ভোটার বাড়লে অনিয়মও বাড়ত : ইসি সচিব

সোমবার , ১ এপ্রিল, ২০১৯ at ৬:০৬ পূর্বাহ্ণ

উপজেলা নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি কম হওয়া নিয়ে নির্বাচন কমিশনারদের হতাশা থাকলেও তার একটি ভালো দিক খুঁজে পেয়েছেন ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ। ভোটার উপস্থিতি তুলনামুলক কম হওয়া নিয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেছেন, ভোটার উপস্থিতি বাড়াতে গেলে অনিয়ম বাড়ত। প্রকৃত কত লোক ভোটকেন্দ্রে আসে, সেটাই চেয়েছি। গত ১০ মার্চ প্রথম ধাপ শুরু করে গতকাল রোববার চতুর্থ ধাপে ১০৭ উপজেলায় ভোটগ্রহণ শেষে ঢাকার আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সংবাদ সম্মেলনে এসে একথা বলেন ইসি সচিব। তিনি বলেন, প্রতিটি ধাপে আমরা চেয়েছি ভোট যেন শান্তিপূর্ণ হয়, প্রাণহানি যেন না হয়, অনিয়ম যাতে না হয়। চার ধাপে একজনেরও প্রাণহানির ঘটনা হয়নি। ভোটার উপস্থিতি বাড়ানোর চেয়ে আমরা গুরুত্ব দিয়েছি শান্তিপূর্ণ নির্বাচনে। সামগ্রিকভাবে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হয়েছে। খবর বিডিনিউজের।
বিএনপিসহ অধিকাংশ রাজনৈতিক দলের বর্জনের মধ্যে এবার উপজেলা ভোট জৌলুসহীন হয়ে পড়ে। ৩০টি উপজেলায় একক প্রার্থী থাকায় ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।
চার ধাপের মধ্যে আগের তিনটি ধাপের কোনোটিতেই ভোটের হার ৪৫ শতাংশ ছাড়ায়নি। ভোটকেন্দ্রে ভোটারের খরার জন্য সিইসি কে এম নূরুল হুদাও বিএনপির বর্জনকে দায়ী করে বলেছিলেন, এক্ষেত্রে তারা আর কিইবা করতে পারেন?
উপজেলায় প্রথম ধাপে ৪৩ শতাংশ, দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধাপে ৪১ শতাংশ ভোটার ভোট দিয়েছিলেন। চতুর্থ ধাপেও ভোটের হার এমনই হবে বলে ধারণা ইসি সচিবের। ভোটার উপস্থিতি কম হওয়ার ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, অনেক রাজনৈতিক দল স্থানীয় এ নির্বাচনে অংশ নেয়নি। আবার যারা অংশ নিয়েছে, তাদের স্বতস্ফূর্ততার কারণে এ ভোটের হার হয়েছে। এটা তাদের সমর্থকগোষ্ঠীর ভোট বলা যেতে পারে। যারা ভোট বর্জন করেছে, তারা ভোটে (ভোটকেন্দ্র) যায়নি। আর কেন্দ্রে যারা এসেছে, তারা ভোটে থাকা (আওয়ামী লীগ) দলের সমর্থকগোষ্ঠীর ভোটার। এটাই হতে পারে। আমাদের অনুমান ৪০ শতাংশ ৪১ ভোট পড়েছে, তা একটা দল যে অংশগ্রহণ করেছে, তাদেরই।
চতুর্থ ধাপের পর বিরতি দিয়ে পঞ্চম ধাপে ৩০-৪০টি উপজেলায় ভোট হবে আগামী ১৮ জুন। প্রথম চার ধাপে ৪৬৫ উপজেলায় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হলেও ভোট হয়েছে ৪১৮ টিতে, একক প্রার্থী থাকায় ৩০টি উপজেলায় ভোটের প্রয়োজন পড়েনি। বাকি ১৭ উপজেলার ভোট স্থগিত করা হয়। এর মধ্যে ১০টি আদালতের আদেশে এবং ৭টি ইসির আদেশে স্থগিত হয়েছে। হেলালুদ্দীন বলেন, সামগ্রিকভাবে চার ধাপে শান্তিপূর্ণ ভোট হয়েছে। কমিশন এতে সন্তোষ প্রকাশ করেছে। এবার উপজেলা নির্বাচনের মধ্যে রাঙামাটির বাঘাইছড়িতে দুর্বৃত্তদের হামলায় ভোটগ্রহণকারী সাতজন নিহত হন। তারা তিনটি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ শেষে ফেরার পথে হামলার মুখে পড়েন। এটাকে নির্বাচনী সহিংসতা মানতে নারাজ ইসি সচিব। তার দাবি মতে, পাহাড়ে আঞ্চলিক দলগুলোর বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে।
ইসির যুগ্মসচিব আবুল কাশেম, ফরহাদ আহাম্মদ খান ও এসএম আসাদুজ্জামানকে সঙ্গে নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসা ইসি সচিব বলেন, চতুর্থ ধাপের ভোটে রোববার অনিয়মের কারণে একটি উপজেলায় (তিতাস) স্থগিত করা হয়েছে। সেই সঙ্গে ৫টি উপজেলার ১২টি কেন্দ্রেও ভোট স্থগিত হয়েছে। অনিয়মের জড়িত থাকার অভিযোগে সাতজন ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে জানিয়ে হেলালুদ্দীন বলেন, তাদের তদন্ত সাপেক্ষে সাজা দেওয়া হবে।
মাহবুব তালুকদারের সঙ্গে দ্বিমত সচিবের: নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদারের বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ। গত ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচন ও এবারের উপজেলা নির্বাচনে আইন প্রয়োগে ভিন্নতা দেখার কথা গতকাল বিকালে জানিয়েছিলেন মাহবুব তালুকদার। তিনি বলেছিলেন, উপজেলা নির্বাচনে বিভিন্ন কেন্দ্র বন্ধ করা এবং অনিয়মের জন্য পুলিশ ও অন্যান্য নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে যে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে জাতীয় নির্বাচনের সময় এহেন তৎপরতা দেখা যায়নি কেন? এই জিজ্ঞাসার জবাব খুঁজলে একাদশ জাতীয় নির্বাচনের প্রকৃত স্বরূপটি উদঘাটিত হবে।
সংসদ নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিলেও ভোট ডাকাতির অভিযোগ তুলে ফল প্রত্যাখ্যান করে। তারা পুনর্নির্বাচনের দাবি তুললেও তা নাকচ করে দেন সিইসি।
মাহবুব তালুকদারের বক্তব্যের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে ইসি সচিব বলেন, কড়াকড়ি সব সময় ছিল। সংসদেও কড়াকড়ি ছিল ইসির। সংসদ নির্বাচনে সব দল অংশ নিয়েছে। তখন সেসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল, এখনও তাই নেওয়া হয়েছে। এখন স্থানীয় নির্বাচনে অধিক প্রার্থী থাকায় বেশি সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে।
ইসির কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরে হেলালুদ্দীন বলেন, উপজেলা ভোটকে সামনে রেখে এসপি প্রত্যাহার করা হয়েছে। অতিরিক্ত এসপি ও ওসিকে বরখাস্ত করা হয়েছে। অনেক ইউএনও-ওসিকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
ইভিএমে সফলতার দাবি: উপজেলা ভোটে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে সফল হয়েছে বলে দাবি করেন সচিব হেলালুদ্দীন। তবে ইন্টারনেটের ধীরগতির কারণে ফলাফল সংগ্রহে দেরির বিষয়টি স্বীকার করেন তিনি। তৃতীয় ধাপে চারটি ও চতুর্থ ধাপে ছয়টি উপজেলায় ইভিএম ব্যবহার হয়। সংসদ নির্বাচনেও ইন্টারনেটের গতি কম থাকায় ফলাফল প্রকাশে দেরি হয়েছিল।

x