মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিরোধে পিছু হটতে বাধ্য হয় পাকবাহিনী

যুদ্ধদিনের কথা

মুহাম্মদ এরশাদ, চন্দনাইশ

সোমবার , ৯ ডিসেম্বর, ২০১৯ at ৫:১৭ পূর্বাহ্ণ

চন্দনাইশ উপজেলার দোহাজারী পৌরসভার মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ ইসলাম। যুদ্ধকালীন সেকশন কমান্ডার ছিলেন তিনি। ২০০৮ সালে স্বেচ্ছায় চাকরি থেকে অবসর নেন। বর্তমানে পূর্ব দোহাজারীতে একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন। তিনি শোনালেন যুদ্ধদিনের কথা। পাকবাহিনী বাঙালিদের নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞের বর্ণনা দিলেন।
তিনি দৈনিক আজাদীকে বলেন, ১৯৭১ সালে নাছিরাবাদ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট কেবিনেট ছাত্রলীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক ছিলাম আমি। তখন বয়স মাত্র ১৯ বছর। গোপনে এপ্রিল মাসের প্রথম দিকে সহপাঠী মাহাফুজুর রহমান, অনিল কান্তি বড়ুয়াসহ ৩০ জনের একটি দল ভারতের দেমাগ্রী আর্মি ক্যাম্পে যায়। সেখানে প্রায় দেড় মাস গেরিলা ট্রেনিং নিই। পরে ফেনী নদী পার হয়ে ফটিকছড়িতে প্রবেশ করে মাইজভান্ডার শরীফের দেলা মিয়ার খামারে অবস্থান নিই। সে সময় ঈদুল ফিতরের দিন ৩জন রাজাকারকে ধরে তাদের কাছ থেকে অস্ত্র কেড়ে নিয়ে রাঙ্গুনিয়ার রামপুরহাট পৌঁছি।
সেখান থেকে দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে পটিয়া উপজেলা ৭ডিসেম্বরের দিকে চন্দনাইশের বরকল হয়ে হাশিমপুর ও জামিজুরী এলাকার মধ্যবর্তী দেয়ানজিরখীল নামক পাহাড়ি অঞ্চলে অবস্থান নিই। এসময় পাকবাহিনীর চলাচল বন্ধ করতে হাশিমপুর-জামিজুরীর মধ্যখানে অবস্থিত রেলসেতু উড়িয়ে দেয়ার পরিকল্পনা করি। ইতিমধ্যে দেয়ানজিরখীল এলাকায় মুক্তিযোদ্ধাদের অবস্থানের সংবাদ স্থানীয় রাজাকারদের মাধ্যমে পেয়ে যায় দোহাজারীতে অবস্থানকারী পাকবাহিনী। পরদিন ৮ ডিসেম্বর মাগরিবের পরপরই পাকবাহিনীর সদস্যরা অতর্কিত হামলা শুরু করে। তখন পাকবাহিনীর সাথে প্রায় ৩ ঘন্টাব্যাপী সম্মুখ যুদ্ধ হয়। যুদ্ধে সাতকানিয়ার কলাউজানের সুপ্রভাস ও চরম্বা এলাকার বিমল দাশ নামে ২ জন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন।
তিনি আরো বলেন, সে সময় অমরা ছত্রভঙ্গ হয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলাম। বেঁচে থাকার আশা ছেড়ে দিয়ে প্রতিশোধ নিতে পাকবাহিনীর বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তুলি। এপর্যায়ে রাতের বেলায় পাকবাহিনীর সদস্যরা পিছু হঁটতে বাধ্য হয়। এর কিছুদিনের মধ্যেই বাংলাদেশের আকাশে বিজয়ের সু-বাতাস বইতে শুরু করে। ১৬ ডিসেম্বর চূড়ান্ত বিজয়ের দিনে লাল সবুজের পতাকা নিয়ে মিছিল সহকারে জয় বাংলা শ্লোগানে দোহাজারী সদরে পদার্পণ করি।

x