মারধরের পর আতংকিত গৃহকর্মী যা করল

আজাদী প্রতিবেদক

বুধবার , ২৪ এপ্রিল, ২০১৯ at ১০:১৭ পূর্বাহ্ণ
2133

নগরীর কাজির দেউড়িতে একটি বহুতল আবাসিক ভবনের তিনতলার কার্নিশে আটকা এক শিশু গৃহকর্মীকে নিয়ে তুলকালাম কাণ্ড ঘটেছে। গতকাল (মঙ্গলবার) সাড়ে চার টার দিকে এস এস খালেদ রোডের ‘সানমার এলভেরা’ ভবনে এ ঘটনা ঘটে। পরে কবিতা রানি (১১) নামের ওই শিশুকর্মীকে স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে। সে ওই ভবনের ষষ্ঠতলায় ‘বি-৪’ ফ্ল্যাটের প্রকৌশলী রাসেল বড়ুয়ার বাসায় কাজ করতো।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ছোট্ট মেয়ে শিশুটি বাসার কিচেনের পাশ দিয়ে বেলকনি দিয়ে ষষ্ঠ তলা থেকে ডিশ ও ইন্টারনেট ক্যাবল বেয়ে তিন তলার কার্নিশে নেমে আটকে যায়। এসময় শিশুটি আতংকিত হয়ে কার্নিশে দাঁড়িয়ে থাকে। আশেপাশের উৎসুখ মানুষজনও ভবনটির সামনে ভিড় করে। এসময় কয়েক তরুণ ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে বিষয়টি জানায়। এসময় উপর তলার রেলিংয়ে শাড়ি বেঁধে রুবেল নামের এক তরুণ কার্নিশে উঠে শিশুটিকে উদ্ধার করে। পরে কোতোয়ালী থানার টহল টিম ও ফায়ার সার্ভিসের দুটি গাড়ি ঘটনাস্থলে আসে।
উদ্ধারের পর কবিতা রানি তার হাতের ফুলা অংশ দেখিয়ে সাংবাদিকদের বলে, বাসার গৃহকত্রী সকালে তাকে মারধর করেছে। এ কারণে সে পালিয়ে যাওয়ার জন্য সামনের দরজা বন্ধ থাকায় বেলকনি দিয়ে বের হয়েছে। সে তার পিতার নাম সুখস্মরণ জলদাশ, বাড়ি রামপুরা জলদাশ পাড়া, চকরিয়া বলে জানায়। এসময় কোতোয়ালী পুলিশের এস আই মো. মোস্তফা মেয়েটিকে হেফাজতে নিয়ে গৃহকর্তার বাসায় নিয়ে যান। এসময় গৃহকত্রী উপস্থিত সাংবাদিক ও পুলিশের উপর ক্ষেপে যান। মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে রাসেল বড়ুয়ার মা অপর্ণা বড়ুয়া সাংবাদিকদের বলেন, ‘ছেলে, বউমা ও আমি থাকি এ ফ্ল্যাটে। বউমা অসুস্থ (প্রেগন্যান্ট) থাকায় তার সুশ্রুষার জন্য এক পরিচিত লোকের মাধ্যমে মেয়েটিকে রাখা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘মেয়েটি এসেছে মাত্র ৫ দিন হলো। তাকে অনেক আদর-যত্ন করি। দুপুরেও একসাথে টেবিলে খাইয়েছি। তাকে কোন মারধর করা হয়নি। সে ভোর পাঁচটায় বাসা থেকে বের হয়ে গিয়েছিল। দারোয়ানরা তাকে ধরে আনে। দুপুরে আমরা যখন সবাই ঘুমিয়ে ছিলাম, তখন কাউকে না জানিয়ে সে বেলকনি দিয়ে বের হতে চেয়েছে।’
চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারি পরিচালক পূর্ণচন্দ্র মুৎসুদ্দি বলেন, ‘আমরা খবর পেয়ে আমাদের উদ্ধারকারী দল পাঠিয়েছি। আমিও ঘটনাস্থলে গিয়েছি। তবে এর আগে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়েছে।’
এ ব্যাপারে কোতোয়ালী থানার ওসি মো. মহসিন দৈনিক আজাদীকে বলেন, ‘আমরা শিশুটিকে আমাদের হেফাজতে নিয়েছি। তার মা-বাবাকে খবর দেওয়া হয়েছে। তারা আসলে আমরা পরবর্তী ব্যবস্থা নেব।’