মীরসরাইয়ে বাড়ছে পান চাষ

ফলন ভালো, দামও ভালো

মাহবুব পলাশ, মীরসরাই

রবিবার , ৮ ডিসেম্বর, ২০১৯ at ৬:১৬ পূর্বাহ্ণ

ভালো ফলন ও ভালো দাম পাওয়ায় দেশের বিভিন্ন স্থানের পাশাপাশি মীরসরাই উপজেলার দুটি ইউনিয়নের পান চাষীরা আবার আগ্রহ ফিরে পেয়েছে পান চাষে। এমনকি সীমান্ত এলাকায় ফেনী নদীর ওপার ভারতের সাবরুমেও ভালো চাষ হওয়ায় এপারের মীরসরাই উপজেলার করেরহাট ইউনিয়নের অলিনগর গ্রামে অনেকে পান চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছে।
একসময় উপজেলার দক্ষিণ প্রান্ত পেরিয়ে পার্শ্ববর্তী উপজেলার বারৈয়াঢালা ইউনিয়ন পানের জন্য বিখ্যাত ছিল।
এরপর ২ নং হিঙ্গুলী ইউনিয়নে শুরু হয় পান চাষ। বর্তমানে ফেনী নদী ও হিঙ্গুলী খালের অববাহিকায় সমতল ভূমিতে উদ্যোগ নিচ্ছে অনেক পানচাষী। এই অঞ্চলের পানের গুণগত মান ভালো হওয়ায় এবং এবার ভালো ফলন ও ভালো দামে হাসি ফুটেছে চাষিদের মুখে। ফেনী নদীর পাড়ে মীরসরাই উপজেলার অলিনগর গ্রাম থেকে ওপারের সাবরুমের গ্রামজুড়ে অর্থনীতির হাতছানি দিচ্ছে সারি সারি পানের বরজ। আবার বারৈয়াঢালা ও হিঙ্গুলীতে ও রয়েছে পানের অনেক ক্ষেত। চলতি মৌসুমে এখন চাষিরা বিক্রির জন্য পানের বিড়া সাজাচ্ছেন। তবে কৃষি বিভাগ থেকে কোন সহযোগিতা না পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে কৃষকদের। কোন কর্মকর্তা বা মাঠ পরিদর্শক পরিদর্শনেও আসেন না। কর্মকর্তাদের সহযোগিতার অভাবে রোগ-বালাইয়ের প্রতিকার পাচ্ছেন না চাষিরা। এতে কখনো কখনো লোকসান গুনতে হচ্ছে।
চাষিরা জানান, বিশ শতক জমিতে পান চাষে ৭০-৮০ হাজার টাকা খরচ হয়। একটি সুস্থ পান গাছ থেকে ৮০-১৪০টি পর্যন্ত পান পাওয়া যায়। মানভেদে প্রতি বিড়া পান ১০০-১৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ভালো ফলন এবং বাজারে দাম থাকলে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় হবে।
বারৈয়াহাট পানের আড়তে পান বিক্রয় করতে আসা পানচাষি সুজন পাল জানান, এখন আর পান বিক্রি করার জন্য দূরে নিতে হয় না। এই বাজারের আড়তে এসে বেপারিরা কিনে নিয়ে যায়। সাপ্তাহিক হাটের দিন পান তোলার রীতি থাকলেও পাইকারি ব্যবসায়ীরা প্রতিদিনই পান নিয়ে যাচ্ছে। পৌষ মাস পর্যন্ত এ পান সংগ্রহ চলবে।
পানের পাইকারি ব্যবসায়ী সুমন দে জানান, সমতলের বিভিন্ন জেলায় পাহাড়ের মিষ্টি পানের ব্যাপক কদর রয়েছে। ফলে মহেশখালী ও বাঁশখালীর পানের উপর নির্ভরতা অনেকাংশে কমেছে। মীরসরাই উপজেলার কৃষি সমপ্রসারণ রঘুনাথ নাহা জানান মীরসরাই উপজেলার পাহাড়ের মাটি ও আবহাওয়া পান চাষের উপযোগী। পানের পাতায় মড়কের কারণে চাষিরা ক্ষতির সম্মুখীন হয়। সঠিক পরিচর্যা করলে কৃষক বেশি লাভবান হবে। কৃষি বিভাগ অবশ্যই সকল চাষির দিকে খেয়াল রাখবে।

x