মুক্তিযুদ্ধের শব্দসৈনিক বেলাল মোহাম্মদ : জীবন ও সাহিত্য

রঞ্জন বণিক

শুক্রবার , ৫ জুলাই, ২০১৯ at ৭:১৮ পূর্বাহ্ণ
89

কবি বেলাল মোহাম্মদ ১৯৩৬ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি সন্দ্বীপ উপজেলার মুছাপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম মোহাম্মদ ইয়াকুব, মায়ের নাম মাহমুদা বেগম। দশ ভাইবোনের মধ্যে তিনি ছিলেন পঞ্চম। মুক্তিযুদ্ধের প্রথম শব্দসৈনিক বেলাল মোহাম্মদ স্বাধীনবাংলা বেতার কেন্দ্রের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা । তার শৈশব কেটেছে সন্দ্বীপে। দক্ষিণ সন্দ্বীপ হাই স্কুল থেকে তিনি মেট্রিক পাস করেন। শৈশব থেকেই তার লেখালেখির হাতেখড়ি। দশ বছর বয়সে তিনি যখন পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র ছিলেন, তারই স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্রীকে নিয়ে কবিতার পঙক্তি রচনা করে খামে ভরে ময়ূরা নামের সেই মেয়েটির বইয়ের ভিতরে গোপনে রেখে দিয়েছিলেন। বারো বছর বয়স থেকে তিনি নিয়মিত কবিতা লিখতে থাকেন–তোমার ছবি সদা আমার/হৃদি কোণে আঁকা যেন/দেখিনা বলে মনের মাঝে/তবু এত জ্বালা কেন? (কাব্যগ্রন্থ : নারীগণ, বেলাল মোহাম্মদ) ।
বেলাল মোহাম্মদ মূলত একজন কবি হলেও সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় তার বিচরণ ছিল। তিনি তার জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে নিয়ে নিরলস লিখে গেছেন। চলমান সময়কে তিনি তার কবিতা, গল্প, প্রবন্ধে নিপুণ দক্ষতায় তুলে ধরেছেন। কবিতা, গল্প, রাজনৈতিক প্রবন্ধ, রোজনামচা ছাড়াও রেডিও পাকিস্তান চট্টগ্রাম কেন্দ্রে স্ক্রিপ্ট রাইটার পদে চাকরি করার সুবাধে অনেক ফরমায়েসি লেখাও লিখেছেন তিনি । ফরমায়েসি লেখা নিয়ে তারমধ্যে প্রবল গ্লানিবোধ ছিল । চাকুরি রক্ষার প্রয়োজনে তবুও তাঁকে লিখতে হয়েছে সেসব লেখা। তার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছিল আই.এ. দ্বিতীয় বর্ষ পর্যন্ত। চট্টগ্রাম কলেজের ছাত্র থাকাকালীন তিনি ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। সাম্যবাদী রাজনীতির ভাবাদর্শে সম্পৃক্ত হবার মূল কারণ মূলত উপমহাদেশের প্রখ্যাত কমিউনিস্ট নেতা কমরেড মোজাফ্‌ফর আহমদের বাড়ি ও তার বাড়ি একই গ্রামে ছিল। সন্‌দ্বীপের মুছাপুর গ্রামে আরেক মহান বিপ্লবী জন্মগ্রহণ করেছিলেন । তিনি হলেন বীরবিপ্লবী মাস্টারদা সূর্যসেনের অন্যতম সহযোদ্ধা বিপ্লবী লালমোহন সেন। এই দুই মহান ব্যক্তির ভাবাদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে আরো অনেকের মত তিনিও কমিউনিষ্ট পার্টি অঙ্গসংগঠন ছাত্র ইউনিয়নের সক্রিয় সদস্য হন তখন। সূর্যসেনের সারথি লালমোহনকে নিয়ে তিনি “মরণজয়ী লালমোহন সেন” নামে একটি গ্রন্থও রচনা করেন।
রাজনীতিতে সক্রিয় হবার কারণে ওই সময় তিনি তৎকালিন পাক সরকারের রোষানলে পড়েন । পুলিশী হয়রানি থেকে তাঁকে রক্ষা করবার জন্য তার বড়ভাই বেলাল মোহাম্মদকে মিরসরাইয়ের আমানটোলার খানকা শরীফের পীর সুফি আব্দুল লতিফের দরগাহে রেখে আসেন। এখানে বেলাল মোহাম্মদ প্রায় নয় বৎসর কাল(১৯৫৫—১৯৬৩) অবস্থান করেন । আমানটোলার খানকায় অবস্থান কালে তিনি সুফিবাদে আকৃষ্ট হন। সাম্যবাদের রাজনৈতিক দর্শনে তিনি যে মানবতা ও মানবিক সমাজ গঠনের স্বপ্ন দেখতেন তার প্রকৃত চর্চা আমানটোলার খানকায় দেখতে ফেলেন । বেলাল মোহাম্মদের স্বধর্ম ছিল মানবতা । মানবতার সত্যিকার চর্চা তিনি সেখানে দেখতে ফেলেন । তিনি লিখেছেন আমানটোলার দরগায় মানুষে মানুষে কোন ভেদাভেদ ছিলনা। সবাই এক কাতারে বসে একই মানের খাওয়াদাওয়া করত। সুফি আব্দুল লতিফকে তিনি বাবামণি বলে ডাকতেন । খানকায় অবস্থানকালীন অভিজ্ঞতার আলোকে “আমানটোলার সুফি” নামে একটি গ্রন্থও রচনা করেন তিনি । তার মতে, প্রকৃত ধর্ম এবং ধার্মিক মানুষের যথার্থ পরিচয় ধর্মনিরপেক্ষতায় । বেলাল মোহাম্মদ চিন্তায় এবং কর্মে আপাদমস্তক ধর্মনিরপেক্ষ ব্যক্তি ছিলেন । তার কাছে মানুষের পরিচয় ছিল–মানবিক গুণাবলিতে আলোকিত জীব। তাঁর দৃষ্টিতে সব মানুষ মানবিক নয় । তিনি বিশ্বাস করতেন ধর্ম কখনো মানুষের পরিচয় নির্ধারণ করতে পারে না।
বেলাল মোহাম্মদের কর্মজীবন, সাহিত্যিকজীবন এবং রাজনৈতিক জীবন একই সময়ে ধারাবাহিক ছিল । একটিকে বাদ দিয়ে অন্যটি আলাদাভাবে আলোচনা করলে তাঁকে নিয়ে কিছু বলা বা লেখা অপূর্ণ থেকে যায় । ১৯৬৪ সালে আমানটোলার খানকা থেকে চট্টগ্রামে ফিরে এসে তিনি দৈনিক আজাদী পত্রিকার সহসম্পাদক পদে কর্মজীবন শুরু করেন। একই বছরে তিনি রেডিও পাকিস্তানের স্ক্রিপ্ট রাইটার হিসেবে যোগদান করেন । রেডিওর চাকরি নিয়মিত হলেও এটি চুক্তিভিত্তিক ছিল । ০১ এপ্রিল ১৯৬৪ থেকে ২৫ মার্চ ১৯৭১ পর্যন্ত রেডিওতে তিনি স্ক্রিপ্ট রাইটার পদে কাজ করেছেন। সেসময় কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তিনি ফিচার লিখতেন । এজন্য তার সহকর্মীরা তাঁকে ঠাট্টা করে ফিচার মাস্টার নামে ডাকতেন। চাকরির খাতিরে এটি করলেও তারমধ্যে একধরনের গ্লানিবোধ ছিল । ফরমায়েসি লেখার গ্লানি থেকে “বন্ধু লিখেছ” শিরোনামে একটি কবিতাও লিখেছিলেনঃ বন্ধু, লিখেছ ফরমায়েশের বাইরে/আজকাল কিছু লিখি নাকি/বাঁধা চাকুরের দুর্গতি কিবা হায়রে/আদেশের অনুগত থাকি।/লেখক বিকায় দাম পেয়ে বড় অল্প/দেশরাজ্যের রীতি যথা/ফরমায়শের গুণে গড়া হয় গল্প/বিরচিত হয় গীত কথা।(পংক্তিমালা–যুদ্ধপর্ব, যুদ্ধোত্তর: বেলাল মোহাম্মদ)
‘৬৯, ‘৭০ এবং ‘৭১ এর দিনগুলোতে বেলাল মোহাম্মদ রাজনীতিতে আরো বেশি সক্রিয় হয়ে পড়েন । ২৫ মার্চের কালরাতে ভয়াল ধ্বংসযজ্ঞ তাঁকে ভীষণ বিচলিত করে তোলে । তিনি ডাঃ শফি ও মুক্তিযোদ্ধা বেগম মুশতারী শফির বাসায় মুক্তিযুদ্ধের আরেক বীরসেনানী আবুল কাশেম সন্দ্বীপকে নিয়ে স্বাধীনবাংলা বেতার কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেন এবং ২৬ মার্চ ১৯৭১সালে কালুরঘাট স্টেশনে স্বাধীনবাংলা বেতার কেন্দ্র স্থাপন করেন । তিনি এবং তার অপর দশজন শব্দসৈনিক সহযোদ্ধা মুজিবনগর সরকারের পরিচালনায় স্বাধীনবাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারিত অনুষ্ঠানমালার মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদান রাখেন । সেই সময় এ কেন্দ্র থেকে প্রচারিত এম আর আখতার মুকুলের চরমপত্র মুক্তিযোদ্ধা ও সংগ্রামী জনতাকে বিশেষভাবে উজ্জীবিত করেছিল। প্রবাসী সরকার ১ জুন ১৯৭১ সালে তাঁকে বেতারের সহকারী পরিচালক পদে নিযুক্ত করে। স্বাধীনবাংলা বেতার কেন্দ্র পাহারা দেবার জন্য তিনি নিজেই তৎকালীন ক্যাপ্টেন অলির বাড়ি থেকে মেজর জিয়া ও তার প্লাটুনকে কালুরঘাট স্টেশনে নিয়ে আসেন।
নিভৃতচারী ও প্রচারবিমুখ বেলাল মোহাম্মদ কখনো খ্যাতির পিছনে ছোটেন নি। পর্দার অন্তরালে থেকে তিনি তার কাজ করেছেন নিরলস। বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র তিনিই প্রথম বেতার থেকে পাঠ করেন । পরবর্তীতে আরো অনেককে দিয়ে তিনি এটি পাঠ করান। যদিও তার নিজের হাতে করা পাঠকের তালিকায় নিজের নামটি সংযুক্ত করেননি তিনি কখনো। এ এম হান্নানের নাম এ তালিকায় প্রথমে রেখেছেন এবং মেজর জিয়ার নাম ছিল তালিকায় অষ্টমস্থানে ।
চরম আদর্শবাদী, নীতিবান, নির্লোভ, নির্মোহ চরিত্রের অধিকারী বেলাল মোহাম্মদ দালালী ও চাটুকারিতাকে প্রচণ্ড ঘৃণা করতেন। এসব থেকে সযত্নে নিজেকে দূরে সরিয়ে থাকতেন । মুক্তিযোদ্ধাদেরকে তিনি তার লেখা “মুক্তিযোদ্ধা” কবিতায় নিজের মত করে সংজ্ঞায়িত করেছেনঃ বলতে পার ইষ্টিকুটুম মুক্তিযোদ্ধা কে?/একবাক্যে রাজাকারকে ঘেন্না করে যে,/ডাইনে বাঁয়ে আলবদরকে ঘেন্না করে যে।/বলতে পার ইস্টিকুটুম মুক্তিযোদ্ধা কে?/’জয় বাংলা’ মুক্তকণ্ঠে স্লোগান ধরে যে,/…../জাত প্রতারক জামাতিদের ঘেন্না করে যে। ‘৭৫ পরবর্তী সময়ে বিএনপি সরকারের আমলে বেতারে তিনি কোণঠাসা হয়ে পড়েন। বিএনপির দেয়া টোপ গ্রহণ করলে চাকরিক্ষেত্রে অনেক উপরে উঠতে পারতেন বেলাল মোহাম্মদ । তিনি দালালি ও চাটুকারিতাকে আজীবন ঘৃণা করেছেন। আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন না কখনো তিনি। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর প্রতি আমৃত্যু অনুগত ছিলেন। তিনিই প্রথম বঙ্গবন্ধুকে শ্রেষ্ঠবাঙালি আখ্যা দিয়েছিলেন। স্বাধীনতাবিরোধীদেরকে বেলাল মোহাম্মদ ভীষণ ঘৃণা করতেন। আপসহীনতার কারণে তার প্রমোশন হয়নি। পাঁচ বছর দেশের বাইরে কাটাতে হয়েছিল তাঁকে। একই পদে থেকে ১৯৯৪ সালে তিনি চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ করেন।
বেলাল মোহাম্মদের সাহিত্যকর্ম সম্পর্কে যদি কিছু আলোকপাত না করা হয় এ লেখাটি অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। তিনি তার ৭৭ বৎসরের (জন্ম:২০ ফেব্রুয়ারি ১৯৩৬, মৃত্যু :৩০জুলাই ২০১৩) জীবনকালে মোট ৬২টি গ্রন্থ রচনা করেন। কবিতা, গল্প, নাটক (সন্দ্বীপের আঞ্চলিক ভাষায় তঝার রচিত নাটক : এক লগে মিলাইন্যা), নাটিকা, কথিকা, জীবন্তিকা, ছাড়াও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে তঝার বেশ কয়েকটি গ্রন্থ রয়েছেন। যে সকল নারীগণ তঝার জীবনে দাগ কেটেছে তাদের সবাইকে নিয়ে তিনি সাহিত্য রচনা করেছেন । তার রচিত কবিতা, গল্প, উপন্যাসে মালেকা, সেতারা, কমু এসে বারবার । কমুকে নিয়ে লিখেছেন তিনি ক্ষুদে উপন্যাস–লাল মলাট । রেডিও সিলেটে চাকরিকালীন সময়ে তিনি শিক্ষাসফরে ইন্দোনেশিয়া গমন করেছিলেন । সেই সফরের ঘটনাবলি নিয়ে লেখেন তিনি কাব্যগ্রন্থঃ কার্তিকিনিকে নিয়ে। তঝার ভাষায় এটি মূলত কবিতার রোজনামচা । এর একটি কবিতা নিম্নরূপঃ হয়তো জানেনা এরা/আমি ফুল ভালোবাসি/অন্তত গতানুগতিক অনেকের চেয়ে বেশি/হয়তো আমার বহিরাঙ্গে বিভ্রান্ত এরা (কার্তিকিনিকে দেখেঃ বেলাল মোহাম্মদ, পৃষ্ঠা-২৭) মালেকাকে নিয়েও কবিতা লিখেছেন তিনিঃ মালেকা আমার ওগো মালেকা আমার/সহসা তোমার সাথে চোখাচোখি হল জানালায়/চোখ না ফেরাতে পারি মালেকা আমার/ তোমার চাহনি বানে বক্ষ মোর বিঁধে যায়–যায়।
এছাড়াও তিনি তঝার শৈশব নিয়ে লেখেন সাকীন সন্‌দ্বীপ, আত্মজৈবনিক গ্রন্থ “কতো ঘরে ঠাঁই”সহ আরো অসংখ্য গ্রন্থাবলি । তঝার রচিত উল্লেখযোগ্য কয়েকটি গ্রন্থ হলোঃ কবিতা নয়, পর্যায়ক্রম নেই, সাকিন সন্দ্বীপ, অকাল পাত্র, শুধু মিত্রাক্ষর, পলিমাটি, স্বাধীনবাংলা বেতার কেন্দ্র, সামনে আছে মুুক্তিযুদ্ধ, আমাদের বিশেষ দিনগুলো, ছোটদের আরেক মুক্তিযুদ্ধ, মরণজী লালমোহন সেন, ছাড়াছড়ি, ছড়াও কথামালা, গল্পের সংলাপ, পংক্তিমালা–যুদ্ধপর্ব, যুদ্ধোত্তর; ২৬ মার্চ, ২৭ মার্চ; জাকার্তায় কার্তিকিনিকে, কতো ঘরে ঠাঁই, মরণ-উত্তর, আমানটোলার সুফি, স্বপ্নসাধ ক্রসবাঁধ, প্রবর্তক, যাবো কেস্টপুর, নারীগণ, উপনয়ন, নির্বাচিত কবিতা, বীরশ্রেষ্ঠদের কথা, বাঙালির মুক্তিযুদ্ধ ইত্যাদি। বাংলাসাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য ২০১১ সালে তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার ও মুুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদানের জন্য ২০১০ সালে স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করেন । স্বাধীনতা পুরস্কারটি তিনি সংরক্ষণের জন্য বেতারকে উৎসর্গ করেছিলেন।
মহান মুক্তিযুদ্ধের এই শব্দসৈনিক জন্মস্থানের প্রতি গভীর অনুরাগ ও মমত্ববোধ থেকে সন্‌দ্বীপে নিজ পৈতৃকভিটায় তারঁ সমগ্র জীবনের সঞ্চয় ব্যয় করে দেশি বিদেশি অসংখ্য বইয়ের এক বিশাল গ্রন্থাগার গড়ে তুলেছেন । এছাড়াও তিনি কমরেড মোজাফ্‌ফর আহম্মদ ও লালমোহন সেন ট্রাস্ট গঠন করেছেন । মহান মুক্তিযুদ্ধের এ সংগঠক ও শব্দসৈনিকের পারিবারিক জীবন ছিল ভীষণ বিয়োগাত্মক ! ১৯৭৩ সালে তঝার পত্নীবিয়োগ হয়। ১৯৯৮ সালে তঝার একমাত্র ছেলে আনন্দ মাত্র ৩২ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করে । এরপর তিনি ভীষণ একা হয়ে পড়েন। জীবনের শেষ দিনগুলো তিনি তঝার ছোটভাইয়ের বাসায় থেকে অতিবাহিত করেছেন। নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের প্রথম শব্দসৈনিক বেলাল মোহাম্মদের কর্মজীবন ও সাহিত্যকর্ম তুলে ধরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিশ্বাসী মানুষদের নৈতিক দায়িত্ব বলে মনে করি ।

x