মীরসরাইয়ে বিদ্যালয় ভাঙচুর ঘটনায় ১৪ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে মামলা, আটক ১

মীরসরাই প্র্রতিনিধি

শুক্রবার , ৮ নভেম্বর, ২০১৯ at ৪:৪২ পূর্বাহ্ণ
6

মীরসরাইয়ে বিদ্যালয় ভাঙচুর ঘটনায় হামলাকারীদের মধ্যে সাইদুল ইসলাম নামে এক শিক্ষার্থীকে আটক করেছে মীরসরাই থানা পুলিশ। গত ৬ নভেম্বর রাতে আবুতোরাব এলাকা থেকে তাকে আটক করে মীরসরাই থানার এসআই মুজাহিদুল ইসলাম। আটককৃত শিক্ষার্থী এবারের এসএসসির নির্বাচনী পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থী।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঘটনাস্থল তদন্ত করে অবশেষে অভিভাবকদের উপযুক্ত বিচারের প্র্রস্তাবের প্রেক্ষিতে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মর্জিনা আক্তারকে বাদী হয়ে অপরাধি এ ঘটনায় ৭ শিক্ষার্থীর নাম উল্লেখ করে ও আরো ৭ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মীরসরাই থানায় মামলা করেন। পুলিশ জানায় শীঘ্রই অভিযুক্তদের আটকের প্র্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া হবে।
উপজেলার সেই ৫০ শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঐতিহাসিক ট্রাজেডির আলোচিত বিদ্যালয় আবুতোরাব উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দ্বারা এমন ঘটনায় হতবাক বিদ্যালয়ের পরিচালনা সভাপতি মোঃ আলাউদ্দিন। তিনি বলেন, আমি খুবই আহত এবং লজ্জিত। তিনি বলেন, আসন্ন এসএসসির নির্বাচনী ফলাফল কার্যক্রম শেষ করে বাড়ি এসে আমার মোবাইল অফ করে ঘুমোচ্ছিলাম। আর মোবাইল খুলে শুনি বিদ্যালয়টি ভেঙ্গে চুরমার করে রেখে গেছে ঘোষিত ফলাফলে অকৃতকার্য কিছু শিক্ষার্থী। বিদ্যালয়ের প্র্রধান শিক্ষিকা মর্জিনা আক্তার বলেন, আমরা বার বার সকল শিক্ষার্থীদের কাউন্সিলিংয়ের মাধ্যমে প্র্রতিটি বিষয়ে উত্তীর্ণ হতে হবে এমন নির্দেশনা দিয়ে আসছিলাম। সরকারের নির্দেশনা পালন করতে গিয়ে এবং বিদ্যালয়ের সুনাম বৃদ্ধির চেষ্টা করতে গিয়ে অকৃতকার্য বখাটে শিক্ষার্থী কায়সার সিদ্দিকী, শুভ নাথ, সাইদুল ইসলাম, সোহেল রানা, ইমতিয়াজ উদ্দিন ও শাহীন সহ ১৪ জনের একদল উচ্ছৃংখল শিক্ষার্থী এই হামলা করে। আমরা বিদ্যালয় থেকে বিকেল ৪টায় বেরিয়ে যাবার পর প্র্রতিটি কক্ষের জানালার কাঁচ, আমার অফিস কক্ষ, বাথরুমের বেসিন, প্র্রধান শিক্ষকের বাসভবনের কাঁচ, শিক্ষক মিলনায়তনের বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করে প্র্রায় ২ লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি করে।
এই বিষয়ে বিদ্যালয়ের পরিচালনা পরিষদের অন্যতম সদস্য মোহাম্মদ হাসান জানান হামলাকারী শিক্ষার্থীরা যেহেতু কোমলমতি কিশোর তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কিছুটা সহানুভূতির সাথে অভিভাবকদের ডেকে ক্ষমা চেয়ে ক্ষয়ক্ষতি পুরন করার আহ্বান জানিয়েছেন। কিন্তু এরই মধ্যে এক অভিভাবক এমন বখাটে শিক্ষার্থীদের বিচার হওয়া উচিত বলে মত প্র্রকাশ করলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্র্রধান শিক্ষককে এই ঘটনার প্রেক্ষিতে থানায় মামলা দায়ের করে প্র্রয়োজনীয় আইনগত উদ্যোগ নিতে নির্দেশ প্র্রদান করেন।
মীরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুহুল আমিন বলেন, যেহেতু উচ্ছৃংখল শিক্ষার্থীরা কিশোর সেহেতু আমরা আইনগতভাবেই এদের আটক করে সংশোধনাগারে পাঠানোর ব্যবস্থা করবো। মীরসরাই থানার ওসি জাহিদুল কবির বলেন ইতিমধ্যে মামলা এজাহারভুক্ত হয়েছে, শীঘ্রই অভিযুক্তদেরকে আটক করে আদালতের মাধ্যমে সংশোধনাগারে প্রেরণ করা হবে।

x