মনোনয়ন পত্র ক্রয়ের শেষ দিনে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অভিযোগ

সিজেকেএস নির্বাচনে রেকর্ড ৮৯টি মনোনয়ন পত্র বিক্রি

ক্রীড়া প্রতিবেদক

মঙ্গলবার , ৩ ডিসেম্বর, ২০১৯ at ৫:২১ পূর্বাহ্ণ
66

বেশ উৎসাহ আর উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে গতকাল শেষ হয়েছে চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার নির্বাচনের মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ। গতকাল রেকর্ড সংখ্যক মনোনয়ন পত্র বিক্রয় হয়েছে। যা চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার নির্বাচনে এর আগে কখনোই হয়নি। তবে গতকাল মনোনয়ন পত্র বিক্রির একেবারে শেষ সময়ে এসে দেখা গেল বেশ কয়েকজনের নামে সদস্য পদের জন্য মনোনয়ন পত্র ক্রয় করা হয়েছে। পরে নানা জনের সাথে কথা বলে যেটা জানা গেল তা হচ্ছে, একজনের কাছে খবর দেওয়া হয়েছে সিটি মেয়র নাকি বলেছেন সংস্থার বর্তমান নির্বাহী কমিটির যেসব সদস্য অন্যান্য পদে মনোনয়ন পত্র নিয়েছেন অথচ সদস্য পদে মনোনয়ন পত্র নেননি তাদের নামে সদস্য পদে ফরম নিতে বলেছেন। তবে গতরাতে সিটি মেয়র আ.জ.ম. নাছির উদ্দীন আজাদীকে বলেছেন তিনি গতকাল শুধু নয়, এই নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরুর পর থেকে গতকাল পর্যন্ত কাউকে কোন পদে ফরম নিতেও বলেননি আবার না নিতেও বলেননি। যদি কেউ এ ধরনের কথা প্রচার করে থাকে তাহলে সেটা ঘৃনিত কাজ করেছে তারা। এ সব বিষয়ে তিনি কোনভাবেই জড়িত নন। তিনি গতকালও বেশ দৃঢ়তার সাথে বলেছেন সিজেকেএস নির্বাচন নিয়ে তিনি মোটেও মাথা ঘামাবেন না। তিনি বলেন গতকালও অনেকেই আমার কাছে এসেছেন। ফরম নেওয়ার আগেও অনেকেই এসেছেন আবার ফরম নেওয়ার পরও অনেকেই এসেছেন। আমি তাদের সবাইকে বলেছি আমি কোন কিছু করব না। গতকালও নাকি অনেকেই বলেছেন তাকে বসে একটা কিছু করার জন্য। কিন্তু তিনি তার সিদ্ধান্তে অনড়। তিনি বলেন আমি কোন বিষয়ে মাথা ঘামাবো না । তিনি বলেন, গতকাল যারা আমার অফিসে এসেছে আমি তাদের বলেছি আপনারা মিলে যদি কিছু করতে পারেন তাহলে করেন। আমি কোন কিছু করবনা। কারন আমি কার বিরাগভাজন হবো। আর আমার নাম ভাঙ্গিয়ে যদি কেউ কিছু করতে চায় তাহলে তারা নিজেদের স্বার্থ সিদ্ধির জন্য করবে। আমি এ সবের সাথে কোন ভাবেই জড়িত নই। তিনি বলেন কেউ কেউ আমার কাছে এসে ফরম দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। আমি তাদের বলেছি আমার কাছে ফরম দিয়ে কোন লাভ নেই। এখানে আমার করার কিছু নেই। আপনারা করে আসতে পারলে আসেন। শুধু তাই নয়, অনেকেই গিয়ে নাকি বলছেন সাধারন সম্পাদক পদের জন্য আ.জ.ম. নাছির উদ্দীনের ফরমটা তারা নেবেন। এমন লোকের সংখ্যাও নাকি কম নয়। সেখানেও রীতিমত চলেছে প্রতিযোগিতা।
গতকাল জেলা ক্রীড়া সংস্থার এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন এই নির্বাচন নিয়ে যখন সবার মাঝে উৎসবের আমেজ সৃষ্টি হয়েছে ঠিক তখনই একটি কুচক্রি মহল এই উৎসবটাকে নষ্ট করে দেওয়ার অপচেষ্টা করছে। তারা নানাভাবে দৌড়ঝাপ করছে। তাদের লক্ষ্য একটাই। আর সেটা হচ্ছে সিটি মেয়রের কাধে ভর দিয়ে অযোগ্যদের আবার সিজেকেএস এর কমিটিতে নিয়ে আসা। এই কর্মকর্তা বলেন আমরা সবাই নির্বাচন করতে মুখিয়ে আছি। কাউন্সিলররা যদি আমাদের ভোট না দেন তাহলে আমরা সান্ত্বনা খুঁজে নিতে পারব। আর যদি কুচক্রি মহলের প্ররোচনায় আবারো অযোগ্যরা কমিটিতে চলে আসে তাহলে সেটা হবে অত্যন্ত দুর্ভাগ্য এবং হতাশার। একই সাথে লজ্জারও। গতকাল রাতেও সিটি মেয়র পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন তিনি কারো দায়িত্ব আর কাধে নিতে চাননা। তিনি নির্বাচনের সৌন্দর্য দেখতে চান।
আগেরদিন ১৩ জন প্রার্থী দুটি পদের জন্য মনোনয়ন পত্র ক্রয় করেছিলেন। আর গতকাল রেকর্ড পরিমাণ মনোনয়ন পত্র বিক্রি হয়েছে। গতকাল বিকেলে চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার বর্তমান সাধারন সম্পাদক আ.জ.ম. নাছির উদ্দীনের নামে সাধারন সম্পাদক পদের জন্য মনোনয়ন পত্রটি সংগ্রহ করেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সহ সভাপতি আলহাজ্ব আলী আব্বাস এবং চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার সহ সভাপতি হাফিজুর রহমান। এ সময় চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থা এবং চট্টগ্রাম বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সাধারন সম্পাদক পদে মনোনয়ন পত্র কিনেছেন বর্তমান সহ সভাপতি হাফিজুর রহমানও। তিনি আবার সহ সভাপতি এবং নির্বাহী সদস্য পদেও মনোনয়ন পত্র কিনেছেন। তিনটি ফরমই তিনি দিয়ে এসেছেন সিটি মেয়রের হাতে। সে সাথে বলে এসেছেন আপনি আমাকে কোন পদে রাখবেন সেটা আপনার ব্যাপার।
গতকাল মনোনয়ন পত্র সংগ্রহের শেষ দিনে সহ সভাপতি পদে মনোনয়ন কিনেছেন ১৫ জন। তারা হলেন সবুক্তগীন সিদ্দিকী মক্কী, দিদারুল আলম চৌধুরী, মোজাম্মেল হক, ডেরিক রেন্ডলফ, মশিউর রহমান চৌধুরী, এডভোকেট শাহীণ আফতাবুর রেজা চৌধুরী, মফিজুর রহমান, এ কে এম এহেছানুল হায়দর চৌধুরী বাবুল, মো. হাফিজুর রহমান, আবুল হাশেম, মো. শাহজাদা আলম, সৈয়দ শাহাবুৃদ্দিন শামীম, ইয়াছিন চৌধুরী, সৈয়দ আবুল বশর, এস এম শহীদুল ইসলাম।
অতিরিক্ত সাধারন সম্পাদক পদে মনোনয়ন পত্র ক্রয় করেছেন ৮ জন। তারা হলেন এস এম শহীদুল ইসলাম, আবদুল মান্নান রানা, সৈয়দ শাহাবুৃদ্দিন শামীম, এস এম শহীদুল ইসলাম, তাহের উল আলম চৌধুরী স্বপন, আমিনুল ইসলাম, ইয়াছিন চৌধুরী, সৈয়দ আবুল বশর। যুগ্ম সম্পাদক পদে মনোনয়ন পত্র ক্রয় করেছেন ১০ জন। তারা হলেন রাশেদুল আলম, আ.ন.ম. ওয়াহিদ দুলাল, তাহের উল আলম চৌধুরী স্বপন, মশিউর রহমান চৌধুরী, আমিনুল ইসলাম, অহীদ সিরাজ চৌধুরী স্বপন, মো. শাহজাদা আলম, মোহাম্মদ ইউসুফ, ইয়াছিন চৌধুরী, সৈয়দ আবুল বশর। কোষাধ্যক্ষ পদে মনোনয়ন পত্র ক্রয় করেছেন ৫ জন। তারা হলেন: রাশেদুল আলম, শাহাবুদ্দিন মো. জাহাঙ্গীর, আ. ন. ম. ওয়াহিদ দুলাল, সবুক্তগীন সিদ্দিকী মক্কী এবং শাহজাদা আলম।
গতকাল শেষ দিন পর্যন্ত ৪৯ জন নির্বাহি সদস্য পদের জন্য মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করেছেন। এদের মধ্যে আবার কেউ কেউ নির্বাহি সদস্য পদের জন্য মনোনয়ন পত্র নেননি বলে জানিয়েছেন। তবে তাদের নামে কারা এই সদস্য পদের ফরম ক্রয় করেছেন সেটাও তারা জানে না। যে ৪৯ জন নির্বাহি সদস্য পদের জন্য মনোনয়ন পত্র ক্রয় করেছেন বলে হিসেব পাওয়া গেছে তাদের মধ্যে রয়েছে নাসির মিয়া, প্রবীন কুমার ঘোষ, চন্দন ধর, লুৎফুল করিম সোহেল, জহির আহমেদ চৌধুরী, এস এম সাইফুদ্দিন, আবু হেনা মোস্তফা কামাল টুলু, হারুন আল রশিদ, প্রদীপ কুমার ভট্টচার্য, তনিমা পারভীন, মো. শাহজাহান, রেজিয়া বেগম ছবি, রেখা আলম চৌধুরী, আনজুমান আরা বেগম, রাশেদুল আলম, এনামুল হক, মকসুদুর রহমান বুলবুল, নিয়াজ মোরশেদ এলিট, রাশেদুর রহমান মিলন, শওকত হোসাইন, রায়হান উদ্দিন রুবেল, জমির উদ্দিন বুলু, এহেছানুল হায়দর চৌধুরী বাবুল, আবদুল বাসেত, জাহেদুল ইসলাম, হাফিজুর রহমান, আবুল হাশেম, এ এস এম সাইফুদ্দিন, এম এ মুছা বাবলু, আবদুল হান্নান আকবর, গোলাম মহিউদ্দিন হাসান, হাসান মুরাদ বিপ্লব, মোহাম্মদ ইউসুফ, এরশাদ আলি খান ভুট্টো, দিদারুল আলম, অহীদ সিরাজ চৌধুরী স্বপন, লোকমান হাকিম মো. ইব্রাহিম, সৈয়দ আবুল বশর, সুমন দে, দিদারুল আলম চৌধুরী, মোজাম্মেল হক, সবুক্তগীন সিদ্দিকী মক্কী, তাহের উল আলম আল চৌধুরী স্বপন, এস এম শহীদুল ইসলাম, আ.ন.ম. ওয়াহিদ দুলাল, মশিউর রহমান চৌধুরী, শাহজাদা আলম, এডভোকেট শাহীন আফতাবুর রেজা চৌধুরী, মো. ইয়াছিন চৌধুরী।
গতকাল এদের মধ্যে অন্তত দশজন জানিয়েছেন তারা নির্বাহি সদস্য পদের জন্য মনোনয়ন পত্র ক্রয় করেননি। তাদের নামে কারা এই ফরম সংগ্রহ করেছেন সেটাও জানেন না তারা। এবারের সিজেকেএস নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যেখানে কাউন্সিলরদের মাঝে উৎসবের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে সেখানে একটি কুচক্রী মহল নির্বাচনী কার্যক্রমের শুরুতেই নানাভাবে এই নির্বাচনী আমেজকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করে ফায়দা লুটার চেষ্টা করছেন। আর তারই প্রথম পদক্ষেপ এই ফরম কারসাজি বলে মনে করছেন যাদের নামে ফরম নেওয়া হয়েছে তারা। গতকাল একাধিক নির্বাচন প্রত্যাশি বললেন নানা ভাবে একটি চক্র যারা ভোট এলে সক্রিয় হয়ে উঠে তারা এই সুন্দর পরিবেশটা নষ্ট করে আরো একবার অযোগ্যদের সিটি মেয়রের কাঁধে ভর করে পার করানোর চেষ্টা করছেন। তাদের এই ফরম নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর বিষয়টি রুখে দাঁড়ানোর আহবান জানানো হয় কাউন্সিলরদের প্রতি। একই সাথে সিটি মেয়রের নাম ভেঙ্গে যারা এমন ঘৃন্য কাজ করেছেন তাদের প্রতি সজাগ থাকার জন্য সিটি মেয়রের প্রতিও আহবান জানান তারা। কারন সবাই চাইছে এখন একটি উৎসব মুখর নির্বাচন।

x