মীরসরাই ও আনোয়ারায় দুই শিশুর প্রাণহানি, ইছামতিতে ডুবে যুবক নিখোঁজ

পুকুরে ডুবে মৃত্যু প্রতিদিন

.আজাদী ডেস্ক

বৃহস্পতিবার , ২৬ জুলাই, ২০১৮ at ৫:০৪ পূর্বাহ্ণ
164

পুকুরে ডুবে প্রতিদিন ঘটছে মৃত্যুর ঘটনা। গ্রামাঞ্চলে পুকুরে কিংবা পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর ঘটনা যেন সাধারণ বিষয় হয়ে ওঠছে। অভিভাবকদের অগোচরে, গোসল করতে গিয়ে কিংবা অন্য যে কোনো অসেচতনতায় হঠাৎ করেই পুকুরের পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। গতকালও জেলার মীরসরাই ও আনোয়ারায় দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। রাঙ্গুনিয়ায় নদীর পানিতে নেমে মঙ্গলবার থেকে এখনো নিখোঁজ এক তরুণ। সীতাকুণ্ডে নিখোঁজ শিশুকেও এখনো উদ্ধার করা যায়নি। নদীর পানির তোড়ে রামুতেও গতকাল দু’জনের ভেসে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এর আগের দিন বোয়ালখালীতেও মারা গেছেন একজন।

মীরসরাইয়ে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু : মীরসরাই প্রতিনিধি জানান, মীরসরাইয়ে পুকুরের পানিতে ডুবে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বুধবার বিকাল ৩টার সময় উপজেলার জোরারগঞ্জ থানাধীন ধুম ইউনিয়নের উত্তর নাহেরপুর গ্রামের উজিরআলী সওদাগর বাড়িতে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত মো. আবদুর রহমান () বাড়ির বিল্ডিংয়ের ঠিকাদার মো. নিজাম উদ্দিনের ছেলে এবং বারইয়ারহাট সামছুর নাহার নূন স্কুলের শিক্ষার্থী। বাড়ির বাসিন্দা স্কুল শিক্ষক মো. ইউনুছ মিয়া জানান, নিহতের পরিবার পাশের জনৈক জসিম উদ্দিনের নব নির্মিত বাড়িতে ভাড়া থাকত। আবদুর রহমান স্কুল থেকে ফিরে কিছুক্ষণ খেলা করে। পরে তার মা কাজের জন্য পুকুরে যায়। সাথে ছেলেও যায়। মা পুকুর থেকে ঘরে গিয়ে কিছুক্ষণ পরে ছেলেকে পুকুর পাড়ে খোঁজ করলে না পেয়ে পানিতে নেমে খুঁজতে থাকে। মায়ের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এসে পুকুর থেকে শিশুটির লাশ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। শিশুর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন স্থানীয় ইউপি সদস্য মাওলানা নুরের ছাপা। বাদ মাগরিব নিহতের জানাযা সম্পন্ন হয়।

আনোয়ারায় স্কুলছাত্রীর মৃত্যু : আনোয়ারা প্রতিনিধি জানান, আনোয়ারায় গতকাল দুপুরে জুইঁদণ্ডী ইউনিয়নের খুরুস্কুল গ্রামে পুকুরে ডুবে শারমিন আক্তার () নামে এক স্কুল ছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। দমকল বাহিনীর কর্মীরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ছাত্রীটিকে উদ্ধার করে আনোয়ারা হাসপাতালে নিয়ে আসলে কতর্ব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। সে স্থানীয় আব্দুর রহমানের কন্যা।

আনোয়ারা হাসপাতাল ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত স্কুল ছাত্রী শারমিন আক্তার স্থানীয় খুরুস্কুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। গতকাল দুপুরে সে বিদ্যালয়ের টিফিন ছুটিতে ঘরে এসে মাকে ভাত দিতে বলে পুকুরে হাতমুখ ধোয়ার জন্য গেলে অসাবধানতাবশতঃ পুকুরে পড়ে যায়। মা ভাত নিয়ে মেয়ের জন্য অপেক্ষা করতে করতে অনেক ডাকাডাকির পরও মেয়ের কোন সাড়া না পেয়ে চারিদিকে খোঁজাখুজি ও ছোটাছুটি করতে থাকে। তার শোর চিৎকারে পরে লোকজন এসে জড়ো হয়। ঘটনার খবর পেয়ে আনোয়ারা ফায়ারা সার্ভিসের উদ্ধারকর্মীরা পুকুর থেকে শারমিন আক্তারকে উদ্ধার করে আনোয়ারা হাসপাতালে নিয়ে আসার পর ডাক্তার মৃত ঘোষণা করে। এ ঘটনায় তার পরিবারে শোকের ছায়া নেমে আসে।

আনোয়ারা ফায়ার সার্ভিসের টিম লিডার লিটন বৈষ্ণব জানান, ঘটনার খবর পেয়ে খুরুস্কুল গ্রামের আব্দুর রহমানের বাড়ির পুকুর থেকে দমকল বাহিনীর লোকজন তার কন্যা শারমিন আক্তারকে উদ্ধার করে আনোয়ারা হাসপাতালে নিয়ে আসলে ডাক্তার মৃত ঘোষণা করেন।

আমাকে বাঁচাও’ বলে ইছামতীতে ডুবে গেল যুবক

রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি জানান, ‘আমাকে বাঁচাও’ বলে রাঙ্গুনিয়ার ইছামতী নদীতে ডুবে নিখোঁজ রয়েছে এক যুবক। উপজেলার পারুয়া ইউনিয়নের হাজারী বিলে প্রীতি ফুটবল খেলে ফেরার পথে ইছামতী নদীতে ডুবে এই যুবক নিখোঁজ হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে নিখোঁজের পর থেকে গতকাল বুধবার বিকাল ৫টা পর্যন্ত নিখোঁজ যুবকের খোঁজ মিলেনি। নিখোঁজ যুবকের নাম মো. ইকবাল (২০)। সে উপজেলার স্বনির্ভর রাঙ্গুনিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড পেয়ার মোহাম্মদ পাড়া এলাকার বাদশা আলমের পুত্র। ইকবাল স্বনির্ভর রাঙ্গুনিয়া ইউনিয়ন ছাত্রসেনার সহসাংগঠনিক সম্পাদক। স্থানীয় ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হলে তারা পরের দিন বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে উদ্ধারে অভিযান শুরু করে। তবে নিখোঁজের পর থেকে উদ্ধারে অভিযান চালাচ্ছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় মোহাম্মদ লোকমান হোসেন বলেন, ২৪ জুলাই বিকালে পারুয়া হাজারী বিলে এলাকার পক্ষে অন্যান্যদের সাথে একটি প্রীতি ফুটবলে অংশ নিতে এসেছিল ইকবাল। খেলা শেষে ফিরে যাওয়ার সময় ইছামতী নদী সাঁতার কেটে পার হওয়ার জন্য এক সাথে ৭ জন পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ৭ জনের মধ্যে ৬ জন সাঁতার কেটে অপর পারে উঠতে পারলেও ইকবাল নদীর মাঝপথে আটকে যায়। সেখানে সে নিজেকে বাঁচাতে হঠাৎ ‘আমাকে বাঁচাও’ বলে চেঁচিয়ে উঠে পানিতে তলিয়ে যায়। এরপর স্থানীয়রা উদ্ধারে নিজেদের চেষ্টার পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন। কিন্তু নিখোঁজের একদিন পার হলেও উদ্ধার কাজে ফায়ার সার্ভিস যোগ দিয়েছেন পরের দিন বিকাল সাড়ে ৪টায়।

এই বিষয়ে জানতে রাঙ্গুনিয়া ফায়ার সার্ভিসে যোগাযোগ করা হলে ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ দুলাল কুমার মিত্র বলেন, রাঙ্গুনিয়া ফায়ার সার্ভিসে ডুবুরী নেই। ডুবুরী পেতে চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হলেও অন্যত্র উদ্ধার কাজে ডুবুরী দল ব্যস্ত থাকায় আসতে দেরি হয়েছে।

এদিকে ছেলেকে হারিয়ে নির্বাক তার পিতামাতা। নদীপাড়ে তারা ছেলেকে পেতে ছুটে বেড়াচ্ছেন। তাকে উদ্ধারে বন্ধুদের পাশাপাশি কাজ চালাচ্ছেন এলাকার শত শত মানুষ।

x