মহিলা দলনেত্রী মনিকে বহিষ্কার

আজাদী প্রতিবেদন

রবিবার , ৬ অক্টোবর, ২০১৯ at ৭:৪৪ পূর্বাহ্ণ
505

নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীনের প্রশংসা করে দলীয় পদ হারালেন চট্টগ্রাম মহানগর মহিলা দলের সভাপতি মনোয়ারা বেগম মনি। গতকাল তাকে সংগঠনটির প্রাথমিক সদস্য পদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদের স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
মনোয়ারা বেগম মনিকে সংগঠন থেকে বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করে মহিলা দল চট্টগ্রাম মহানগরের সাধারণ সম্পাদক জেলী চৌধুরী দৈনিক আজাদীকে বলেন, কেন্দ্রীয় সভাপতি আফরোজা আব্বাসের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তিনি বলেছেন, বহিষ্কার করা হয়েছে।
এদিকে কেন্দ্রীয় মহিলা দলের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম মহানগর মহিলা দলের সভাপতি মনোয়ারা বেগম মনিকে বহিষ্কার করা হয়েছে। মহিলা দলের প্রাথমিক সদস্য পদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে উল্লেখ করে বলা হয়, এখন থেকে চট্টগ্রাম মহানগর মহিলা দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি ফাতেমা বাদশা ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার নগরীর লালখান বাজারে স্থানীয় আওয়ামী লীগ আয়োজিত অনুষ্ঠানে অতিথি হয়ে দলটির নগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীনকে আবারো মেয়র হিসেবে দেখতে চান বলে জানিয়েছিলেন মনোয়ারা বেগম মনি। এসময় তিনি বর্তমান সিটি মেয়র আ জ ম নাছিরকে ‘হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ মেয়র’ সম্বোধন করে বলেন, তাঁকে (নাছির) আবার নির্বাচিত করতে না পারাটা হবে ‘চরম ব্যর্থতা’। আ জ ম নাছির নমিনেশন না পেলে ভবিষ্যতে কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করবেন না বলেও ঘোষণা দেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের লালখান বাজার, বাগমনিরাম ও জামাল খান ওয়ার্ডের সংরক্ষিত কাউন্সিলর মহিলা কাউন্সিলর মনোয়ারা বেগম মনি।’
বিষয়টি জানজানি হওয়ার পর নানা আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। বিশেষ করে বিএনপি ও দলটির অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা মনির দেয়া বক্তব্যের প্রতিবাদ জানান। কেউ কেউ মনোয়রা বেগম মনিকে দল থেকে বহিষ্কারের দাবি তুলেন।
ক্ষমা চাইলেন মনি : এদিকে গতকাল গণমাধ্যমে বিবৃতি পাঠিয়ে নিজের দেয়া বক্তব্যের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন মনোয়ারা বেগম মনি। এতে তিনি বলেন, লালখান বাজার ওয়ার্ডে সনাতন ধর্মালম্বী মাঝে বস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে আমার দেওয়া বক্তব্যর জন্য আমি ব্যক্তিগতভাবে লজ্জিত ও অনুতপ্ত।
মনোয়ারা বেগম মনি বলেন, ‘আমি চট্টগ্রাম মহানগরন মহিলা দলের সভাপতি হিসাবে বিগত আন্দোলন সংগ্রামে রাজপথে অগ্রভাবে সামনের কাতারে থেকে আন্দোলন করেছি। ২০১৩ সালে চট্টগ্রামে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে মিছিল করতে গিয়ে ওয়াসা মোড়ে পুলিশি হামলা-শিকার হয়ে আমি মারাত্নক আহত হই। ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনের প্রচারণা চালানোর সময় বাগমনিরাম ও লালখান বাজার ওয়ার্ডে আওয়ামী সন্ত্রাসী হামলার শিকার হই। এছাড়া অসংখ্যবার রাজপথে পুলিশি হামলাসহ মামলা ও জেল জুলুমের শিকার হই। তারপরও দলের সাথে ছিলাম আছি থাকবো। পদ পদবীর জন্য আমি রাজনীতি করি না, আমি রাজনীতি করে শহীদ জিয়ার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ও জনগণের কল্যাণে। দলীয় কোন পদপদবী না থাকলেও একজন সমর্থক হিসাবে আমি আমৃত্যু আমার প্রাণপ্রিয় সংগঠন বিএনপি ও মহিলা দলের সাথে থাকবো। পাশাপাশি অঙ্গীকার করছি ভবিষ্যতে আমি বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের কোন কর্মসূচি ছাড়া অন্য কোন দলের কর্মসূচিতে অংশ নিব না।’
মনোয়ারা বেগম মনি আরো বলেন, আমার নির্বাচনী ওয়ার্ড লালখান বাজারে হিন্দু ধর্মীয় অনুসারীদের একটি অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন আসেন। অনুষ্ঠান যেহেতু আমার এলাকায়, তার কারণে একজন জনপ্রতিনিধি হিসাবে মেয়রের প্রোগ্রামে থাকার জন্য অনুরোধ করা হয়েছিল আমাকে। আমি বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত আর মেয়র আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে। দুইজন দুই নীতির হলেও জনপ্রতিনিধি হিসাবে আমাদের কর্তব্য ও দায়িত্ব জনকল্যাণে কাজ করা। এ নীতিতে বিশ্বাস করে জনকল্যাণকর এ অনুষ্ঠানে আমি উপস্থিত হয়েছি। সেখানে বক্তব্য দেওয়ার পর এলাকার কাজ আদায় করা ও জনকল্যাণে আবেগ তাড়িত হয়ে আমি আওয়ামী লীগ দলীয় মেয়র আ জ মে নাছির উদ্দীনের অতি প্রশংসা করেছি। যা মহিলা দলের সভানেত্রী হিসাবে আমার বক্তব্যটি দেওয়া সমুচিত হয়নি যা আমি স্বীকার করছি। এতে আমার প্রাণপ্রিয় দল বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা হতাশ ও ক্ষুদ্ধ হয়েছে, যা অত্যন্ত স্বাভাবিক একটি বিষয়। বিষয়টি নিয়ে আমি নিজেও লজ্জিত। আমার অমার্জনীয় অপরাধের জন্য আমি সকলের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি।

x