মিয়ানমার সেনার চাপে নো-ম্যান্স ল্যান্ড ছাড়তে নারাজ রোহিঙ্গারা

জাবেদ ইকবাল চৌধুরী, টেকনাফ

মঙ্গলবার , ৬ মার্চ, ২০১৮ at ৪:৪৩ পূর্বাহ্ণ
203

মিয়ানমার সেনা বাহিনীর নিয়মিত চাপেও নোম্যান্স ল্যান্ড ছাড়তে নারাজ রোহিঙ্গারা। গত ২৫ আগস্ট রাখাইনে সংঘটিত জাতিগত সমস্যা সৃষ্টির পর থেকে তুমব্রু সীমানেত্মর মিয়ানমারের কাটা তারের পাশে অবস্থান নেন তারা। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সেখানে কড়া অবস্থানে রয়েছে। এতে তুমব্রু জিরো লাইনে অবস্থান নেয়া রোহিঙ্গারা বিপাকে রয়েছে। এরা না পারছে স্বদেশে ফিরতে, না পারছে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করতে। যদিও বা বিভিন্ন বেসরকারী সংস্থা সেখানে মানবিক ত্রাণ তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে। তবে সেখানে অবস্থান নেওয়া রোহিঙ্গা দিল মোহাম্মদ, নুরুল আমিন, আমিনা বেগম, সাবেকুন্নাহারের সাথে গতকাল সোমবার বিকেলে কথা হয় এ প্রতিবেদকের। তাদের ভাষ্যমতে, প্রতিদিন দিনের বেলায় শূণ্যরেখা ছেড়ে চলে যেতে হুমকি দিচ্ছে মিয়ানমার পুলিশ। মাঝে মাঝে সেনা সদস্যরাও কাটা তারের কাছে এসে হুমকি দিচ্ছে। এরা আগে মিয়ানমারের ঢেকিবনিয়ায় গিয়ে আমাদের একটি গ্রুপের সাথে বৈঠক করার কথা বলে। এতে আমরা সাড়া দেয় নাই। কারণ হিসেবে আমরা তাদের বলেছি, বাংলাদেশে ১০ লাখের অধিক রোহিঙ্গা অবস্থান নিয়েছে। এটি আর রোহিঙ্গা কমিউনিটি ও মিয়ানমার সরকারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এখানে বাংলাদেশ, জাতিসংঘ ও আনত্মর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাথে বৈঠক করে সমস্যার সমাধান করতে হবে।

এরপর এরা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। প্রতিনিয়ত দিনে রাতে কাটাতারের প্বার্শ্বে এসে ঢিল ছুঁড়ছে। গালমন্দ করছে। প্রায় সময় ভারী অস্ত্র নিয়ে মহড়া অব্যাহত রেখেছে। এমনকি মাঝে মধ্যে গুলিও ছুড়ছে। এর ফলে বিজিবিবিজিপি’র মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে বাংলাদেশ এর কড়া প্রতিবাদ করায় কিছুটা থমকে যায় মিয়ানমার বাহিনী। এসব কারণে আমরা দারুণ উৎকণ্ঠায় আছি বর্তমানে এমনটি জানালেন রোহিঙ্গা মাঝি আরিফ। তিনি বলেন, নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে শূণ্যরেখায় চলে এসেছি। এখানে নেই পর্যাপ্ত চিকিৎসা ও শিক্ষা। এমনকি মক্তব পর্যনত্ম চলছে না এখানে। নেই বাসস্থান। বর্ষার সময় কি যে হবে সে চিনত্মায় অস্থির। সেখানেও আবার গুলির ভয়। তিনি এ ব্যাপারে বিশ্ববাসীর হসত্মক্ষেপ আশা করেন।

রোহিঙ্গা নারী সাবেকুন্নাহার বলেন, এভাবে কি মানুষ থাকে। মিয়ানমার সেনা বাহিনীর গুলির ভয়ে শূণ্যরেখা থেকে অনেকে পালিয়ে অন্য স্থানে আশ্রয় নিয়েছিলো। আমি কিন্তু শূণ্যরেখা ছাড়িনি। মরবো তবুও দেশ ছাড়বো না। এটি আমার বাপদাদার ভিটেমাটি। আমরা বাঙালি না, আমরা রোহিঙ্গা। রাখাইনা যেভাবে মিয়ানমারে নাগরিক আমরাও তাই। মিয়ানমারে আমরা মৌলিক চাহিদা প্রাপ্তি হতে বঞ্চিত। অবশ্যই রাখাইনরা যে অধিকার নিয়ে আছে, আমাদেরও একই অধিকার দিতে হবে। আমরা আমাদের বাড়িঘরে ফিরে যেতে চাই।

সোমবার দুপুরে তুমব্রু সীমানেত্ম কয়েক দফা গাড়ি যোগে মিয়ানমানর বর্ডার গার্ড পুলিশ ও সেনা সদস্যদের নিয়মিত টহল দিতে দেখা গেছে। এছাড়া পাহাড়ি স্থানের বাংকার গুলোতে মিয়ানমার সেনা বাহিনীর তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে। তবে এসময় শানত্ম ও ভারী অস্ত্র তেমনটি দেখা যায়নি বলেও জানান শূণ্যরেখার রোহিঙ্গারা। তাদের দাবি, দেশিবেদেশি গণমাধ্যমের ক্যামেরা উপস্থিতি দেখলেই এদের দূরে সরে যেতে দেখা যায়।

এ প্রসঙ্গে সম্প্রতি তুমব্রু সীমানেত্ম বিজিবিবিজিপি পতাকা বৈঠকে অংশ নেওয়া বিজিবির এক কর্মকর্তা বলেন, মিয়ানমার বর্ডার গার্ড পুলিশ বাংলাদেশ সীমানেত্ম সাংবাদিকের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেন। অবশ্য বিজিবি বাংলাদেশের সীমানেত্ম সাংবাদিকদের যাতায়াতে বাধা নেই বলে এর জবাবও দিয়েছে। এদিকে শূণ্যরেখায় অবস্থান নেয়া রোহিঙ্গাদের বিষয়ে বিজিবি ৫০ ব্যাটলিয়নের উপঅধিনায়ক মেজর কাজী মনজুরুল ইসলাম বলেন, তুমব্রু খালের ওপারে মিয়ানমারের ল্যান্ডে মূলত প্রায় ৬ হাজার রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। এরা যাতে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করতে না পারে সে ব্যাপারে বিজিাবি তৎপর রয়েছে। এ ছাড়া অপর এক প্রশ্নের জবাবে মেজর মনজুর বলেন, মিয়ানমার তাদের সীমানায় সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধি করে শূণ্যরেখায় অবস্থান নেয়া রোহিঙ্গাদের বিতাড়িত করার কৌশল গ্রহণ করেছে। আমরাও তার বিপরীত নীতি গ্রহণ করেছি। সীমানেত্মর নিরাপত্তা সুরক্ষার জন্য ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় স্থানে সিসিটিভি স্থাপন করার পাশাপাশি টহল ও আনুষাঙ্গিক কর্মতৎপরতাও যথাযথভাবে করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

x