মাদক আড্ডায় কেন লাশ, নানা প্রশ্ন

ফাহিম হত্যাকাণ্ড

সোহেল মারমা

রবিবার , ২৫ আগস্ট, ২০১৯ at ৪:৩৭ পূর্বাহ্ণ
164

চকবাজারে পরিত্যক্ত যে ঘরটি থেকে ফাহিমের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার হয়েছিল সেখানে নিয়মিত মাদক সেবন ও আড্ডা চলত। এলাকায় সুনাম থাকা এ ছেলেটির লাশ ওই জায়গায় পাওয়া নিয়ে অনেকেই হতভম্ব হয়েছেন। এছাড়া ওই ঘরের দরজার মুখোমুখি সারিবদ্ধভাবে রয়েছে কয়েকটি ভাড়া ঘর। অথচ তারা কেউই হত্যাকান্ডের বিষয়টি আঁচ করতে পারেনি। পুলিশও এখনো হত্যাকাণ্ডের কুলকিনারা খুঁজে পাচ্ছে না। সব মিলিয়ে চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকান্ড রহস্যের জন্ম দিয়েছে। গত ২০ আগস্ট বাসা থেকে বেরোনোর পর নিখোঁজ হন ফাহিম সাখাওয়াত (২১)। ২২ আগস্ট ফাহিমের নিখোঁজ ডায়েরি হয় চকবাজার থানায়। পরদিন আবু কলোনীর একটি দোতলা ভবনের পাশে পরিত্যক্ত পানির ট্যাঙ্কের ওপর নির্মিত ঘরে অর্ধগলিত অবস্থায় তার লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ। এর আগে লাশের দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ায় পাশের ভাড়াটিয়ারা খোঁজাখুঁজির পর তার লাশটি দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন। অর্ধগলিত লাশটির শরীরে কয়েকটি আঘাতের চিহ্ন দেখে পুলিশ নিশ্চিত হয় এটা হত্যাকাণ্ডের ঘটনা।
ওইদিনই নিহতের বাবা বাদী হয়ে চকবাজার থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। এ হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে গতকাল পর্যন্ত পুলিশ কোনো প্রাথমিক ধারণা পায়নি। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন কেউ আটকও হয়নি।
এদিকে চকবাজার থানা পুলিশের পাশাপাশি খুনের রহস্য উদঘাটনে ছায়া তদন্তে নেমেছে ডিবি’র একটি টিম। গতকাল সকাল সাড়ে ১১টা নাগাদ নগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (দক্ষিণ) আসিফ মহিউদ্দীনের নেতৃত্বে ডিবির একটি টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করেন। এসময় ডিবি কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলটির সবদিক খতিয়ে দেখার পাশাপাশি বাড়ির মালিক, ভাড়াটিয়া ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলেছেন। এব্যাপারে আসিফ মহিউদ্দীন আজাদীকে বলেন, ওই ঘরে হয়তো ফাহিম মাদক সেবনের জন্য গিয়েছিল। কিন্তু তার বিষয়ে এলাকায় সুনাম রয়েছে। এতে করে বিষয়টি রহস্যজনক মনে হচ্ছে।
এডিসি আসিফ বলেন, ওই খুনের ঘটনায় কয়েকজনকে সন্দেহজনক তালিকায় রাখা হয়েছে। তবে বিষয়টি তদন্তাধীন হওয়ায় এখন কিছু বলা যাচ্ছে না।
সরেজমিন জানা গেছে, নিচতলায় একটি বাথরুমের ওপর কাঁচাপাকা পানির পরিত্যক্ত ট্যাঙ্কের উপরের অংশে কাঠ ও চারপাশে টিনের ঘেরা দিয়ে দোতলা আদলে ঘরটি নির্মিত হয়েছিল। পাশেই দোতলা ভবনের একটি সিঁড়ি বেয়ে ওই ঘরে প্রবেশ করতে হয়।
এছাড়া ঘরটির মেঝের নিচে যাওয়ার প্রবেশ পথ হিসেবে একটি ফাঁক রাখা হয়েছিল। সেটা দিয়ে নিচে গিয়ে গত ২৩ আগস্ট ফাহিমের লাশটি বের করে আনা হয়।
বাড়ির মালিক আবুল কাশেম জানান, একটি পানির ট্যাঙ্ক ঘেরা দিয়ে ঘরটি কোনোরকম করা হয়েছিল। আগে ভাড়াটিয়া ছিল। কয়েক মাস আগে তারা চলে যাওয়ায় তখন থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ঘরটি পড়ে রয়েছে।
ডিবি পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর বলছে, ঘরটির ভেতরে মাদক সেবনের পাশাপাশি আড্ডা দেয়া হত। সেখানে মাদক সেবনের বহু আলামতের বিষয়টি তাদের নজরে পড়েছে।
স্থানীয়রা জানান, ওই ঘরের পেছনে লাগায়ো অন্য একটি ভবনের ছাদে বিভিন্ন সময় ছেলেরা আড্ডা দেয়ার পাশাপাশি সেখানে মাদক সেবন করত। তবে ঘরটির বিষয়ে তারা কিছুই জানে না।
এছাড়া ঘরের মুখোমুখি সারিবদ্ধভাবে আরও অন্তত ৫/৬টি ভাড়া ঘর থাকতে দেখা যায়। ওইসব ঘরের মধ্যে যে দুটি ঘর সামনে সেগুলো তালাবদ্ধ অবস্থায় থাকতে দেখা যায়।
পাশের ভাড়াটিয়াদের কয়েকজনের মধ্যে পোশাককর্মী মনি ও হোটেলে কর্মরত রিপন আজাদীকে জানান, তারা ওই ঘরে কাউকে আড্ডা দিতে দেখেনি। তাদের দাবি, সকালে কর্মস্থলে যাওয়ার পর রাতে তারা বাসায় ফেরেন। সেখানে কি হচ্ছে বিষয়টি তাদের নজরে পড়ে না।
জানা গেছে, ঘটনাস্থলের আশপাশে থাকা ভাড়াটিয়াদের বেশিরভাগই কর্মজীবি।
আবু কলোনীর আহাদ নামে স্থানীয় একজন আজাদীকে বলেন, ছেলেটা ভালো ও ভদ্র প্রকৃতির। কারো সাথে কখনো কোনো ঝামেলায় তাকে জড়াতে দেখিনি। এখন তাকে নিয়ে মাদকের যে বিষয়টি উঠে এসেছে সেটা শুনে আশ্চর্য হয়েছি। তার মাদক নেয়ার বিষয়টি আমাদের কানে কখনো আসেনি। জানি না কোনটি সত্য।
আহাদ বলেন, ফাহিম যাদের সাথে মেলামেশা করতেন তাদেরও এলাকায় ভালো ছেলে বলে সবাই জানে।
জানা গেছে, ফাহিম সম্প্রতি একটি সিএন্ডএফ প্রতিষ্ঠানে চাকরি নিয়েছিল। যে ঘরটি থেকে ফাহিমের লাশটি উদ্ধার করা হয়েছে তার সামান্য কাছেই তার দাদার বাড়ি। ওখানে ফাহিম থাকত।

x