মনে রাখতে হবে দেশের মানুষ কিন্তু ভোটার

এমপিদের প্রধানমন্ত্রী

শুক্রবার , ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ at ৭:৪৫ পূর্বাহ্ণ
535

সংসদ সদস্যদের নিজেদের এলাকার উন্নয়নে মনোযোগী হতে নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশের মানুষ ভোটার-সে কথা সবাইকে মনে রাখতে হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে একাদশ জাতীয় সংসদের চতুর্থ অধিবেশনের সমাপনী ভাষণে সাংসদদের এই দিক নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমি সংসদ সদস্যদের বলব, নিজ নিজ এলাকায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন প্রকল্প দেওয়া হয়েছে, উন্নয়নের কাজ দেওয়া হয়েছে। প্রত্যেকে যদি নিজেরা একটু দেখেন সেই কাজগুলো সঠিকভাবে হচ্ছে কি না। একটু নজর দেওয়া দরকার। আপনারা সেগুলো ভালোভাবে দেখবেন। তাহলে দেখবেন আপনাদের কাজগুলো সুচারুভাবে হচ্ছে, সুষ্ঠুভাবে হচ্ছে, আর দেশের উন্নয়নটাও ত্বরান্বিত হচ্ছে। একটা কথা মনে রাখতে হবে, দেশের মানুষ কিন্তু ভোটার। কাজেই তাদের মঙ্গল করা প্রত্যেকটা সংসদ সদস্যের দায়িত্ব।’ খবর বিডিনিউজের।
বক্তব্যের শুরুতে জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের ‘সরব উপস্থিতি’ থাকায় ধন্যবাদ জানান সংসদ নেতা শেখ হাসিনা। গত এক দশকে বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়িয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘আন্তরিকতা নিয়ে দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে কাজ করে যাচ্ছি। শুধু দেশের মানুষকে অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধশালী করা না, তারা যেন যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে পারে সেজন্যও আমরা কাজ করছি। ইতোমধ্যে আমাদের রপ্তানি বৃদ্ধি পেয়েছে। আমরা ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছি। এই এগিয়ে যাওয়ার গতিটা আমাদের ধরে রাখতে হবে।’
বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নে আওয়ামী লীগ সরকারের সফলতা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিদ্যুতের একটা দুরবস্থা ছিল। ১৬০০ মেগাওয়াট দিয়ে যাত্রা শুরু। প্রথম ধাপে ৪ হাজার ৩০০ করলাম। দ্বিতীয়বার সরকারে এসে দেখলাম সেটা কমে ৩ হাজার ২০০। এখন ২২ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমরা উৎপাদন করছি। আমরা যেমন বিদ্যুত উৎপাদন করছি তেমনি সঞ্চালন লাইনও তৈরি করে দিচ্ছি।’
বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদকারীদের সমালোচনাও করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘এক কিলোওয়ট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে যেখানে ২৬ টাকা আমাদের খরচ হয় সেখানে আমরা নিয়েছি ৩ টাকা কি ৪ টাকা। তাহলে দামটা বাড়ল কোথায়?’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘গ্যাসের যখন সমস্যা হলো আমরা এলএনজি আমদানি করছি। এলএনজি আমদানি করে আমরা যদি সঠিকভাবে বিতরণ করি তার দাম পড়ে ৬০ টাকা। আমরা নিচ্ছি মাত্র ১২ টাকা। আমরা ভর্তুকি দিচ্ছি। সমস্ত ট্যাঙ ফ্রি করে দিচ্ছি। বিদ্যুৎ উৎপাদন বেশি টাকায় করে ভর্তুকি দিয়ে কম দামে দেওয়ার পরও যদি কেউ বলে দাম কেন বাড়ানো হল তাহলে বিদ্যুতের দরকার নেই, উৎপাদন করব না। বন্ধ করে দেই সব। এরপরও যদি এই কথা আসে তাহলে তো আর বিদ্যুৎ ব্যবহার করার দরকার নেই। তাহলে যেটা খরচ হবে সেই দামেই বিদ্যুৎ কিনতে হবে। লাভ করতে চাই না, অন্তত খরচের টাকাটা তো পেতে হবে।’
বিদ্যুতের ঘাটতির সময় কলকারখানা চালাতে জেনারেটর ব্যবহার করা হত এবং তাতে খরচ বেশি হত, সে কথা স্মরণ করিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘তাহলে দামটা দিতে আপত্তি কেন? দাম বাড়ানো নিয়ে আন্দোলন কেন?’
বক্তব্যে বিগত বছরগুলোতে যেসব রাজনৈতিক সংকট মোকাবেলা করতে হয়েছে, সে বিষয়গুলো নিয়েও কথা বলেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘আমাদের চলার পথ কি খুব মসৃণ ছিল? মসৃন তো ছিল না। সেখানে অগ্নিসন্ত্রাস, মানুষ খুন করা, জীবন্ত মানুষকে পুড়িয়ে পুড়িয়ে মারা, বিআরটিসির বাস পুড়িয়ে দেওয়া, রেল পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। আমাদের পার্লামেন্টে একজন সংসদ সদস্যও আছেন, তার পুরো মুখে পোড়া দাগ। আর অত্যাচার-নির্যাতন এখন যারা বিরোধী দলে আছেন তারাও যেমন বিএনপি-জামাত দ্বারা নির্যাতিত, নিগৃহীত, আমরাও তাদের দ্বারা নির্যাতিত হয়েছি। সেই তুলনায় আমরা তো তাদের কিছুই করছি না। কারণ আমরা দেশ গড়ার কাজে ব্যস্ত।’
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ঢাকার দুই মেয়রের কর্মতৎপরতার বিবরণ দিতে গিয়ে এই কার্যক্রমে নেমে ঢাকা উত্তরের মেয়র আতিকুল ইসলামের পড়ে পা ভাঙার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘এডিস মশার প্রজনন কীভাবে বন্ধ করা যায় এবং কীভাবে লার্ভার উৎপাদন বন্ধ করা যায় সে দিকে নজর দেওয়া হচ্ছে। দক্ষিণের মেয়র সিঙ্গাপুরে গিয়ে দেখে এসেছে। আর উত্তরের মেয়র বেচারা, ঘরে ঘরে কোথায় এই ধরনের ময়লা আবর্জনা আছে কি না দেখতে গিয়ে আছাড় খেয়ে পড়ে গিয়ে তার পা টাই ভেঙে গেছে।’

x