ভয় মাড়িয়ে পতেঙ্গা সৈকতে ভিড়

আজাদী প্রতিবেদন

শনিবার , ৪ মে, ২০১৯ at ৬:৩১ পূর্বাহ্ণ
534

আতংক ছড়িয়ে ভারতের উড়িষ্যায় আঘাত হানলেও ঘূর্ণিঝড় ফণী প্রভাব ফেলতে পারেনি চট্টগ্রামের নাগরিক জীবনে। শুক্রবার বিকেলে নগরীর পতেঙ্গায় গিয়ে দেখা গেছে উৎসুক মানুষের ভিড়। শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়াতে অন্যদিনের চেয়েও বেশি মানুষের উপস্থিতি ছিল পতেঙ্গা সৈকতে। সৈকতে বেড়াতে আসে প্রায় সব বয়সী নারী-পুরুষ। নগরীর বিভিন্ন স্থান থেকে পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব নিয়ে বেড়াতে আসেন দর্শনার্থীরা।
গতকাল বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, পতেঙ্গা সৈকতে অসংখ্য দর্শনার্থী। দূরে কালো মেঘ দেখা গেলেও সৈকতের পানিতে নেমে জলকেলি থেকেও বাদ পড়েনি কেউ কেউ। ঢেউয়ের তালে তালে পানিতে ডুব দিয়ে আনন্দেও মেতেছে তরুণ-যুবারা। অনেকে ঘোড়া ও বিচ বাইকে চড়ে বসেছেন মনের আনন্দে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন বিকেলে স্ত্রী-কন্যাকে নিয়ে বেড়াতে এসেছিলেন পতেঙ্গা সৈকতে। তিনি বলেন, ‘আমরা ঘূর্ণিঝড় ফণী নিয়ে আতংকিত ছিলাম। কিন্তু স্যাটেলাইট চিত্রে এটির গতিপথ দেখে আমরা যারা চট্টগ্রামে আছি, তারা একটু নির্ভারই থাকতে পারি। দুপুর পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ করে আমার একমাত্র মেয়েসহ আমরা এখানে বেড়াতে এসেছি। গত কয়েকদিন তাপমাত্রা বেশি থাকলেও আজকে একটু স্বস্তি মিলছে। আশা করছি ঘূর্ণিঝড় ফণী’র কারণে চট্টগ্রামে তেমন একটা ক্ষয়ক্ষতি হবে না।’ সৈকতে বেড়াতে আসা পোশাককর্মী রওশন আরা বলেন, ‘সপ্তাহের প্রতিদিন কর্মস্থলে কাটাতে হয়। দিনে কোথাও বেড়ানোর সুযোগ হয় না। শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন। তাই বেড়াতে বের হয়েছি। পতেঙ্গা সৈকতকে আগের চেয়ে অনেক সুন্দরভাবে সাজানো হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় ফণী আসলেও অনেক ঝড়-বৃষ্টি হতো। কিন্তু গত কয়েকদিন আমাদের এখানে কোন ঝড়-বাদল হয়নি।’
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী উৎপল নন্দী বেড়াতে এসেছেন আট বন্ধু মিলে। কথা হলে তিনি প্রতিবেদককে বলেন, ‘শুধু আমরা আট বন্ধু কেন, অসংখ্য মানুষ বেড়াতে এসেছে পতেঙ্গা সৈকতে। এখানেতো সবাই আনন্দ করছে। কোথাওতো আতংক দেখছি না।’
তবে সন্ধ্যা ৬ টার কিছু পরে কালো মেঘে আকাশ ঢেকে পড়ে এবং আচমকা প্রচণ্ড বেগে বাতাস বইতে শুরু করলে দর্শনার্থীরা দৌঁড়ে সৈকত ত্যাগ করে। আর দমকা বাতাসের সাথে ঝড়োবৃষ্টির দখলে চলে যায় পতেঙ্গা সৈকত।

x