মাদ্রিদে বাংলাদেশ এসোসিয়েশনের উৎসবমুখর ঈদ পুনর্মিলনী

কবির আল মাহমুদ, স্পেন থেকে

শনিবার , ৬ জুলাই, ২০১৯ at ৮:৫৪ অপরাহ্ণ
61

প্রবাসের কর্মব্যস্ততার মাঝে গ্রীষ্মের ছুটির শেষে বাড়তি ঈদ আনন্দের সঙ্গে সবারই মনে ইচ্ছে জাগে নিজের এবং পরিবার আত্মীয়-স্বজনকে নিয়ে সমুদ্র-পাহাড়, খোলা আকাশ আর বাতাস উপভোগ করতে। তা যদি হয়ে উঠে ঘড়ির কাঁটার সাথে সময়কে মেনে চলা প্রবাসী বাংলাদেশীদের সংগঠন বাংলাদেশ এসোসিয়েশন ইন স্পেনের উদ্যোগে সেটি হয়ে উঠে আরো উৎসবমুখর ও আনন্দের।

গত ২ জুলাই মঙ্গলবার স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদের অদূরে প্রকৃতির নৈসর্গিক সৌন্দর্যে মোড়া পাহাড় আর ফলের আচ্ছাদিত প্রাকৃতিক নয়নাভিরাম রাজ্য কাফ্রিয়ায় বাংলাদেশ এসোসিয়েশন ইন স্পেনের উদ্যোগে দিনব্যাপী আয়োজন করা হয় বার্ষিক বনভোজন ও ঈদ পুনর্মিলনী।

সকালে মাদ্রিদ শহর থেকে ৮টি বাস এবং কয়েকটি ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে একসঙ্গে বনভোজনের নির্ধারিত স্থানে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু হয়। পথিমধ্যে সবাইকে সকালের নাশতা পরিবেশন করা হয়। বেলা সাড়ে ১২টায় বাস গন্তব্যস্থানে পৌঁছালে সেখানে প্রবাসীদের সাথে যোগ দেন স্পেনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হাসান মাহমুদ খন্দকার, দূতাবাসের মিনিস্টার এন্ড হেড অভ দ্যা চেঞ্চারি হারুন আল রশিদ, কমার্শিয়াল কাউন্সিলর মোহাম্মাদ নাভিদ সফিউল্লাহ।

এসময় রাষ্ট্রদূত হাসান মাহমুদ খন্দকার প্রবাসীদের উদ্দেশে তার শুভেচ্ছা বক্তব্যে বলেন, ‘নবনির্বাচিত বাংলাদেশ এসোসিয়েশনের এমন আয়োজন দেখে আমি অভিভূত। এখানে দাঁড়িয়ে মনে হচ্ছে না যে আমি দেশের বাইরে আছি। মনে হচ্ছে, আমি বাংলাদেশের কোথাও আছি। প্রবাসীদের এমন মিলনমেলা আমাকে মুগ্ধ করেছে।’ প্রবাসে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে ব্যক্তিস্বার্থের উর্ধ্বে উঠে দেশের স্বার্থে কাজ করতে প্রবাসীদের প্রতি আহ্বানও জানান রাষ্ট্রদূত।

প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যের লেক আর সবুজ পাহাড় ঘেঁষে বাংলা ভাষাভাষীদের কলকাকলিতে মুখরিত হয়ে উঠে। আয়োজকদের আন্তরিক আতিথেয়তায় সবাই মুগ্ধ হয়। দীর্ঘদিন পর প্রবাসী বাংলাদেশীরা একে অপরকে কাছে পেয়ে আবেগতাড়িত  হয়ে পড়েন, মেতে ওঠেন সুখ-দুঃখের আলাপনে, কেউ কেউ ঘুরে ঘুরে পার্কের রূপসুধা উপভোগ করতে থাকেন।

শিশু-কিশোরদের বাঁধভাঙ্গা উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। বনভোজনে অংশগ্রহণকারী বয়স্করাও বয়সের সীমাবদ্ধতা ভুলে প্রাণের উচ্ছ্বাসে মেতে উঠেন। সর্বস্তরের প্রবাসীদের উপস্থিতিতে স্থানটি পরিণত হয়েছিল এক টুকরো বাংলাদেশে।

বিভিন্ন ধরনের আনন্দ আয়োজন উপভোগ করতে করতে মধ্যাহ্নভোজের সময় হয়ে যায়। দুপুর গড়াতেই পরিবেশিত হয় দুপুরের খাবার। হরেক পদের মুখরোচক খাবার খেয়ে সবাই তৃপ্তির ঢেকুর তুলতে থাকেন। বনভোজনে বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলায় শিশু-কিশোর-যুবা ও মহিলারা প্রাণ খুলে অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া র‌্যাফল ড্রতে ছিল আকর্ষণীয় পুরস্কারের সমাহার।

বাংলাদেশ এসোসিয়েশনের নব-নির্বাচিত সভাপতি কাজী এনায়েতুল করিম তারেকের তত্ত্বাবধানে এবং পুনঃনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান সুন্দরের পরিচালনায় বনভোজনের অনুষ্ঠান পরিচালিত হয়।

বনভোজনে অন্যান্যের মধ্যে ছিলেন বৃহত্তর ঢাকা এসোসিয়েশনের সভাপতি সোহেল ভূইয়া, ভালিয়েন্তে বাংলার সভাপতি মো. ফজলে এলাহী, সাধারণ সম্পাদক রমিজ উদ্দিন, বিক্রমপুর মুন্সিগঞ্জে সমিতির সভাপতি মমিনুল ইসলাম স্বাধীন, ঢাকা জেলা সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাসুদুর রহমান, কমিউনিটি নেতা নুর হোসেন পাটোয়ারী, লুৎফর রহমান, মোজাম্মেল হোসেন মনু, হেমায়েত খান, মোহাম্মদ বেলাল, ইসলাম উদ্দিন পংকি, আবুল হোসেন, আব্দুল কায়ূম মাসুক, আব্দুর রাজ্জাক, বাহার উদ্দিনসহ আরও অনেকে।

যাদের নিরলস প্রচেষ্টায় বনভোজনের কার্যক্রম সফল হয় তারা হলেন বাংলাদেশ এসোসিয়েশনের সভাপতি কাজী এনায়েতুল করিম তারেক, সিনিয়র সহ-সভাপতি আল আমিন মিয়া, সহ-সভাপতি জহিরুল ইসলাম নয়ন, সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান সুন্দর, যুগ্ম সম্পাদক মোরশেদ আলম তাহের, সাংগঠনিক সম্পাদক আক্তারুজ্জামান, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির, অর্থ সম্পাদক আবুল হাসেম মেম্বার, ধর্ম সম্পাদক আবু বক্কর, জালাল হোসাইন, মারুফ বিল্লাহ, হানিফ মিয়াজী, সায়েক মিয়া সহ বাংলাদেশ এসোসিয়েশনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

এক সময় সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসে। এবার ফেরার পালা। মন কিছুতেই সায় দেয় না ফেরার। তবু ফিরতে হয়। সারাদিনের একরাশ সুখস্মৃতি নিয়ে সবাই নিজ নিজ ঘরে ফেরেন।

বাংলাদেশ এসোসিয়েশন সভাপতি কাজী এনায়েতুল করিম তারেক ও সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান সুন্দর সপরিবারে বনভোজনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে তা সফল করায় প্রবাসী বাংলদেশীদের ধন্যবাদ জানান।
x