মিলল ‘বাবার’ খোঁজ, সেই পুলিশ পুরস্কৃত

ফুটপাতে সন্তান প্রসব

আজাদী প্রতিবেদন

বৃহস্পতিবার , ১০ জানুয়ারি, ২০১৯ at ৪:৩২ পূর্বাহ্ণ
315

নগরীর আগ্রাবাদে ফুটপাতে জন্ম হওয়ায় নবজাতকের পিতা দাবি করেছে মো. ইসমাইল (৩৫) নামে এক শ্রমিক। গতকাল তিনি মা ও শিশু হাসপাতালে উপস্থিত হয়ে নবজাতক শিশুটি তার দাবি করেছে বলে জানায় পুলিশ।
এপ্রসঙ্গে ইসমাইল জানান, বার বার বাসা থেকে বেরিয়ে যাওয়ায় রোজিনাকে (মানসিক ভারসাম্যহীন নারী) রাত বিরাতে রাস্তা থেকে খুঁজে আনতে হয়। গত তিন মাস আগে বাসা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর আর তাকে বাসায় নিয়ে যাওয়া যায়নি। এরমধ্যে বাড়ির মালিক বাসা ছেড়ে দিতে বলায় নিজেও এখন স্থানীয় ল্যাঙটা ফকিরের মাজারে থাকি।
ফুটপাত থেকে নবজাতক ও মানসিক ভারসাম্যহীন মাকে উদ্ধার করা দেওয়ান হাট পুলিশ ফাঁড়ির এসআই মাসুদুর রহমান জানান, মানসিক ভারসাম্যহীন রোজিনার সন্তানের পিতা দাবি করা ইসমাইল গত ১৫ বছর আগে রোজিনাকে বিয়ে করে আমরা জানতে পারি। তবে রোজিনা মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলায় গত ৩ বছর ধরে তার সাথে কোন যোগাযোগ ছিলো না ইসমাইলের। তবে হঠাৎ করে এসে রোজিনার সদ্য ভূমিষ্ঠ হওয়া নবজাতকের দাবি করার কারণটা পরিস্কারভাবে বলা যাচ্ছে না। অর্থের লোভ একটা কারণ হতে পারে। তার আচরণ আমার কাছে অসংলগ্ন মনে হয়েছে।
এদিকে ভালো কাজের জন্য এসআই মো.মাসুদুর রহমানকে পুরস্কৃত করেছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মাহবুবুর রহমান। গতকাল দামপাড়া পুলিশ লাইনে পুলিশ কমিশনার কার্যালয়ে মানবিক কাজের জন্য মাসুদুর রহমানের হাতে পুরস্কার তুলে দেন তিনি। এসময় অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম এন্ড অপারেশন) আমেনা বেগম, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) কুসুম দেওয়ান, উপ-পুলিশ কমিশনার ফারুকুল হক ও ডবলমুরিং থানার ওসি একেএম মহিউদ্দিন সেলিম উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, গত সোমবার রাত আটটার দিকে নগরীর আগ্রাবাদ জাতিতাত্ত্বিক জাদুঘরের সামনের ফুটপাতে এক মানসিক ভারসাম্যহীন নারী সন্তান প্রসব করেন। পথচারীদের অনেকে তা দেখেও সহায়তায় এগিয়ে আসেননি। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান এসআই মাসুদ। তিনি প্রসূতি ও নবজাতককে হাসপাতালে নিয়ে যান। বেঁচে যায় মা ও শিশু। বর্তমানে তারা আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

x