(মনস্তাপ)

নাসরিন জাহান মাধুরী

শুক্রবার , ২ আগস্ট, ২০১৯ at ৩:৫৪ পূর্বাহ্ণ
60

: দূর থেকে এইসব বর্বরতাগুলো দেখে মন্তব্য করি, ধিক্কার জানাই। তাতে কি আসে যায় সেই নারীর কিংবা পুরুষের অথবা ধরে নিই সেই মানুষের। সেতো চলেই গেলো, তারো বাঁচার অধিকার ছিলো। আমাদের কুম্ভিরাশ্রচ বর্ষণে তার আর কিছু যায় আসে না। “জেনে কিবা প্রয়োজন/ অনেক দূরের বন/ রাঙা হলো কুসুমে/ কি বহ্নিতাপে!” হ্যাঁ, আমাদের ভাবনাগুলো এমনি, যতক্ষণ না নিজের পিঠে আগুনের আঁচটা না লাগবে ততক্ষণ আমরা সাধারণ দর্শক। নির্বিকার দাঁড়িয়ে দেখি নৃশংস হত্যাকাণ্ড ভিডিও করি নির্লিপ্ততায়। বেশ আনন্দ হয় এমন অভাবনীয় দৃশ্যের ভিডিও করছি ভেবে। কেউ কেউ তো নিজেই নোংরামি করে ভিডিও করার সুযোগ করে দেয়। নিজের প্রচার আর প্রসারের উদ্দেশে।এসবে কিছু যায় আসে না সমাজের। একটা মাকে নির্লজ্জের মতো কুপিয়ে মেরে ফেলে যখন তখন বিবেক বাবুরা নাকে তেল দিয়ে ঘুমান, আর একটা মেয়ে ফেসবুকে নিজের টাইম লাইনে ছবি আপলোড করলে ঐ বিবেক বাবুরাই বলেন তুই একটা নষ্টা মেয়ে। নিজেকে বিকানোর জন্য ছবি দিলি। আরে, নষ্ট তো তোদের চোখ, তোদের বিবেক, তোদের চিন্তা চেতনা। আমরা সোচ্চার হই, হ্যাঁ আমরা সোচ্চার হই নিজের মেয়েটির গায়ে আঁচ লাগলে, আর পাশের বাড়ির মেয়েটি যদি মরেও যায় নৃশংস অত্যাচারে। দোষ খুঁজি মেয়েটির চরিত্রের। এরা কারা! এরা আছে আমাদের আশেপাশে, মিশে আছে ভিড়ে ঘাপটি মেরে। সুযোগ পেলেই কুপিয়ে মারবে। ওদের পরবর্তী টার্গেট যে আমি বা আপনি নন তার নিশ্চয়তা কই? একদিন আসবে পালানোর পথ সব বন্ধ হবে, আগুনের গ্রাস থেকে বাঁচতে পারবে না কেউ তখন। দিন বদল হবেই হয়তো, কিন্তু তার জন্য আর কত বিসর্জন! ঐ অসভ্যদের জন্য একটাই কথা অপেক্ষা কর—-“তোমারে বধিবে যে / গোকূলে বাড়িছে সে।”

x