মীরসরাইয়ে বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে ড্রাগন ফল

মাহবুব পলাশ : মীরসরাই

সোমবার , ২৮ অক্টোবর, ২০১৯ at ১০:১৬ পূর্বাহ্ণ
184

বাংলাদেশের পুষ্টিকর ফলের নতুন সংযোজন হিসেবে ড্রাগন সম্প্রতি বেশ সুপরিচিত হয়ে উঠেছে। শহর পেরিয়ে পর্যায়ক্রমে গ্রামের হাটবাজারে ও এই ফল পরিচিত হয়ে দিনে দিনে সমাদৃত হবার পথে। পাশাপাশি বাণিজ্যিক ও ব্যক্তিগত বিভিন্ন পর্যায়ে শুরু হয়েছে চাষাবাদ। বর্তমানে মীরসরাই সহ চট্টগ্রামের সর্ববৃহৎ ড্রাগনফল চাষি এখন মীরসরাইয়ে।
কয়েক বছর পূর্বেও ড্রাগন ফল সম্পর্কে ধারণা ছিলো না মানুষের। প্রথমে কেউ কেউ শখের বসে এই ফলের চাষ করেন। এখন মীরসরাইয়ে অনেকটা বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে আধুনিক বিশ্বের সর্বাধুনিক ও বহুমুখী গুণে গুণান্বিত পুষ্টিকর ফলের রাজা ‘ড্রাগন’ ফল। ফলটির বৈজ্ঞানিক নাম হাইড্রোসেনাস এন্টেটাস।
জানা গেছে, পাতাবিহীন এই গাছটি ক্যাকটাসের মত দেখতে। এই গাছটিকে অনেকে ক্যাকটাস মনে করে। বাংলাদেশের আবহাওয়া জলবায়ু ড্রাগন ফল চাষের অনুকূল হওয়ায় বর্তমানে অনেকে শখের বসে ও বাণিজ্যিকভাবে এই ফল চাষে আগ্রহী হচ্ছে। অল্প জায়গায় স্বল্প খরচেই চাষ করা যায় ড্রাগন। সুস্বাদু এ ফলটি বিক্রি করেও বেশ ভালোই লাভ হয়। মীরসরাইয়েও দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে ওঠছে ড্রাগন ফলের চাষ। রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ছাড়াই ড্রাগন চাষের সুবিধায় দিন দিন আগ্রহী হয়ে উঠছে স্থানীয়রা।
জানা গেছে উপজেলার নাহার এগ্রো প্রথমে নিজেদের খাওয়ার জন্য ছোট পরিসরে চাষ করলেও বর্তমানে বাণিজ্যিকভাবে ড্রাগন চাষ করছেন পরবর্তিতে অলিনগর, সোনাপাহাড়, করেরহাট, কুমিরা ও ফটিকছড়ি প্রকল্পে ড্রাগন ফলের বাগান রয়েছে।
জানা গেছে, অনেকটা শখের বসে ড্রাগন ফলের চাষ শুরু করে বর্তমান শতভাগ সফল উক্ত প্রতিষ্ঠান। উদ্যোক্তা রাকিবুর রহমান টুটুল ড্রাগন চাষে উদ্বুদ্ধ হওয়া নিয়ে বলেন পরিবার নিয়ে থাইল্যান্ড সফরকালে এই ড্রাগন ফলটির চাষাবাদ ও পুষ্টিগুণ দেখে বাংলাদেশের আবহাওয়ায়ও চাষাবাদ সম্ভব জেনে কয়েকটি কাটিং নিয়ে আসেন। এর পর মীরসরাইয়ের সোনাপাহাড় এলাকার নাহার এগ্রো হ্যাচারির পতিত জমিতে চাষ শুরু করেন। পর্যায়ক্রমে পশ্চিম অলিনগর, সোনাপাহাড়, করেরহাট, কুমিরা ও ফটিকছড়ি প্রকল্পে চাষ করা হয়েছে। প্রতিবছর একটু একটু করে বেড়েছে বাগান। বর্তমানে তার ড্রাগনের বাগানের পরিমাণ প্রায় চার একর। বাগান বড় হওয়ার সাথে সাথে বড় হচ্ছে গাছ। তাতে প্রতিবছর বাড়ছে ফলনও। এবছর প্রায় ৩০ লাখ টাকার ড্রাগন ফল বিক্রি করেছে উক্ত প্রতিষ্ঠান।
জানা গেছে এক যুগ আগেই আমাদের দেশে বিদেশি ফল ড্রাগনের চাহিদা রয়েছে। সুপারশপগুলো চড়া দামে এসব ফল বিক্রি করতো। যেহেতু বিদেশ থেকে আমদানি করা হত, তাই ফলগুলো তাজা থাকতো না। তাছাড়া তাজা রাখার জন্য কেমিক্যাল ব্যবহার করার বিষয়টিও উড়িয়ে দেয়ার সুযোগ নেই। কোন কোন বাগানে উৎপাদিত ড্রাগন ফল হালকা মিষ্টি। যা আমদানি করা ফলের চেয়ে অনেক ভাল। বাজারে তিন ধরনের ড্রাগন ফল আছে উল্লেখ করে বলেন, এখানে পিংক কালারের ফল রয়েছে।
বর্তমানে পরীক্ষামূলকভাবে হলুদ রঙের বাগানও করেছেন। আগামী বছর থেকে হলুদ রঙের ড্রাগন ফলও বাজারজাত করার আশা প্রকাশ করে নাহার এগ্রো, আমাদের দেশের আবহাওয়া ড্রাগন চাষের উপযোগী। বাণিজ্যিকভাবে এ ফলের চাষ করে লাভবান হওয়ার সুযোগ আছে। তিনি নিজেও ড্রাগন চাষ করে লাভবান হয়েছেন। তবে একটু উঁচু জায়গায় রোপণ করতে হয়। গাছে প্রচুর পরিমাণে পানি দিতে হয়। সেখান থেকে কাটিং করে চলতি বছর ড্রাগন ফল বিক্রি করেছেন প্রায় ১১ টন।
বাণিজ্যিকভাবে ড্রাগন উৎপাদন করে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে প্রায় ৩০ লাখ টাকার ড্রাগন বিক্রি করা হয়েছে। আর এভাবেই শুধু মীরসরাই নয় চট্টগ্রামের সর্ববৃহৎ ড্রাগনফল চাষি এখন মীরসরাইয়ে।
এমন সম্ভাবনা দেখে মীরসরাই পাহাড়ে ছোট আকারে ড্রাগন বাগান শুরু করেছেন মাহবুব নামে জনৈক কৃষক। এছাড়া উপজেলার আরো অনেক স্থানে এমন ছোট উদ্যোক্তাকে ও উজ্জীবিত হতে দেখা যাচ্ছে। মীরসরা্‌ই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রঘুনাথ নাহা বলেন আমরা এই বিষয়ে উদ্যোক্তাদের সকল সহযোগিতা করতে সদা প্রস্তুত।

x