মার্কিনিদের মারলে সোলেমানির পরিণতি ভোগ করতে হবে

যুক্তরাষ্ট্রের হুশিয়ারি

শুক্রবার , ২৪ জানুয়ারি, ২০২০ at ৫:১৮ পূর্বাহ্ণ
159

ড্রোন হামলায় নিহত কাসেম সোলেমানির উত্তরসূরী যদি মার্কিনিদের মারার একই পথ অনুসরণ করেন তাহলে তাকেও নিহত ইরানি কমান্ডারের পরিণতি ভোগ করতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ইরান বিষয়ক বিশেষ দূত ব্রায়ান হুক।
সুইজারল্যান্ডের দাভোসে আরবি ভাষার দৈনিক আশরাক আল-আওসাতকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীর ওপর ইরানঘনিষ্ঠ মিলিশিয়াদের ধারাবাহিক হামলার পেছনে সোলেমানিই মূল পরিকল্পক ছিলেন বলে ওয়াশিংটন অভিযোগ করে আসছে।
ছয় জাতি পরমাণু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বেরিয়ে যাওয়ার পর থেকে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে উত্তেজনার পারদ চড়ছিল; এরই এক পর্যায়ে চলতি মাসের শুরুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডেনাল্ড ট্রাম্প সোলেমানির ওপর ড্রোন হামলার নির্দেশ দেন।
মধ্যপ্রাচ্যে তেহরানের প্রভাব বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখা কুদস বাহিনীর কমান্ডার নিহতের প্রতিক্রিয়ায় ইরাকের দুটি সামরিক ঘাঁটির মার্কিন স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় তেহরান; যদিও তাতে কোনো মার্কিন সেনা নিহত হয়নি বলে দাবি পেন্টাগনের। খবর বিডিনিউজের।
সোলেমানির মৃত্যুর পরপরই ইরান কুদস বাহিনীর ডেপুটি কমান্ডার ইসমাইল ঘানিকে দেশটির বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর বিদেশি শাখাটির নতুন প্রধান নিযুক্ত করে। দায়িত্ব নিয়ে নতুন কমান্ডার ঘানিও সোলেমানির দেখানো ‘আলোকজ্জ্বল পথেই’ হাঁটার কথা জানিয়ে মার্কিন বাহিনীকে মধ্যপ্রাচ্য ছাড়া করাই ‘মূল লক্ষ্য’ বলে ঘোষণা করেন।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পের ‘মার্কিনি কিংবা মার্কিন স্বার্থের উপর আঘাতের ধ্বংসাত্মক প্রতিক্রিয়া দেখানোর’ কথাও স্মরণ করিয়ে দেন ইরান বিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের এ বিশেষ দূত। তিনি বলেন, এটা কোনো নতুন হুমকি নয়। প্রেসিডেন্ট সবসময় বলে আসছেন যে মার্কিন স্বার্থ সুরক্ষায় তিনি সবসময়ই ধ্বংসাত্মক প্রতিক্রিয়া দেখাবেন। আমার ধারণা, ইরানের শাসকরা এখন বুঝেছে যে মার্কিনিদের আক্রমণ করে পার পাওয়া যাবে না।
ছয় বিশ্বশক্তির সঙ্গে ইরানের স্বাক্ষরিত পরমাণু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ২০১৮ সালে বেরিয়ে গিয়ে তেহরানের ওপর আগের সব নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল ও তাদের তেল বিক্রিতে একের পর এক বাধা সৃষ্টি করায় দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও বিধিনিষেধ তেহরানের অর্থনীতিকেও বড় ধরনের সংকটের মুখে ফেলে।
ডিসেম্বরে ইরাকে মার্কিন ঘাঁটিতে রকেট হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের এক ঠিকাদারের মৃত্যুর পর ওয়াশিংটন ওই হামলার জন্য ইরানঘনিষ্ঠ মিলিশিয়াদের দায়ী করে ও তাদের ঘাঁটিতে বিমান হামলা চালিয়ে অন্তত ২৫ মিলিশিয়া যোদ্ধাকে হত্যা করে। মিলিশিয়া বাহিনীর সদস্যরা ওই ঘটনার পাল্টায় বাগদাদের মার্কিন দূতাবাস দুইদিন অবরোধ করে রাখলে ট্রাম্প সোলেমানিকে হত্যায় ড্রোন হামলার নির্দেশ দেন বলে রয়টার্স জানিয়েছে।