মাস্তানি করে নেতা হওয়ার দিন শেষ

উত্তর জেলা আ.লীগের সম্মোলনে কাদের

আজাদী প্রতিবেদন

রবিবার , ৮ ডিসেম্বর, ২০১৯ at ৪:২৪ পূর্বাহ্ণ

বিলবোর্ডে সুন্দর সুন্দর ছবি দিয়ে নেতা হওয়া যায় না মন্তব্য করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, চকচকে পোস্টারে ছবি দিয়ে কাউকে নেতা বানানো যাবে না। মাস্তানি করে, গডফাদারগিরি করে নেতা হওয়া যাবে না। এর দিন শেষ। নেতা হবে দলের নিয়ম শৃংখলা অনুযায়ী। নেতা হবে ত্যাগীরা। যারা দলের দুঃসময়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন। সুখে-দুঃখে দলের সঙ্গে যারা ছিল, তারাই হবে নেতা। গতকাল শনিবার দুপুরে নগরীর লালদীঘির মাঠে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ওবায়দুল কাদের বলেন, আমি আজকে উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে এসেছি একটি মাত্র কারণে, চট্টগ্রাম একসময় ছিলো বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার দুর্জয় ঘাঁটি। সেই চট্টগ্রাম আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনারও দুর্জয় ঘাঁটি। এই চট্টগ্রাম যেন খারাপ খবরের শিরোনাম না হয়। এই ঘাঁটিতে যে ফাটল ধরেছে সেটাকে ক্লোজ করে আওয়ামী লীগকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। এটাই প্রত্যাশা করি। এই নগরে মেট্রোরেল হবে, টানেলের কাজ চলছে, চার-ছয় লেন রাস্তা হয়েছে। আজ বাদল নেই, তাকে স্মরণ করেই বলছি, কালুরঘাটে রেল ও সড়ক সেতু হবে।
তিনি বলেন, সুশৃঙ্খল আওয়ামী লীগ চাই, সুসংগঠিত আওয়ামী লীগ চাই, সুবিধাবাদী চাই না। মৌসুমী পাখি, অতিথি পাখিদের স্থান নেই আওয়ামী লীগে। অতিথি পাখিরা সুসময়ে আসবে, দু:সময়ে চলে যাবে। ত্যাগী কর্মীদের মূল্যায়ন করতে হবে। নিজের দল ভারী করার জন্য পকেট কমিটি যারা করবে, তাদের নেতা হওয়ার কোন প্রয়োজন নেই।
রাজনীতি বীরের জন্য উল্লেখ করে আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, কাপুরুষরা কখনও সফল হতে পারে না। আজ নেতা হতে না পারলে কাল হবেন। দল ত্যাগী ও নিবেদিতদের অবশ্যই মূল্যায়ন করবে। দলের প্রতি নিবেদিতপ্রাণ পরিচ্ছন্ন ইমেজের কর্মীরা এখন নেতৃত্বে আসবে। শুদ্ধি অভিযান সফল করতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর সবকিছু নজরদারিতে আছে। কে কখন জালে আটকাবে জানি না।
তিনি দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, যারা ত্যাগ করবে, সৎ জীবন-যাপন করবে, আমাদের নেত্রী বলেন সিম্পল লিভিং হাই থিংকিং। ঠিক আছে? স্বপ্ন দেখবে বড়, কিন্তু জীবনধারণ করবে সাদাসিদে। কত টাকার দরকার জীবন-যাপনের জন্য? চাঁদাবাজি করতে হবে? চাঁদাবাজ আওয়ামী লীগের নেতা হতে পারে না। টেন্ডারবাজকে না বলুন। মাদক ব্যবসায়ীদের না বলুন। জমি দখলকারীদের না বলুন। সন্ত্রাসীদের না বলুন।
বক্তব্যের সময় চট্টগ্রামের দুই নেতার নামে মুহূর মুহূ শ্লোগান দেয়ায় বক্তব্য থামিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, এতো স্লোগান কেনো? তোমাদের স্লোগানে আমরা নেতা বানাবো ? তোমাদেরকে বলি-ঢাকা মহানগরের সম্মেলনে যাদের নামে বেশি স্লোাগান, যাদের নামে বেশি বিলবোর্ড, যাদের নামে বেশি পোস্টার, তারা একজনও সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক হয়নি। গত কয়দিনে অনেকগুলো সম্মেলন করেছি। নেতা নিয়ম অনুযায়ী হয়েছে।
তিনি বলেন, পরিস্কারভাবে বলতে চাই খারাপ লোক আওয়ামী লীগের দল ভারী করার জন্য টানবেন না। আমাদের বহু কর্মী আছে। খারাপ লোকের কোনো প্রয়োজন নেই। বুয়েটের আবরারকে যারা হত্যা করে এই কর্মীর আমাদের প্রয়োজন নেই। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে কথায় কথায় যারা কলহ করে, মারামারি করে এই কর্মীর আমাদের প্রয়োজন নেই। যারা রাজশাহীতে অধ্যক্ষকে পানিতে ফেলে দেয় এই কর্মী আমাদের কোন প্রয়োজন নেই।
বাংলাদেশ এখন নেতা উৎপাদনের বিশাল কারখানা মন্তব্য করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, এখন কর্মীর চেয়ে নেতা বেড়ে যাচ্ছে। কর্মী উৎপাদনের কারখানা কমে গেছে। ব্যানার পোস্টার লাগাতে এখন আর কর্মী পাই না। ভাড়া করা টোকাই দিয়ে লাগাতে হয়। এখন সবাই নেতা হয়ে গেছে, কর্মী কেউ নয়। সবাই নেতা হতে চায়।
মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, এই দেশ মাস্টার দা সূর্য সেনের দেশ। এই দেশ প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের দেশ। এই দেশ মাওলানা মনিরুজ্জমান ইসলামাবাদীর দেশ, এম এ আজিজের দেশ, জহুর আহমদ চৌধুরীর দেশ, এম এ হান্নানের দেশ, এম এম মান্নানের দেশ। মহিউদ্দীন চৌধুরীর দেশ। আখতারুজ্জমান বাবুর কর্ণফুলী বিদৌত সবুজ পাহাড়ের দেশ চট্টগ্রাম। এই চট্টগ্রাম যদি স্থিমিত হয় তাহলে সারা বাংলাদেশ স্থিমিত হয়ে যাবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশকে বাঁচাতে হলে আওয়ামী লীগকে বাঁচাতে হবে। এদেশের মুক্তিযুদ্ধকে বাঁচাতে হলে আওয়ামী লীগকে বাঁচাতে হবে, গণতন্ত্রকে বাঁচাতে হবে। এই দেশের উন্নয়নকে বাঁচাতে হলে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় রাখতে হবে। বাংলাদেশের অর্থনীতিকে বাঁচাতে হলে চট্টগ্রামকে বাঁচাতে হবে।
আজকের সারাদুনিয়া শেখ হাসিনার প্রশংসা করে মন্তব্য করে ওবায়দুল কাদের বলেন, তার সততা সর্বজন স্বীকৃত। আজকে বিশ্বের ৩জন সেরা রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যে একজন হলেন শেখ হাসিনা। বিশ্বের ৪জন পরিশ্রমী নেতার মধ্যে একজন শেখ হাসিনা। বিশ্বের ১০জন প্রতিভাবান নেতার মধ্যে একজন শেখ হাসিনা।
বাংলাদেশে গত চুয়াল্লিশ বছরে সাহসী নেতার নাম শেখ হাসিনা, সবচেয়ে সৎ রাজনীতিকের নাম শেখ হাসিনা। গত চুয়াল্লিশ বছরে সবচেয়ে দক্ষ প্রশাসকের নাম শেখ হাসিনা। গত চুয়াল্লিশ বছরে সবচেয়ে সফল কুটনীতিকের নাম শেখ হাসিনা। বাংলাদেশের পঁচাত্তর পরবর্তীকালে সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতার নাম শেখ হাসিনা। বাংলাদেশের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জীবন-যাপন করেন যে রাজনৈতিক নেতা, যে রাষ্ট্রনায়ক তিনিই হচ্ছেন শেখ হাসিনা। মৃত্যুকে তিনি পরোয়া করেন না। আল্লাহ ছাড়া কাউকে তিনি ভয় পান না।
তিনি বলেন, ভয়কে জয় করে অকুতোভয়ে পিতা বঙ্গবন্ধুর পুস্পিত আদর্শের পতাকা হাতে শেখ হাসিনা আজ সারাবিশ্বে সমাদৃত, প্রশংসিত। উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে আজকে শেখ হাসিনাকে নিয়ে আমরা গর্ব করি।
তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, আমরা কি নেত্রীকে ফলো করবো না? তার সততা তার সাহস থেকে শিক্ষা নেবো না? রাজনীতির শিক্ষা নেয়ার জন্য বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার চেয়ে বড় আদর্শ এদেশে আর নেই।
উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী এতে সভাপতিত্ব করেন। এরআগে সম্মেলন উদ্বোধন করেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপি।
উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এমএ সালামের সঞ্চালনায় এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট আবদুল মতিন খসরু এমপি, দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ এমপি, আওয়ামীলীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক, তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, আওয়ামী লীগের চট্টগ্রাম বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও পানিসম্পদ উপমন্ত্রী একেএম এনামুল হক শামীম, আওয়ামী লীগের ঢাকা বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, আওয়ামীলীগের উপ প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, আওয়ামীলীগের উপ দপ্তর সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রী বিশেষ সহকারী ব্যারিস্টার বিপ্ল্লব বড়ুয়া।
সম্মেলনে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট আবদুল মতিন খসরু এমপি বলেন, আওয়ামী লীগ আইনের শাসনে বিশ্বাস করে। বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনিদের বিচার স্পেশাল কোর্টে নয়, সাধারণ কোর্টে করা হয়েছে। আমরা তো তখন কোর্ট ভাংচুর করিনি। যে কোর্টেই গেছি সেই কোর্ট বিব্রত হয়েছে। বিচার শেষ করতে ৪৩ বছর লেগেছে। বিব্রতবোধ করেছে শুধু বিএনপির রাজনীতির কারণে।
আজকে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু বিএনপির এটা সহ্য হচ্ছে না।
তিনি বলেন, খালেদা জিয়া সাজাপ্রাপ্ত আসামি। দশ বছর পার হওয়ার পর বেগম জিয়ার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সময় থাকবে না। তার ছেলে তারেক জিয়া সিঙ্গাপুরের কোর্টে সাজাপ্রাপ্ত হয়েছে। কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে। তার আর বাংলাদেশে এসে রাজনীতি করা সম্ভব হবে না। তাই আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ একটি অনুভূতির নাম। বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ এদেশের ইতিহাস-ঐতিহ্যের ধারক-বাহক একটি দল। তাই এই দলের প্রতি এই দেশের মানুষ বার বার আস্থা রেখেছে। আওয়ামী লীগের উপর জনগণের আস্থা রয়েছে উল্লেখ করে মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, মানুষের ভরসার জায়গা আওয়ামী লীগ। আমরা বঙ্গবন্ধুর সৈনিক। আমি অনেক সম্মেলনে গেছি, কিন্তু চট্টলার মতো এতো সুশৃঙ্খল সম্মেলন আর কোথাও দেখিনি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ এক সময় সন্ত্রাসী রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছিল। কিন্তু শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ সন্ত্রাস ও দুর্নীতিমুক্ত দেশে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশ এখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ একটি দেশ।
গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের প্রতি বিএনপির শ্রদ্ধা নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিএনপির আইনজীবীরা আদালতের এজলাসে যে তাণ্ডব চালিয়েছে তা নজিরবিহীন। পৃথিবীর কোনো দেশে প্রধান বিচারপতির এজলাসে এ ধরনের ন্যাক্কারজনক ঘটনা মানুষ দেখেনি।
তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার জামিন শুনানি ছিল। আদালতে মেডিকেল রিপোর্ট না আসার কারণে এক সপ্তাহ সময় চেয়ে আবেদন করেছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল। আদালত মাত্র এক সপ্তাহ সময় দিয়েছেন- কিন্তু সেটা তারা সহ্য করতে পারেননি।
তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আজকে সমস্ত সূচকে এখন আমরা পাকিস্তানকে পেছনে ফেলে এগিয়ে গেছি। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীও বলেছেন। আজকে অনেক সূচকে ভারতের চেয়েও এগিয়ে গেছে দেশ। বিশ্ব ব্যাংকের প্রেসিডেন্টসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা বাংলাদেশের উন্নয়নের প্রশংসা করছেন। শুধু প্রশংসা করতে পারে না একটি দল ও একটি পক্ষ। তাদের রাজনীতির বিষয়, খালেদা জিয়ার হাঁটু ব্যথা ও খালেদা জিয়ার মামলা আর তারেক রহমানের মামলা। উন্নয়নের পথে দেশের আজকের অভিযাত্রায় তাদের গাত্রদাহ শুরু হয়েছে।
তিনি বলেন, সর্বোচ্চ আদালতে প্রধান বিচারপতির উপস্থিতিতে বিএনপি যে ধরনের হট্টগোল করেছে তা দেশের ইতিহাসে একটি কলংকজনক অধ্যায়। এ ঘটনায় দোষিদের শাস্তি হওয়া দরকার। খালেদা জিয়ার জামিন শুনানি এক সপ্তাহ পেছানোর কারণে বিএনপি যে ঘটনা ঘটিয়েছে এটি আদালতের প্রতি চরম অবজ্ঞা এবং অবমাননা। ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ। যারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে আদালত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
এতে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান রাজনীতিকদের বেচাকেনা করেছেন। জিয়া রাজনীতিকদের হাট বসিয়েছিলেন।
ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘ডাক্তারদের ঘাড়ে কয়টা মাথা-কথাটি বলে বিএনপি মহাসচিব দেশের চিকিৎসক সমাজকেই অসম্মান করেছেন। তিনি দেশের ডাক্তারদের অবজ্ঞা করেছেন। তিনি নিশ্চয়ই জানেন, ডাক্তারদের ঘাড়ে উনার, আমার মত একটি মাথা। ডাক্তারদের ঘাড়ে মাথা বেশি নাই।
আমিনুল ইসলাম আমিন বলেন, ৮ ডিসেম্বর থেকে বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকীর ১০০দিনের কাউন্ট ডাউন শুরু হচ্ছে। জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের যোগ্য উত্তরসুরী দেশরত্ন শেখ হাসিনার দক্ষ নেতৃত্বে দেশ আজ উন্ননের রোল মডেলে পরিণেত হয়েছে। সারা পৃথিবীতে আজ আমাদের প্রধানমন্ত্রীর সুনাম ছড়িয়ে পড়েছে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী সততায় সেরা, দক্ষতায় সেরা, মেধা ও যোগ্যতায় সেরা। সারাবিশ্ব প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বের গুণাবলীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ। তার গতিশীল নেতৃত্বে দেশ যখন উন্নয়নের শিখরে চলে যাচ্ছে-তখনই বিএনপি-জামাত চক্র নানাভাবে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। তাদের এই অপচেষ্টার বিরুদ্ধে আওয়ামীলীগের প্রতিটি নেতাকর্মীকে সোচ্চার থাকতে হবে।
আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও শিক্ষা উপ-মন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেন, বিএনপি এখন মিডিয়া নির্ভর দলে পরিণত হয়েছে। বিএনপির কাজ এখন শুধু প্রেস কনফারেন্স করা। প্রেস কনফারেন্স করে শুধু আওয়ামী লীগ ও সরকারের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করা।
তাদের কাজ হচ্ছে মিডিয়ায় উস্কানিমূলক বক্তব্য দেয়া। জনগণের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। মেরুদন্ডহীন এই দলের নেতা মির্জা ফখরুলের কাজ হচ্ছে মিডিয়া ডেকে অবান্তর বক্তব্য দেয়া।
তিনি বলেন,দুর্নীতিবাজ তারেক রহমানের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পাঁয়তারা করেন তারা। আওয়ামী লীগের প্রতিটি ইউনিট সংবদ্ধ হয়ে তাদের প্রতিহত করবে।
তিনি বলেন, বিএনপির কাণ্ডারী দুর্নীতির বরপুত্র তারেক রহমানকে এ দেশের মানুষ চায় না। দেশের মানুষ তারেক রহমানকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করেছে।
আওয়ামী লীগের উপ দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া বলেছেন, স্বাধীনতার ৪৯ বছরের ইতিহাসে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ছিল মাত্র ১৭ বছর। ক্ষমতায় কম সময় থাকলেও আওয়ামী লীগের জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির কারণে দেশ সমৃদ্ধির পথে এগিয়েছে।
বিপ্লব বড়ুয়া বলেন, স্বাধীনতার পর ৩০ বছর দেশ পরিচালনা করেছে স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি। কিন্তু তারা দেশের জন্য কিছু করেনি। তাই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কল্যাণ আওয়ামী লীগের হাতেই নির্ভর করছে।
তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যার নেতৃত্বে বাংলাদেশ উন্নয়নের পথে দ্রুত এগুচ্ছে। মানুষের ভোট ও ভাতের অধিকার নিশ্চিত হয়েছে। আওয়ামী লীগ বাংলাদেশকে শুধু প্রতিষ্ঠাই করেনি, মানুষ হিসেবে আমাদের যে মানবিক সত্ত্বা রয়েছে তাও বিকাশ করেছে।
অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন মহানগর আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী। মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন সিটি মেয়র ও নগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আ.জ.ম. নাছির উদ্দিন, দক্ষিণ জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, মাহফুজুর রহমান মিতা এমপি, দিদারুল আলম এমপি, খাদিজাতুল আনোয়ার সনি, রাউজান উপজেলা চেয়ারম্যান এহছানুল হায়দার চৌধুরী বাবুল, মিরসরাই উপজেলা চেয়ারম্যান জসীম উদ্দিন, সীতাকুন্ড উপজেলা চেয়ারম্যান এস.এম. আল মামুন, মো. গিয়াস উদ্দিন, ইউনুচ গনি চৌধুরী, দেবাশীষ পালিত, বেদারুল আলম চৌধুরী বেদার, জসীম উদ্দিন শাহ, মাহবুবুল রহমান রুহেল, মঞ্জুরুল আলম মঞ্জু।
সাধারণ সম্পাদকের প্রতিবেদন পাঠ করেন এম এ সালাম, শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন অভ্যর্থনা উপ কমিটির আহবায়ক অধ্যাপক মঈনুদ্দিন। শোক প্রস্তাব পাঠ করেন মহিউদ্দিন বাবলু।
সম্মেলনে উত্তর চট্টগ্রামের প্রতিটি উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন থেকে ১৫-২০ হাজারেরও বেশি নেতাকর্মীর সমাগম হয়।
দ্বিতীয় পর্বে বিকেল ৩টায় নগরের ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয় কাউন্সিলর অধিবেশন। এতে সভাপতি নির্বাচিত হন এম এ সালাম ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন শেখ আতাউর রহমান আতা।

x