মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধেও আমরা হার মানব না : আইজিপি

‘একজন পুলিশ দিয়ে ১ হাজার নাগরিকের নিরাপত্তা অসম্ভব’

আজাদী প্রতিবেদন

বৃহস্পতিবার , ১২ ডিসেম্বর, ২০১৯ at ৫:১১ পূর্বাহ্ণ

পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারি বলেছেন, যুদ্ধ করে বিজয় ছিনিয়ে আনা জাতি আমরা। কখনোই পরাজয় মেনে নেইনি। যুদ্ধ আজো চলছে। ২০১৪ সালে আগুন সন্ত্রাসে আমরা হারিয়েছি আমাদের ১৭ জন সহকর্মীকে, পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন হাজারেরও বেশি। ২০১৬ সালে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধেও আমাদের সহকর্মীরা শহীদ হয়েছেন। জঙ্গি দমন করেছি, হার মানিনি। এখন যুদ্ধ চলছে মাদকের বিরুদ্ধে। সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের মতো মাদকের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে আমাদের পাশে আছে সাধারণ মানুষ। কাজেই বিজয় সুনিশ্চিত। জনগণ আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। এদেশে থাকবে না কোনো মাদক, কোনো দুর্নীতি, কোনো সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ। গতকাল বুধবার বিকেলে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) ৪১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নগরীর দামপাড়া পুলিশ লাইন মাঠে এ সমাবেশে শিক্ষাবিদ, সংসদ সদস্য, ব্যবসায়ী, রাজনীতিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
আইজিপি বলেন, সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্টের জন্য সাসটেইনেবল পিসের প্রয়োজন হয়। সাসটেইনেবল পিসের জন্য দরকার হয় সাসটেইনেবল সিকিউরিটি। যা আমরা দিয়ে যাচ্ছি দিনরাত। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম মহানগরীতে ৭০ লাখ জনসংখ্যার বিপরীতে পুলিশ আছে মাত্র ৭ হাজার। ১ জন পুলিশ ১০০০ জন নাগরিকের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বিধান কখনোই সম্ভব নয়। ইউএন স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ি প্রতি চারশ জনে প্রয়োজন একজন পুলিশের। সেই মাইলফলক ছুঁতে আমাদের আরও অনেক দূর যেতে হবে।
সুধী সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন একুশে পদকপ্রাপ্ত শিক্ষাবিদ ড. অনুপম সেন, চমিক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন, নগর মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী হাসিনা মহিউদ্দিন, সিএমপির সাবেক কমিশনার ও বর্তমানে অতিরিক্ত আইজিপি ইকবাল বাহার এবং সিএমপির বর্তমান কমিশনার মো. মাহাবুবর রহমান।
সমাবেশে সিএমপি কমিশনার মাহাবুবর রহমান বলেন, চট্টগ্রাম শহরে এ মুহূর্তে যেকোনো বিচারে, যেকোনো পরিসংখ্যানে শান্তিপূর্ণ অবস্থা বিরাজ করছে। এজন্য আমরা চট্টগ্রাম নগরের বাসিন্দা, চট্টগ্রামের রাজনীতিবিদদের বিশেষ করে শাসক দলের রাজনীতিবিদদের কৃতিত্বটা দিতে চাই। তাদের কেউ অযাচিত, অনভিপ্রেত কোনো আদেশ-নির্দেশ, অনুরোধ করেননি যাতে আমাদের বিব্রত হতে হয়। সেজন্য এ শহরকে আমরা নিরাপদ রাখতে পেরেছি।
সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের হুইপ শামসুল হক চৌধুরী, রেলপথ মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির সভাপতি এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী, সংসদ সদস্য ওয়াসিকা আয়শা খান, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এম এ সালাম, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমদ, সিএমপির সাবেক কমিশনার আব্দুল জলিল মণ্ডল, চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মাহবুবুল আলম।
সমাবেশের আগে বেলুন উড়িয়ে ও কেক কেটে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করা হয়। এরপর ছিল নৃত্যশিল্পী অনন্য বড়ুয়ার দলের পরিবেশনা। অনুষ্ঠানে সিএমপির বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে তৈরি করা ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়। রাতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
এর আগে সকালে নগরীর আগ্রাবাদে পুলিশের কমিউনিটি ব্যাংকের উদ্বোধন করেন আইজিপি মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারি। এ সময় স্থানীয় সংসদ সদস্য এমএ লতিফ, চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি খোন্দকার গোলাম ফারুক, সিএমপি কমিশনার মো. মাহাবুবর রহমান, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক একেএম মহিউদ্দিন আজাদ, বিজিএমইএর ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. আবদুস সালাম, কমিউনিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মসিউল হক চৌধুরী ও চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মাহাবুবুল আলম উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত: ১৯৭৮ সালের ৩০ নভেম্বর ৩ হাজার ২৩৮ জন পুলিশ সদস্য ও ৬টি থানা নিয়ে যাত্রা শুরু করে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)। বর্তমানে সিএমপিতে ১৬টি থানা ও প্রায় ৭ হাজার সদস্য রয়েছেন।

x