মশক নিধনে সিটি করপোরেশনের কাজ দেখতে চায় নগরবাসী

শনিবার , ৯ নভেম্বর, ২০১৯ at ৮:০৯ পূর্বাহ্ণ
32

ডেঙ্গু রোগের জীবাণুবাহী মশার কামড়ে প্রতিবছর জীবন যায় বহু মানুষের। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের দরিদ্র-অসচ্ছল মানুষের চিকিৎসাসেবা নেওয়ার আগেই যেতে হয় পরপারে। কিন্তু একটু সচেতন হলেই মশা ও মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গু থেকে আমরা মুক্ত থাকতে পারি। মশার বাসস্থান আমরা সহজেই ধ্বংস করতে পারি। মশার বাসস্থান; যেমন- ফুলের টবে জমে থাকা পানি, নারিকেলের ছোবড়ায় জমে থাকা পানি, পুকুর, জলাশয়, ডোবা, ঝোপঝাড়, বাড়ির আঙিনায় নোংরা জায়গাগুলো নিজ দায়িত্বে পরিষ্কার করে মশাবাহিত রোগ থেকে নিরাপদ থাকতে পারি।
গত ৫ নভেম্বর দৈনিক আজাদীতে ‘এখনই সময় মশার ওষুধ ছিটানোর’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, শুরু হয়েছে শুষ্ক মৌসুম। আগামী এপ্রিল মাস পর্যন্ত অন্তত ছয় মাস এ মৌসুম থাকবে। বছরের এ সময়টাতে নগরজুড়ে বৃদ্ধি পায় মশার উপদ্রব, মশার জীবাণুবাহী বিভিন্ন রোগ-বালাই। অবশ্য ইতোমধ্যে দিন-রাত মশার কামড়ে অতিষ্ঠ হয়ে ওঠার কথা জানিয়েছেন নগরবাসী। এমন পরিস্থিতিতে কীটতত্ত্ববিদরা পরামর্শ দিয়ে বলছেন, ‘এখনই উপযুক্ত সময় মশার ওষুধ ছিটানোর’। তাদের ভাষায়, নালা-নর্দমায় জমাট হওয়া পানিতে ডিম ছাড়ে ‘ফাইলেরিয়া’সহ বিভিন্ন রোগের জীবণুবাহী মশা। বর্ষায় অতিবৃষ্টির ফলে এসব ডিম বা লার্ভা ধ্বংস হয়ে যায়। তবে শুষ্ক মৌসুমে পানি জমাটবদ্ধ হয়ে থাকায় ধ্বংস হয় না। তাই এসময়টাতে মশার লার্ভা ধ্বংসকারী ওষুধ ছিটানোর ওপর জোর দিতে হবে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনকে (চসিক)। বিশেষ করে মৌসুমের শুরুতে ওষুধ ছিটানো হলে বাকি সময়ে স্বস্তিতে থাকতে পারবেন নগরবাসী। সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্ন বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, ডিম ধ্বংসকারী এবং পূর্ণাঙ্গ মশা ধ্বংসকারী সাড়ে ১৩ হাজার লিটার ওষুধ মজুদ আছে। এছাড়া আসন্ন ‘মুজিব বর্ষ’কে সামনে রেখে চট্টগ্রামকে পরিচ্ছন্ন ও সবুজ নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে বছরব্যাপী কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে। সেই আলোকে বছরজুড়ে ছিটানো হবে ওষুধ।
আবার যে ওষুধ ছিটানো হবে, তা কতটা কার্যকর, তার ওপর নির্ভর করবে মশক নিধন। কিছু দিন আগে মশা নিধনে অকার্যকর ওষুধ আমদানি ও সরবরাহে জড়িতদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি তদন্ত করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনকে বিষয়টি তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছিল। এ ছাড়া মশা নিধনে কার্যকর ওষুধ আনা এবং তা ছিটানোর জন্য অতি দ্রুত পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এতে প্রয়োজনে সরকারের সহায়তা নিতেও বলা হয়েছে।
মশক নিধনে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন যে ওষুধ ব্যবহার করছিল, তা অকার্যকর প্রমাণিত হয়েছিল। পরে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে কর্তৃপক্ষ তাড়াহুড়া করে নতুন ওষুধ এনে মশক নিধন কার্যক্রম জোরেশোরে শুরু করে। এ প্রসঙ্গে বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিরা জানান, সিটি করপোরেশন মশা নিয়ন্ত্রণে যে ব্যবস্থা নিচ্ছে সেটা অকার্যকর। মিডিয়ায় খবর এসেছে যে ওষুধগুলো দেয়া হচ্ছে, সে ওষুধগুলোর কার্যকারিতা নেই। তারপরও সে ওষুধগুলো তারা ছিটাচ্ছে। এখানে বিশাল অঙ্কের অর্থনৈতিক সংশ্লিষ্টতা আছে। এগুলো চলেই যাচ্ছে। যারা এ কাজগুলো করছে তাদের বিরুদ্ধে সিটি করপোরেশন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।
কয়েক বছর ধরে গবেষণা চলছে ঘাতক মশা নির্মূল করার জন্য। মশার জিন বদলে দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন বিজ্ঞানীরা। মশারা এমন জিন পাবে, যে জিনের কারণে জন্ম দেবে বন্ধ্যা সন্তান, বন্ধ্যা সন্তান জন্মাবে, কিন্তু আর কোনও সন্তান তারা জন্ম দিতে পারবে না। এভাবেই, সম্ভবত একমাত্র এভাবেই বিলুপ্ত করা সম্ভব মশা নামের প্রজাতিকে। তবে নগরবাসীকে বুঝতে হবে মশক নিধন, মশার জন্ম ও বংশবৃদ্ধি নিরোধ, মশার কামড় থেকে বাঁচা-এর কোনোটির জন্যই প্রযুক্তির তেমন প্রয়োজন নেই। প্রয়োজন জনসচেতনতা। এই সচেতনতা আমাদের বাড়াতে হবে। তবু বলতে চাই, সিটি কর্পোরেশনকে এ ব্যাপারে পূর্ণাঙ্গ দায়িত্ব নিতে হবে। শুধু মুখের কথায় কাজ হবে না। নগরবাসী মশক নিধনে কাজ দেখতে চায়। মশার উপদ্রব বন্ধে নাগরিকদের সহায়তা নিয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। এ পদক্ষেপের ফলেই মশার উপদ্রব দূর হবে বলে আমরা মনে করি।

x