মশায় অতিষ্ঠ জীবন

চলতি অর্থবছরে মশক নিধনে ৬ কোটি টাকা বরাদ্দ, কিন্তু দৃশ্যমান তৎপরতা নেই কমে আসছে ওষুধের মজুদ

আজাদী প্রতিবেদন

মঙ্গলবার , ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ at ৫:৪২ পূর্বাহ্ণ
280

মশার উৎপাত বন্ধ হয়নি। বরং বেড়েছে। তবে মশক নিধন কার্যক্রম থমকে গেছে বলে দাবি করেছেন নগরবাসী। তারা বলছেন, দিনরাত মশার অত্যাচারে অতিষ্ঠ তারা। অবশ্য মশার প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে আছে জানিয়ে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তারা বলছেন, ‘নিয়মিতই মশার ওষুধ ছিটানো হচ্ছে।’
চসিকের পরিচ্ছন্ন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মশক নিধনে ‘এডালটিসাইড’ (পূর্ণাঙ্গ মশা ধ্বংসকারী) এবং ‘লার্ভিসাইড’ (ডিম ধ্বংসকারী) নামে দুই ধরনের ওষুধ ছিটানো হয়। দুটোরই মজুদ কমে আসছে। বর্তমানে ‘এডালটিসাইড’ মজুদ আছে মাত্র তিন হাজার ৭০০ লিটার। ‘লার্ভিসাইড’ মজুদ আছে ১০০ লিটার। অবশ্য বিদ্যমান মজুদ দিয়ে আরো কমপক্ষে একমাস ছিটানো যাবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। কম মজুদ থাকা ‘লার্ভিসাইড’ প্রতি ১০ লিটার পানিতে মাত্র ১০ মিলিলিটার মিশিয়ে ছিটানোর নিয়ম। ফলে পরিমাণে কম থাকলেও সেটা আশংকাজন নয়। এদিকে নতুন করে পাঁচ হাজার লিটার ‘লার্ভিসাইড’ এবং ২৫ হাজার লিটার ‘এডালটিসাইড’ সংগ্রহ কার্যক্রম চলমান আছে। মাসখানের মধ্যেই এসব ওষুধ জমা হবে চসিকের স্টোরে।
মশক নিধনে চলতি অর্থ বছরে (২০১৯-২০২০) ছয় কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছে চসিক। এর মধ্যে ওষুধ সংগ্রহে তিন কোটি টাকা, ফগার ও স্প্রে মেশিন সংগ্রহে দুই কোটি টাকা এবং অন্যান্য খাতে বাকি এক কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর আগে ২০১৫-২০১৬ অর্থ বছর থেকে ২০১৮-২০১৯ অর্থ বছর পর্যন্ত চার বছরে চসিক মশক নিধনে ব্যয় করে ছয় কোটি ৩৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে গত অর্থ বছরে (২০১৮-২০১৯) খরচ হয়েছে এক কোটি ২৫ লাখ টাকা।
‘এডালটিসাইড’ ওষুধ ছিটানো হয় ‘ফগার মেশিন’ দিয়ে। দেড় মাস আগে ৪০টি ফগার মেশিন সংগ্রহ করেছিল চসিক। সবমিলিয়ে বর্তমানে ফগার মেশিন আছে ১২০টি। এরমধ্যে আবার ২৫টি অকেজো অবস্থায় আছে। এছাড়া সাধারণ হ্যান্ড স্প্রে মেশিন আছে ২০০টি।
মশক নিধন কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে চাইলে চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা শফিকুল মান্নান ছিদ্দিকী দৈনিক আজাদীকে বলেন, ‘নিয়মিত মশার ওষুধ ছিটানো হচ্ছে। মশা নিয়ন্ত্রণে আছে। তবে সাধারণ মানুষেরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন। তাদের উচিত, বাসা-বাড়ির আঙিনা পরিষ্কার রাখা।’ ‘ওষুধের মজুদ কমে আসা’ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সংগ্রহ কার্যক্রম চলমান আছে। কিছুদিনের মধ্যেই ওষুধগুলো চলে আসবে। তাছাড়া বর্তমানে যে পরিমাণে ওষুধ আছে তাতে অনেকদিন চলে যাবে।’
এদিকে মুজিববর্ষকে সামনে রেখে গত ২৭ নভেম্বর একটি কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করে মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করেছিল চসিক। এ কর্মপরিকল্পনায় উল্লেখ আছে, ‘প্রতিটি ওয়ার্ডকে চার ভাগে ভাগ করে প্রতিটি ভাগের রাস্তা, ফুটপাত, গলি, উপ-গলি, নালা-নর্দমা ‘যথাযথভাবে’ পরিষ্কার এবং এছাড়া মশক নিধনে স্প্রে করা হবে। প্রতি মাসে চার বার এ কার্যক্রম পরিচালিত হবে।’
তবে সাধারণ লোকজনের সাথে আলাপকালে তারা বলছেন, চারবার তো দূরের কথা। মাসে একবারও ওষুধ ছিটাতে দেখেননি তারা। ঘাটফরহাদ বেগ এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, ‘গত এক বছরে মাত্র একবার ফগার মেশিন দিয়ে ওষুধ ছিটাতে দেখেছি।’ শফিক নামে এক বাসিন্দা বলেন, ‘মশা কেবল নালায় নয়; বাসা-বাড়ি, অফিস-আদালত কোথাও শান্তিতে থাকা যাচ্ছে না।’
মুরাদপুরের মোহাম্মপুর এলাকার বাসিন্দা আমিনা আকতার বলেন, ‘বাসার একদম নিকটেই নালা। তাই এ এলাকায় মশার উপদ্রব একটু বেশিই। বর্তমানে এ উপদ্রব আগের চেয়ে হাজার গুণ বেড়েছে। কিন্তু সিটি কর্পোশেনের লোকজনকে এখানে মশার ওষুধ ছিটাতে দেখি না।’
এদিকে সরেজমিন পরিদর্শনে নগরের বিভিন্ন নালা-নর্দমার বদ্ধ পানিতে দেখা গেছে প্রচুর পরিমাণ মশা। কীটতত্ত্ববিদরা বলছেন, সেখানে ডিম পাড়ছে মশা। ওষুধ ছিটিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে তা নগরবাসীর জন্য বিপদের কারণ হয়ে উঠবে।’
তারা আরো জানান, ‘বর্তমানে শুষ্ক মৌসুম হওয়ায় নালা-নর্দমায় জমাট হয়ে আছে পানি। সেখানে ডিম ছাড়ে ‘ফাইলেরিয়া’সহ বিভিন্ন রোগের জীবনুবাহী মশা। বর্ষায় অতিবৃষ্টির ফলে এসব ডিম বা লার্ভা ধ্বংস হয়ে যায়। তবে শুষ্ক মৌসুমে পানি জমাটবদ্ধ হয়ে থাকায় ধ্বংস হয় না। তাই এসময়টাতে মশার লার্ভা ধ্বংসকারী ওষুধ ছিটানোর উপর জোর দিতে হবে। বিশেষ করে মৌসুমের শুরুতে ওষুধ ছিটানো হলে বাকি সময়ে স্বস্তিতে থাকতে পারবেন নগরবাসী।’