মহাসড়কে তিন চাকার যান

ঝুঁকিতে চকরিয়া, দুর্ঘটনার শঙ্কা

ছোটন কান্তি নাথ, চকরিয়া

বুধবার , ২৩ অক্টোবর, ২০১৯ at ১১:০৪ পূর্বাহ্ণ
16

জাতীয় মহাসড়কে তিন চাকার (থ্রি-হুইলার) যানবাহন চলাচলে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা থাকলেও কক্সবাজারের চকরিয়ায় প্রতিনিয়ত এই যানের দেখা মিলছে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে। এতে নতুন করে ভয়াবহ দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল।
উল্লেখ্য, গতবছর এই সময়ে একের পর এক সড়ক দুর্ঘটনায় অসংখ্য মানুষের প্রাণহানি হয়। আহত হয় অনেক। এর পর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রেরণ করা হলেও কার্যত তা বাস্তবায়নই হয়নি। এই অবস্থায় আগেকার মতোই চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে তিন চাকার এই যানের অসম প্রতিযোগিতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। গতবছরের একের পর এক দুর্ঘটনা থেকে এসব যানবাহনের অদক্ষ চালক ও মালিকেরা কোনভাবেই সচেতন হননি। অপরদিকে স্থানীয় যাত্রী-সাধারণও গন্তব্যে যাওয়ার জন্য এই বাহনকে ব্যবহার করে চলেছেন। এতে সড়ক দুর্ঘটনা আরো বাড়ার আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল।
সচেতন মহলের মতে, সারাদেশের যেসব মহাসড়ক রয়েছে, তন্মধ্যে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কটিই ছিল বেশ নিরাপদের। কিন্তু গত কয়েকবছর ধরে নিরাপদের এই মহাসড়কটিই হয়ে উঠে মৃত্যুফাঁদে। মূলতঃ তিন চাকার যানবাহনের পাশাপাশি দূরপাল্লার যাত্রীবাহী বাসসহ বিভিন্ন ভারী যানবাহনের বেপরোয়া গতি, ফিটনেস বিহীন যান এবং অদক্ষ চালকের কারণেই সড়কে মৃত্যুর মিছিল বাড়ে।
গত কয়েকদিন ধরে চকরিয়ার ৩৯ কিলোমিটার অংশের প্রায় ২০ কিলোমিটার সরজমিন প্রত্যক্ষ করা হয় এই নৈরাজ্য। এ সময় মহাসড়কের বানিয়ারছড়াস্থ চিরিঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির সামনে ছাড়া সড়কের অন্য কোথাও দেখা মেলেনি নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত এই সংস্থার সদস্যদের। মূলত হাইওয়ে পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার সুযোগে দেদারসে চলছে তিন চাকার এসব যানবাহন।
বরইতলী নতুন রাস্তার মাথা এলাকায় মহাসড়কে দাঁড়িয়ে যাত্রী উঠা-নামা করা ব্যাটারীচালিত ইজিবাইক (টমটম) এর চালক মনির উদ্দিনের সঙ্গে কথা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে জানতে চাওয়া হয়, উচ্ছ আদালতের নির্দেশে সরকার মহাসড়কে তিন চাকার যে কোন ধরণের যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ করেছে, বিষয়টি জানেন কী-না।
টমটম চালক মনির উদ্দিন বলেন, ‘এটা তো কয়েকবছর ধরে শুনে আসছি, মহাসড়কের তিন চাকার যানবাহন উঠতে দেওয়া হবে না। এনিয়ে মাঝে-মধ্যে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বিশেষ করে হাইওয়ে পুলিশ অভিযানে নামে। তারপরেও তো দেখছি ঠিকই এসব যানবাহন মহাসড়কে চলাচল করছে। তাই আমিও মহাসড়ক দিয়ে যাত্রী আনা-নেওয়া করছি।’
মহাসড়কের ফাঁসিয়াখালী হাসেরদিঁঘী এলাকায় কথা হয় ইজিবাইক-টমটম চালক মিরাজ উদ্দিনের সঙ্গে। তাকে প্রশ্ন করা হয়, প্রতিনিয়ত এই গাড়ি মহাসড়কে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে, মানুষ মারা যাচ্ছে। এর পরও টমটম মহাসড়কে কেন? এমন প্রশ্নে মিরাজ বলেন, ‘সবাই মহাসড়কে টমটম চালাচ্ছেন। আমিও চালাচ্ছি। এতে দোষের কী আছে।’
অনুসন্ধানে জানা গেছে, তিন চাকার যান বিশেষ করে ইজিবাইক-টমটম, সিএনজি চালিত অটোরিক্সা, নছিমন-করিমন, মাহিন্দ্র ছাড়াও একেবারে স্বল্প আকৃতির চার চাকার যানবাহনও যাত্রী পরিবহন করছে বেশি। তন্মধ্যে লেগুনা, ছারপোকা, ম্যাজিক গাড়ি অন্যতম। চার চাকার এসব যানবাহনে চলাচলও বেশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। গত বছরের সেপ্টেম্বরে বরইতলী নতুন রাস্তার মাথায় স্টার লাইন পরিবহনের যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয় যাত্রীবাহী ছারপোকার। এই দুর্ঘটনায় একসঙ্গে তিন নারীসহ প্রাণ হারায় সাতজন যাত্রী। আহত হয় অন্তত ১০ জন। একদিনের ব্যবধানে হারবাং ইনানী রিসোর্টের সামনে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকে (মোড়) প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের কাভার্ড ভ্যানের সঙ্গে যাত্রীবাহী ইজিবাইক-টমটম এর মুখোমুখি সংঘর্ষে এক নারীসহ চারজনের প্রাণ ঝরে যায়। একদিনের ব্যবধানে দুটি ভয়াবহ দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন অসংখ্য যাত্রী।
এসব বিষয়ে বানিয়ারছড়াস্থ চিরিঙ্গা হাইওয়ে পুলিশের ইনচার্জ ও মো. মাহবুব আলম (এসআই) দৈনিক আজাদীকে বলেন, ‘উচ্চ আদালতের নির্দেশনা মোতাবেক মহাসড়কে তিন চাকার কোন ধরনের যানবাহন চলতে দেওয়া হচ্ছে না। যেখানেই দেখা যাচ্ছে এই বাহন সেখানেই অভিযান চালিয়ে মামলা দেওয়া হচ্ছে। এর পরও বিক্ষিপ্তভাবে তিন চাকার এই যান মহাসড়কে উঠে পড়ছে অভ্যন্তরীণ সড়ক হয়ে।’তিনি বলেন, ‘দুর্ঘটনা শূন্যের কোটায় নিয়ে আসতে মহাসড়কের পালাক্রমে দুটি মোবাইল টিম দায়িত্ব পালন করছে।’
এ ব্যাপারে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নূরুদ্দীন মুহাম্মদ শিবলী নোমান বলেন, ‘দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করতে হলে তিন চাকাসহ ধীরগতির কোন যান মহাসড়কে চলাচল করতে দেওয়া উচিত নয়। তাছাড়া উচ্চ আদালতের নির্দেশনা মাথায় রেখে হাইওয়ে পুলিশকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।’

x