মরদেহ কবরস্থান গেল ভেলায় চড়ে

রাবারড্যামের কারণে নিচু এলাকা প্লাবিত

সুনীল বড়ুয়া, রামু (কক্সবাজার)

সোমবার , ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ at ৮:৪৭ অপরাহ্ণ
793
সরাসরি যোগাযোগের সড়ক না থাকায় কলাগাছের ভেলায় চড়ে কবরস্থানে নিয়ে যেতে হলো মৃত ব্যক্তির মরদেহ। ছোট্ট একটি সেতুর অভাবে এ ঘটনা ঘটেছে কক্সবাজারের রামু উপজেলার মনিরঝিলের সোনাইছড়ি গ্রামে।
প্রায় দুই সপ্তাহ আগে ওই এলাকার বাসিন্দা জনৈক মনির আহম্মদের বার্ধক্যজনিত কারণে মৃত্যু হলে সেতু না থাকায় তার মরদেহটি মনিরঝিল বড় কবরস্থানে নিয়ে যেতে চরম দুর্ভোগে পড়েন গ্রামবাসী ও স্বজনেরা। পরে বাধ্য হয়ে গ্রামবাসী কলা গাছের ভেলা বানিয়ে মরদেহটি ভেলায় করে কবরস্থানে নিয়ে যান।
আজ সোমবার (১১ ফেব্রুয়ারি) এ ছবিটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. আব্দুল মালেক জানান, বার্ধক্যজনিত কারণে রামুর কাউয়ারখোপ ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মনিরঝিল সোনাইছড়ি গ্রামের বাসিন্দা মনির আহম্মদ মারা যান (৮৫) যান গত ২৫ জানুয়ারি। কিন্তু তাদের কবরস্থানটি অবস্থিত দুই কিলোমিটার দূরে মনিরঝিল গ্রামে।
সম্প্রতি চাষাবাদের জন্য সোনাইছড়ি খালে রাবার ড্যামের মাধ্যমে পানি আটকানোর কারণে পানি ফুলে আশপাশের নিচু এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এতে রাস্তাটির উপর জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হলে মরদেহ নিয়ে বিপাকে পড়েন গ্রামবাসী। পরে বাধ্য হয়ে ভেলায় করে মরদেহটি পার করিয়ে করবস্থানে নিয়ে যেতে হয়।
স্থানীয়রা জানান, মাঝখানে বাঁকখালী নদীর অবস্থানের কারণে মনিরঝিল গ্রামটি উপজেলা এবং ইউনিয়ন সদর থেকে বিচ্ছিন্ন। এছাড়াও বিচ্ছিন্ন এ গ্রামটির অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থাও খুব অনুন্নত। এ কারণে দীর্ঘদিন ধরে মনিরঝিল-সোনাইছড়ি সড়কের ওইস্থানে এলাকাবাসী একটি সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছিল। এ দাবির প্রেক্ষিতে একটি সেতু নির্মাণের কাজ শুরু করা হলেও বর্তমানে কাজ বন্ধ রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি জানান, স্বাধীনতার ৪৭টি বছর পরেও ভেলায় করে মরদেহ পার করাতে হচ্ছে। বিষয়টি আমাদের জন্য খুবই দুঃখজনক। তাহলে চির অবহেলিত মনিরঝিলবাসীর দুঃখ ঘুচবে কবে?
তবে স্থানীয় কাউয়ারখোপ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তাক আহম্মদ  জানান, যেখানে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে ওই স্থানটি মূলত একটি ছড়া। এইস্থানে শুধু একটি মাত্র বাড়ি আছে। তাই ওইস্থানে ব্রিজ বা কালভার্ট নির্মাণের কোনো প্রয়োজনীয়তা নেই।
মূলত চাষাবাদের জন্য পাশের সোনাইছড়ি খালের উপর স্থাপিত রাবারড্যামে পানি আটকানোর কারণে পানি ফুলে সাময়িক অসুবিধার সৃষ্টি হয়েছে। সপ্তাহ-দেড়েকের মধ্যে পানি কমে গেলে এ সমস্যা আর থাকবে না। তাছাড়া ওই স্থানের ১৫০-২০০ গজ দূরে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের অর্থায়নে প্রায় ৩৪ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি ব্রিজ নির্মাণ করা হচ্ছে। বর্তমানে ৮০ভাগ কাজ শেষ হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘রাবারড্যামের পানি বেড়ে যাওয়ায় নির্মাণাধীন ব্রিজটি এখন পানির নিচে। িএ কারণে গত দুই সপ্তাহ ধরে কাজ বন্ধ রয়েছে। সপ্তাহ-দুই সপ্তাহ পর পানি কমে গেলে আবার কাজ শুরু করা হবে। ব্রিজের নির্মাণ কাজ শেষ হলে যাতায়াতে ওই এলাকার মানুষের আর দুর্ভোগ থাকবে না।‘
তাছাড়া এই কাজটি সাব-কন্ট্রাক্টে তিনি নিজেই বাস্তবায়ন করছেন বলে জানান।
x