মালদ্বীপকে ৬ রানে অল আউট করে ২৪৯ রানের রেকর্ড জয় মেয়েদের

ক্রীড়া প্রতিবেদক

শুক্রবার , ৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ at ৬:২৪ পূর্বাহ্ণ

এস এ গেমস ক্রিকেটে দুরন্ত গতিতে ছুটে চলছে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। টানা দুই ম্যাচে জিতে গেমসের মেয়েদের ক্রিকেট ইভেন্টের ফাইনাল নিশ্চিত করে ফেলেছিল। তবে গতকাল করল রীতিমত রেকর্ড। নিজেরা ব্যাট করতে নেমে দুজনের সেঞ্চুরিতে আড়াইশর বেশি রান করার পাশাপাশি প্রতিপক্ষতে উড়িয়ে দিয়েছে মাত্র ৬ রানে। নারী ক্রিকেটে এটি একটি বিরল রেকর্ড। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে তৃতীয় বড় জয় তুলে নিয়েছে সালমারা। এবারের এস এ গেমসের দুর্বলতম দল মালদ্বীপের বিপক্ষে অনায়াস জয়টা প্রত্যাশিতই ছিল। তবে মাঠের পারফরম্যান্স যেন ছাড়িয়ে গেল প্রত্যাশাকেও। নিগার সুলতানা ও ফারজানা হকের দুরন্ত দুই সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশ গড়ল আড়াইশ ছাড়ানো বিশাল সংগ্রহ। আর সে রান তাড়া করতে নেমে সালমা খাতুন ও রিতু মনিদের বোলিংয়ে মালদ্বীপ গুটিয়ে গেল মাত্র ছয় রানেই। এসএ গেমসে মেয়েদের ক্রিকেটে গতকাল বৃহস্পতিবার মালদ্বীপকে ২৪৯ রানে হারিয়েছে সালমা খাতুনের দল। আগের দিন নেপালকে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করেছিল বাংলাদেশ।
নেপালের পোখারায় অনুষ্ঠিত ম্যাচে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ২৫৫ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। রান তাড়া করতে নেমে ১২.১ ওভারে ৬ রানে অলআউট হয় মালদ্বীপ। বাংলাদেশের এত এত অর্জনের ম্যাচটি অবশ্য আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের রেকর্ড বইয়ে জায়গা পাচ্ছে না। কারণ এই আসরে বাংলাদেশ ও শ্রীলংকার মূল দল খেলার কথা নয় বলে এই দুই দলের ম্যাচগুলি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি মর্যাদা নেই। রঙ্গশালা স্টেডিয়ামে বাংলাদেশকে ভালো শুরু এনে দিতে পারেননি দুই ওপেনার। ৫ রান করে রান আউট হয়ে যান শামীমা সুলতানা। আর সানজিদার ব্যাট থেকে আসে ৭ রান। এর পর অবশ্য আর কোনো উইকেট হারায়নি বাংলাদেশ। দাপুটে ব্যাটিংয়ে তৃতীয় উইকেটে অবি”িছন্ন ২৩৬ রানের জুটি গড়েন নিগার ও ফারজানা। ৬৫ বলে ১৪ চার ও ৩ ছক্কায় ১১৩ রানে অপরাজিত থাকেন নিগার। ৫৩ বলে ২০ চারে ১১০ রান করেন ফারজানা। ৪ ওভারে ৩৮ রান দিয়ে ১ উইকেট পাওয়া শাম্মা আলি মালদ্বীপের সেরা বোলার।
২৫৬ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে প্রথম ওভারে রানের খাতা খোলার আগেই দুই উইকেট হারায় মালদ্বীপ। একের পর এক উইকেট হারিয়ে তারা অলআউট হয় ১২.১ ওভারে। আট ব্যাটসম্যান খুলতে পারেননি রানের খাতা। সর্বোচ্চ ২ রান আসে শাম্মার ব্যাট থেকে। অতিরিক্ত থেকেও আসে ২ রান। ৪ ওভারে ১ রান খরচায় ৩ উইকেট নেন রিতু মনি। ৩.১ ওভারে ২ রানে ৩ উইকেট সালমার। একটি করে উইকেট পান রাবেয়া খান ও নাহিদা আক্তার। নিজেদের প্রথম ম্যাচে শ্রীলংকাকে ৭ উইকেটে হারানো বাংলাদেশ পরের ম্যাচে নেপালকে হারায় ১০ উইকেটে। শুক্রবার নেপাল ও শ্রীলংকা ম্যাচের বিজয়ী দল ফাইনালে খেলবে বাংলাদেশের বিপক্ষে। সোনার পদকের লড়াই রোববার।
এবারের এস এ গেমস দিয়েই আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে অভিযান শুরু করেছে মালদ্বীপের মেয়েরা। কিন্তু শুরুতেই বড় লজ্জা পেতে হয় তাদের। যদিও মেয়েদের আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে রানের দিক দিয়ে সর্বোচ্চ ব্যবধানের জয়টি উগান্ডা নারী দলের। চলতি বছরের ২০ জুন মালির বিপক্ষে তারা জিতেছিল ৩০৪ রানে। ৩১৫ রানের টার্গেটে ব্যাটিংয়ে নেমে মালির মেয়েরা গুটিয়ে যায় মাত্র ১০ রানে। ২২ জুন তানজানিয়ার মেয়েরা এই মালিকেই হারায় ২৬৮ রানে। ২৮৬ রানের টার্গেটে ব্যাটিংয়ে নেমে মালির মেয়েরা গুটিয়ে যায় ১৭ রানে। এই তালিকায় তিন নম্বরে ওঠে এলো বাংলাদেশ। টি-টোয়েন্টির সর্বোচ্চ স্কোরের তালিকায় তিন নম্বরে উঠে এসেছে বাংলাদেশ। তাদের ওপরে কেবল উগান্ডা ও তানজানিয়া। গত অক্টোবরে লাহোরে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৭ উইকেটে ১৫২ রান ছিল এতদিন বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সংগ্রহ। এদিকে মেয়েদের আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সর্বনিন্ম দলীয় সংগ্রহে নাম লিখলো মালদ্বীপের মেয়েরা। সেদিন নেপালের বিপক্ষে ১৬ রানে অলআউট হওয়া দলটি আজ গুটিয়ে যায় ৬ রানে। চলতি বছরের ১৮ জুন মালির মেয়েরা রুয়ান্ডার মেয়েদের বিপক্ষে করেছিল ৬ রান। মালি আর মালদ্বীপ এখন একই রেকর্ডে নিজেদের নাম জড়িয়েছে। মালির মেয়েরা অবশ্য পরের দুটিতেও নাম লিখিয়েছে। সর্বনিম্ন রানের তালিকায় দুইয়ে ও তিনে তারা। উগান্ডার বিপক্ষে ১০ এবং ১১ রানে অলআউট হয়েছিল মালি। চীনের মেয়েরা ১৪ রানে অলআউট হয়েছিল আমিরাতের বিপক্ষে। মালি ১৪ রানে আরও একবার অলআউট হয়েছিল উগান্ডার মেয়েদের বিপক্ষে। কদিন আগে ১৬ রানে নেপালের বিপক্ষে মালদ্বীপের মেয়েরা অলআউট হয়। তানজানিয়ার বিপক্ষে মালি অলআউট হয়েছিল ১৭ রানে।

x