মায়ার খেলা

জাহেদুল আলম

মঙ্গলবার , ১০ ডিসেম্বর, ২০১৯ at ৬:৪১ পূর্বাহ্ণ

 

 

এরা সুখের লাগি চাহে প্রেম/প্রেম মেলে না/ শুধু সুখ চলে যায়/এমনি মায়ার ছলনা/এরা ভুলে যায়, কারে ছেড়ে কারে চায়।’ বহুশ্রুত রবীন্দ্র সংগীতের একটি কলি। গানটি আবার রবীন্দ্র নৃত্যনাট্য ‘মায়ার খেলা’র সমাপ্তিতেও আছে। মায়ার খেলার প্রথম দৃশ্যে রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন, “মায়ারকুমারীগণ কুহকশক্তিপ্রভাবে মানবহৃদয়ে নানাবিধ মায়া সৃজন করে। হাসি, কান্না, মিলন, বিরহ, লজ্জা, প্রেমের মোহ এসমস্ত মায়াকুমারীদের ঘটনা। একদিন নব বসন্তের রাত্রে তাহারা স্থির করিল প্রমোদপুরের যুবকযুবতীদের নবীণ হৃদয়ে নবীন প্রেম রচনা করিয়া তাহারা মায়ার খেলা খেলিবে।”

একইভাবে স্কুল অব ওরিয়েন্টাল ডান্স মনস্থির করলো ‘মায়ার খেলা’ নৃত্যনাট্য উপস্থাপনের মাধ্যমে তারাও নাট্যামোদি দর্শকহৃদয়ে আনন্দ সঞ্চার করবে। তাইতো গত ২৫ ও ২৬ নভেম্বর সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজন করেছে ‘নৃত্যোৎসব’ এর। মায়ার খেলা ও ভরতনাট্যম উপস্থান করেছে তারা। দুইদিনব্যাপী আয়োজনটিতে সহযোগিতা করেছে ভারতীয় সহকারী হাই কমিশন, চট্টগ্রাম।

২৫ নভেম্বর মায়ার খেলা পরিবেশনের পূর্বে ছিলো উদ্বোধনী পর্ব ও আলোচনা। উদ্বোধক ও আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনার শ্রী অনিন্দ্য ব্যানার্জী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. শিরীণ আখতার, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর সুকান্ত ভট্টাচার্য্য, চট্টগ্রাম শিল্পকলা একাডেমীর সাবেক কালচারাল অফিসার মানসী দাশ তালুকদার ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় নাট্যকলা বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান ড. কুন্তল বড়ুয়া।

নৃত্যুগুরু শুভ্রা সেনগুপ্তা নির্দেশিত মায়ার খেলার আলোক পরিকল্পক শাহীনূর সরোয়ার ও সুজিত দাশ বাপ্পী, শব্দ পরিকল্পক শুভ্রা সেনগুপ্তা ও সম্পূর্ণা দাশ, পোষাক ও সাজসজ্জা পরিকল্পক সম্পূর্ণা দাশ ও সায়ন্তন দাশ।

রবীন্দ্রনাথ : নাটক ও নাট্যভিনয় প্রসঙ্গ’ প্রবন্ধে কবি বীরেন মুখার্জী ‘মায়ার খেলা’ সম্পর্কে বলেছেন, “… নারী উন্নয়নের চিন্তা করে রচনা করেন ‘মায়ার খেলা’ নাটকটি। তৎকালীন সম্ভ্রান্ত পরিবারের নারীরা এই নাটকে প্রথম অভিনয় করেন। নাটকটি সম্পর্কে ইন্দিরা দেবী উল্লেখ করেন ‘মায়ার খেলার অভিনয় তখনকার দিনে নিশ্চয় কোন একটি স্মরণীয় ঘটনা। সম্ভ্রান্ত ঘরের মেয়েরা বোধ হয় এই প্রথম সংঘবদ্ধভাবে অভিনয়ে নামেন।’ তৎকালীন সময়ে এই নাটকটি নারীদের একটি সামাজিক বিপ্লব হিসেবে চিহ্নিত।”

রবীন্দ্রনাট্যসংগ্রহ’ এর প্রথম খণ্ডের ‘সূচনা’তে উল্লেখ আছে, ‘মায়ার খেলায় গানের ভিতর দিয়ে অল্প যে একটুখানি নাট্য দেখা দিচ্ছে সে হচ্ছে এই যে, প্রমদা আপনার স্বভাবকেই জানতে পারেনি অহংকারে, অবশেষে ভিতর থেকে বাজল বেদনা, ভাঙল মিথ্যে অহংকার, প্রকাশ পেল সত্যকার নারী। মায়াকুমারীদের কাছ থেকে এই ভর্ৎসনা কানে এলএরা সুখের লাগি চাহে প্রেম, প্রেম মেলে নাশুধু সুখ চলে যায়, এমনি মায়ার ছলনা।’

দ্বিতীয় দিন ২৬ নভেম্বর পরিবেশিত হয় শুভ্রা সেনগুপ্তা নির্দেশিত ভরতনাট্যম। পুষ্পাঞ্জলি, দেবস্তুতি, আল্লারিপু, শিবস্তুতি, বর্ণম, যোগপুষ্পাঞ্জলি, পদম, কউত্তোম, তিল্লানা (ধনুশ্রী), তিল্লানা (বৃন্দাবলী সারেং) ও মঙ্গলম ; এই ক্রমানুসারে এদিন পরিবেশিত হয় ভরতনাট্যম। যথারীতি শাহীনুর সরোয়ার ও সুজিত দাশ বাপ্পীর আলোক পরিকল্পনা এবং সম্পূর্ণা দাশ ও সায়ন্তন দাশ এর পোষাক ও সাজসজ্জা পরিকল্পনায় ভরতনাট্যম পরিবেশিত হয়।

ভরতনাট্যম পরিবেশেনের পূর্বে আলোচনা পর্বে বক্তব্য প্রদান করেন প্রধান অতিথি ড. অনুপম সেন, বিশেষ অতিথি অধ্যক্ষ রীতা দত্ত, বাংলাদেশ নৃত্যশিল্পী সংস্থার সবাপতি শারমিন হোসেন, কালচারাল অফিসার মোসলেম উদ্দিন সিকদার এবং স্কুল অব ওরিয়েন্টাল ডান্স প্রধান ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সংগীত বিভাগের প্রভাষক শুভ্রা সেনগুপ্তা।

x