মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, সড়ক দুর্ঘটনায় নিঃস্ব হওয়া পরিবারগুলোর দায়িত্ব নিন

রবিবার , ২৪ মার্চ, ২০১৯ at ৬:৩৬ পূর্বাহ্ণ
32

সড়ক দুর্ঘটনা একটি পরিবারের স্বপ্নকে ভেঙে তছনছ করে দেয়। একটি পরিবারে বছরের পর বছর ধরে তিল তিল করে যে স্বপ্ন, আশা-আকাঙ্ক্ষা গড়ে ওঠে তা কিছুক্ষণের দুর্ঘটনার মধ্য দিয়ে চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যায়। তাই সড়ক দুর্ঘটনাকে সাধারণ দুর্ঘটনা বলা যায় না। সড়ক দুর্ঘটনায় দেশে প্রতিনিয়ত বহু তাজা প্রাণ ঝরে যাচ্ছে। আহত হচ্ছে অসংখ্য নিরীহ মানুষ। অনেকে আবার পঙ্গুত্বও বরণ করছে সড়ক দুর্ঘটনায়। সড়ক দুর্ঘটনার ফলে শুধুমাত্র একটি মানুষের মৃত্যু ঘটে না। পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তির মৃত্যুর ফলে পরিবারটি পথে বসে যায়। তাই সড়ক দুর্ঘটনা থেকে কীভাবে নিষ্কৃতি পাওয়া যায় এখন আমাদের এ বিষয়ে গভীরভাবে ভাবতে হবে। সড়ক দুর্ঘটনা মূলত যানবাহন চালকের অসতর্কতার কারণে হয়ে থাকে। যানবাহন চালকের যেসব অসতর্কতার কারণে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে তা হলো- ১. যানবাহন চালক যানবাহন চালানোর সময় মোবাইলে কথা বললে, ২. চোখে ঘুম নিয়ে গাড়ি চালালে ৩. নেশাগ্রস্ত অবস্থায় গাড়ি চালালে ৪. সতর্ক না থাকলে ৫. গাড়ি চালানোর অভিজ্ঞতা না থাকলে এবং সড়ক ত্রুটিপূর্ণ ও প্রশস্ত না হলে ইত্যাদি। প্রধানত এই ছয়টি কারণে সড়ক দুর্ঘটনা অহরহ ঘটে থাকে। গাড়ির ফিটনেস সমস্যা থাকলেও সড়ক দুর্ঘটনা হয়ে থাকে। তাই এসব বিষয়ে যানবাহন চালকদের সতর্ক করে দিতে হবে। দুর্ঘটনা এড়াতে যানবাহন চালকদের সতর্কতা ও সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি। চালকরা সতর্ক থাকলে সড়ক দুর্ঘটনার মতো ভয়াবহ বিপদ থেকে অনেক মানুষ মুক্তি পাবে। অদক্ষ, অযোগ্য, অনভিজ্ঞ, প্রশিক্ষণবিহীন লোকদের লাগামহীনভাবে লাইসেন্স দেওয়াও প্রতিনিয়ত সড়ক দুর্ঘটনার বড় কারণ। অদক্ষ আনাড়ি চালকদের কারণেই বেশির ভাগ দুর্ঘটনা ঘটছে। সড়ক দুর্ঘটনার ফলে বেঘোরে মৃত্যুর কারণে বহু পরিবার নিঃস্ব হয়ে পথে বসে যায়। এসব পরিবারকে সরকারের পক্ষ থেকে হয়তো কিছু টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়। এই সামান্য ক্ষতিপূরণ দিয়ে তো তাদের স্বজন হারানোর বেদনার অবসান ঘটানো যাবে না। ক্ষতিপূরণের এই অর্থ তাদের সারাজীবন থাকবে না। ফলে একসময় তাদের নিঃস্ব হয়ে পথে বসে যেতে হবে। তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানাচ্ছি যে, তাৎক্ষণিক ক্ষতিপূরণ না দিয়ে এসব পরিবারের সারাজীবনের ব্যয়ভারের দায়িত্ব নিন। এর ফলে সেসব পরিবারের দারিদ্র্যের চরম কষ্ট লাঘব হবে। তারা দু’বেলা দু’মুঠো খাবার খেতে পারবে। এসব পরিবারের সন্তানরা আপনার দেওয়া অর্থ দিয়ে লেখাপড়া করে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে পারবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, স্বজন হারানোর বেদনা ও কষ্ট আপনার চেয়ে কেউ বেশি উপলব্ধি করতে পারবে না। ১৯৭৫ সনের ১৫ আগস্ট ইতিহাসের মর্মন্তুদ-পৈশাচিক ঘটনায় আপনি আপনার মা-বাবাসহ সবাইকে হারিয়ে এখনও সেই যন্ত্রণা বয়ে বেড়াচ্ছেন। তাই আপনার প্রতি বিনীত অনুরোধ, সড়ক দুর্ঘটনাসহ নানা দুর্ঘটনায় যেসব পরিবার প্রতিনিয়ত নিঃস্ব হয়ে পড়ছে, আপনিই পারেন তাদের পাশে দাঁড়াতে। আপনার মমতার হাতের স্পর্শে এই অসহায় পরিবারগুলো ঘুরে দাঁড়াতে পারে। পেতে পারে নবজীবন।
নূরতাজ তাফহিমা খান, শিক্ষার্থী, অপর্ণাচরণ সিটি কর্পোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, চট্টগ্রাম।

x