
স্বাদ নিচ্ছে তারা নানাভাবে ভাপা পিঠা আর খেজুর রসের
আর চলছে জারি সারি মারফতি গানের আসর।

কনকনে ঠাণ্ডা উপেক্ষা করে কৃষক চলেছে মাঠে
কিষাণীর উষ্ণতার চেয়ে মাঠের উর্বরতাই বড়
তরে তরে ফসল উঠাবে উঠানে কৃষক
বেঁচে থাকবে জাতি, বেঁচে যাবে মানুষ।

নাইট ক্লাবের একজন কালোবাজারীর চেয়ে
শীতার্ত মাঠের একজন কৃষকই শ্রেষ্ঠ মানুষ
কারণ কালো বাজারীরা মানুষ মারে
আর কৃষকেরা মানুষ বাঁচায়।

নিশি

নিশি রাতের নীল নেশায়
মগ্ন চৈতন্যে কে শীষ দিয়ে যায়
কার প্ররোচনায়?

মিথিলার মেঘলা কেশের মতোই
দীঘল এ নিশিরাত।
মায়াবী জোনাকীর দল এবং সুরেলা ঝিঁঝিরা
ঋতুবতী হয়ে ওঠে নিশির মাতাল মিলনে।

এমন নিশিতেই কেবল বলা যায়
আমি হবো অন্ধকারের প্রলয়
মুক্ত রাঙা সূর্য আমার চাই-চাই-ই
বুকে জাগে অনুরণন, রক্তে সুনামী ঢেউ।

কোথায় হে অন্ধকারের হনুমান?
দুর হ ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইলের সীমানা থেকে
না হয় তোমায় গিলে খাবো, পথ পাবে না পালাবার।

মিথিলার অভিমানী মুখের আদলে
এখনো ঝুলে আছে শুক্লা পক্ষের শশী
বাংলার কোন মায়ের পুত চেয়েছিল
রূপ রসহীন এমন প্রলম্বিত নিশি।

আমি

যতই আমি ভালোবাসার
হাতছানিকে উপেক্ষা করি
ততই বিশ্বাসের বৃক্ষ থেকে
ঝড়ে পড়ে নীল নীল বেদনা।

সুখময় মখমলের আড়ালেও থেকে যায়
রাশি রাশি তরঙ্গায়িত দুঃখমালা
বিশ্বাস অবিশ্বাসের দোলাচলে
দুলতে থাকে মন
দুলতে থাকে জীবন
ভেঙে চুরমার ঘনিভূত প্রেমের ইমারত।

জীবনের এই সব জটিল সমীকরণে
ধোয়াশাময় কুয়াশার আড়ালেই
উঁকি মারে রাঙ্গা প্রভাতের রাঙ্গা-আলো
আর তখনই সাইরেন বাজিয়ে গর্জন করে
প্রস্তর যুগের ঘুমিয়ে থাকা বিসুভিয়াস
ধীরে ধীরে জেগে ওঠে-
আমার ভেতরে লুকিয়ে থাকা আমি।

রিরংসাড়িত দহন

দেয়ালঘড়ির সেকেন্ডের কাঁটার মতো-
অবিরাম ঘুরছি তোমার শহরের সকল বিবর্ণ অলি গলিতে
অথচ কোথাও নেই তুমি।

ভোরের স্নিগ্ধ আলোয়, দুপুরের তপ্ত রোদে
সাঁঝের ম্রিয়মান আলোয় কিংবা সন্ধ্যায় ক্লান্ত আমি
হারিয়ে যাই ভুতুড়ে অন্ধকারে।

এইভাবে চলতে চলতে…
একদিন পেয়ে যাই তোমার ঠিকানা,
দ্বিতল বাড়ির ঝুল বারান্দায় দেখি-
তোমার দীঘল খোলা চুলের গহন অন্ধকারের সাথে
আশ্বিন রোদের নিবিড় আলিঙ্গন।

দূর থেকে বুক কাঁপানো এ দৃশ্য আমি ধারণ করি
গহীনের শত জিবি ক্যামরায়।
কারণ তুমি তো জানো
তোমার কাছে যাবার সুযোগ নেই।

এত কাছে পেয়েও দীর্ঘশ্বাসের ঝুলি নিয়ে
রিরংসাড়িত দহনে দগ্ধ হয়ে-
তোমার অজান্তে পালিয়ে আসি
আমার নিজের শহরে।

x